জানা আছে কি নিয়মিত ৪ টে করে কারি পাতা খাওয়ার পরামর্শ কেন দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

রোজের ডায়েটে মাত্র চারটে কারি পাতাকে জায়গা করে দিলে শরীরের অন্দরে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবাক, আয়রন,ম্যাগনেসিয়াম, কপার এবং আরও বেশ কিছু খনিজের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

পশ্চিমী দেশে হওয়া বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে রোজের ডায়েটে মাত্র চারটে কারি পাতাকে জায়গা করে দিলে শরীরের অন্দরে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবাক, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন,ম্যাগনেসিয়াম, কপার এবং আরও বেশ কিছু খনিজের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে যে এই সব খনিজ এবং পুষ্টিকর উপাদানগুলি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র দেহের অন্দরে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের মেরে ফলে। ফলে নানাবিধ শারীরিক উপকার মিলতে সময় লাগে না। যেমন ধরুন...

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু! শরীরের ইতিউতি জমে থাকা অতিরিক্তি মেদকে ঝড়িয়ে ফলতে বাস্তবিকই কারি পাতার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে উপস্থিত ফাইবার এবং আরও সব উপকারি উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। আর একবার হজম প্রক্রিয়া ঠিক মতো হতে থাকলে ওজন কমার প্রক্রিয়াও যে ত্বরান্বিত হয়, তা তো বলাই বাহুল্য!

২. দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটে:

২. দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটে:

যারা প্রতিদিন কম করে ৮ ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করুন, তারা নিয়মিত কারি পাতা খেতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই পাতাটির অন্দরে উপস্থিত ভিটামিন এ, দৃষ্টি শক্তির উন্নতিতে যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি নানাবিধ চোখের রোগকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

৩. লিভার চাঙ্গা হয়ে ওঠে:

৩. লিভার চাঙ্গা হয়ে ওঠে:

প্রায় প্রতিদিনই কি অ্যালকোহল সেবন করেন? তাহলে তো নিয়মিত কারি পাতা খাওয়াও মাস্ট! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং ক্ষতিকর টক্সিনের হাত থেকে লিভারকে রক্ষা করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে লিভারের উপর অ্যালকোহলের কুপ্রভাবও পরে কম। এখন প্রশ্ন হল, লিভারের উপকারে কিভাবে খেতে হবে কারি পাতা? এক্ষেত্রে এক কাপ কারি পাতার রসে এক চামচ ঘি, অল্প পরিমাণে চিনি এবং গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

৪.রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:

৪.রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:

খাবারে দিয়ে প্রতিদিন কারি পাতা খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক লেভেলের উপরে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এখানেই শেষ নয়, কারি পাতায় উপস্থিত ফাইবারও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়:

৫. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়:

আমাদের দেশে যেহারে ক্যান্সার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে কারি পাতার খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কারি পাতায় উপস্থিত ফেনলস নামক একটি উপাদান, লিউকোমিয়া এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, একদল জাপানি বিজ্ঞানী সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় দেখা গেছে কারি পাতায় উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালোয়েড নামক একটি উপাদানও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি মেটে :

৬. লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি মেটে :

ফলিক এবং আয়রনে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর লহিত রক্ত কনিকার মাত্রা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগ বেশিদিন দাপাদাপি করার সুযোগই পায় না। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে একটা খেজুরের সঙ্গে ২ টো কারি পাতা খেলেই উপকার মেলে।

৭. হার্টের শক্তি বৃদ্ধি পায়:

৭. হার্টের শক্তি বৃদ্ধি পায়:

কারি পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার খারপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চলে এলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জার্নাল অব চাইনিজ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে কারি পাতা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা তো কমেই, সেই সঙ্গে ভাল কোলেস্টরলের পরিমাণও বাড়তে শুরু করে। ফলে হার্টের কর্মক্ষমতার উন্নতি ঘটে।

৮. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়:

৮. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়:

এই উপাদানটির মাত্রা শরীরে যত বাড়তে শুরু করে, তত একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়। তাই সুস্থ শরীরের স্বপ্ন পূরণ করতে নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে প্রচুর মাত্রায় মজুত রয়েছে এই উপাদানটি, যা নিমেষে দেহের অন্দরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৯. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পুঁথিতে উল্লেখ পাওয়া যায়, কারি পাতায় উপস্থিত ল্যাক্সেটিভ প্রপাটিজ শুধু যে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়, তা নয়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদনদেরও বার করে দেয়। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে। তাই যারা প্রায়শয়ই বদ-হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের কারি পাতাকে সঙ্গী বানানো মাস্ট!

১০. পেট খারাপের চিকিৎসায় কাজে আসে:

১০. পেট খারাপের চিকিৎসায় কাজে আসে:

সকাল-বিকাল বাইরে খাওয়ার অভ্যাস আছে নাকি? তাহলে তো বন্ধু পেটকে ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত কারি পাতাও থাওয়া উচিত। কেন এমন উপদেশ দেওয়া হচ্ছে, তাই ভাবছেন নিশ্চয়? আসলে নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়ার প্রকোপ কমাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে কারি পাতার অন্দরে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১১. নানাবিধ স্কিন ডিজিজের প্রকোপ কমায়:

১১. নানাবিধ স্কিন ডিজিজের প্রকোপ কমায়:

শুনে অবাক হচ্ছেন? হবেন না! কারণ কারি পাতায় উপস্থিত শক্তাশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রপাটিজ যে কোনও ধরনের স্কিন ইনফেকশন কামতে দারুন কাজে লাগে।

Story first published: Friday, October 12, 2018, 16:37 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion