ডায়াবেটিকরা কি কলা খেতে পারবেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

রক্তে সুগারের মাত্রা বিদ্রোহ করেছে, এদিকে আপনার মন ছুক ছুক করছে কলা খাওয়ার জন্য। আচ্ছা এমন পরিস্থিতিতে কি করণীয় জানা আছে কি?

নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ এই ফলটি খাওয়া নাকি সুগার রোগীদের কাছে বিষ খাওয়ার সমান। তাই এমন পরিস্থিতিতে কলা নৈব নৈব চ! কিন্তু বিজ্ঞান যে অন্য কথা বলছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কলাতে কার্বোহাইট্রেট আছে ঠিকই। কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাশিয়াম। আর যেমনটা আপনাদের জানা আছে, এই উপাদানগুলি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই সব শেষে একথা বলতেই হয় যে ডায়াবেটিকরা নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে হওয়া এক স্টাডি অনুসারে নিয়মিত কলা খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় সাগে না। তবে এক্ষেত্রে কতগুলি বিষয় খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। যেমন- ডায়াবেটিস রোগীরা ভুলেও কলা দিয়ে বানানো কোনও ডেজার্ট খাবেন না, বেশি মাত্রায় পেকে গেছে এমন কলাও না খাওয়াই ভাল এবং যতই ক্ষিদে লাগুক না কেন প্রচুর পরিমাণে কলা খাওয়া কোনও মতেই চলবে না।

প্রসঙ্গত, ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে এবং একাধিক রোগকে দূরে রাখতে এই ফলটি আরও নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। যেমন ধরুন...

১. পুষ্টির ঘাটতি দূর করে:

১. পুষ্টির ঘাটতি দূর করে:

শরীরকে সচল রাখতে যে যে উপাদানগুলির প্রয়োজন পরে, তার বেশিরভাগই মজুত রয়েছে এই ফলে। যেমন প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় কম বেশি ০.৩ গ্রাম ফ্যাট, ১ এমজি নুন, ৩৬০ এম জি পটাশিয়াম, ২.৬ গ্রাম ডায়াটারি ফাইবার, ১২ গ্রাম চিনি এবং ১.১ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েচে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলেট, রাইবোফ্লবিন এবং ভিটামিন বি৬।

২. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

২. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

হে খাদ্য রসিক বাঙালি গ্যাস-অম্বলের চোটে জীবন কী দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে? তাহলে প্রতিদিন ২-৩ করে কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। কারণ এই ফলটির শরীরে মজুক ফাইবার, পাচক রসের ক্ষরণ এত মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজম হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও দূর হয়। তাই পিকু সিনেমার ভাস্কর ব্যনার্জির মতো আপনারও যদি সকালটা বেজায় কষ্টকর হয়, তাহলে কলার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে দেরি করবেন না যেন!

২. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

২. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে ফাইবার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে কলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার। তাই এই ফলটি রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করলে হার্টকে নিয়ে যে আর কোনও চিন্তা থাকবে না, সে বিষয়ে নিশ্চত করে বলা যেতে পারে। প্রসঙ্গত, করোনারি হার্ট ডিজিজকে দূরে রাখতেও এই ফলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৩.পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করে:

৩.পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করে:

হার্ট বিটকে স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ব্রেনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এই খনিজটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই দেহে কোনওভাবেই যাতে পটাশিয়ামের ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আর এই কাজটি সফলভাবে করতে সাহায্য করতে পারে কলা। কারণ যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে কলায় প্রচুর মাত্রায় থাকে পটাশিয়াম, যা এই খনিজটির দৈনিক চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৪. রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

পরিবারে কি ব্লাড প্রেসারের ইতিহাস রয়েছে? তাহলে বন্ধু আজ থেকেই সকাল বিকাল কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন জীবনে কোনও দিন রক্তচাপ ১৪০-এর উপরে উঠবে না। আসলে এই ফলটির অন্দরে মজুত থাকা পটাশিয়াম দেহের অন্দরে সোডিয়াম বা নুনের মাত্রায় ভারসাম্য নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে ধমনির দেওয়ালের উপরে পরা রক্তের চাপ কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড প্রসোর কমতে শুরু করে।

৫. রক্তাল্পতা দূর করে:

৫. রক্তাল্পতা দূর করে:

আমাদের দেশের সিংহভাগ মহিলার শরীরেই রক্তের অভাব দেখা দিচ্ছে বলে একাধিক রিপোর্টে বাল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কলা খাওয়ার প্রয়োজন যে আরও বাড়ছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আসলে এই ফলটিতে উপস্থিত আয়রন শরীরে প্রবেশ করার পর এত মাত্রায় লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন শুরু করে দেয় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালাতে সময় লাগে না।

৭. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

৭. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

কলায় ফরস্থিত ফাইবার অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিদের জ্বালা মেটাতে বাড়ে বাড়ে খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পরে না। আর খাবার কম খেলে যে ওজন বাড়ার আশঙ্কাও কমে, সে বিষয়ে নিশ্চয় আর আলাদ করে বলে দিতে হবে না। তাই অতিরিক্ত ওজনের কারণে যাদের কপালে পুরু ভাঁজ পরে গেছে, তারা নিয়মিত শরীরচর্চা করার পাশাপাশি যদি কলা খেত পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার মিলতে পারে।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Can Diabetics Eat Bananas? How much sugar does a banana have? Perhaps these are the most frequently asked questions from people who are suffering from diabetes health condition. And the answer is Yes, as long as they are unripe or semi-ripe and you don’t overdo it and eat a whole dozen.
Please Wait while comments are loading...