সাবধান: বার্ড ফ্লউ ভাইরাস থেকে বাঁচবেন কীভাবে জানা আছে?

গত ২৬ ডিসেম্বর এই ভাইরাসের প্রকোপ সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা।

By Nayan

গতকলা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি সারা ভারতবর্ষে দ্রুত ছড়িয়ে পরছে এইচ৫ এন৮ ভাইরাস, যা চলতি ভাষায় বার্ড ফ্লউ ভাইরাস নামে খ্যাত।

গত ২৬ ডিসেম্বর এই ভাইরাসের প্রকোপ সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। তারপর থেকে সংক্রমণে আক্রান্ত মুরগি এবং পাখিদের মেরে ফেলা শুরু হলেও ভাইরাসের প্রসার যে আটকানো সম্ভব হয়নি, তা বর্তমান পরিস্থিতি দেখেই এক প্রকার স্পষ্ট হয়ে যায়। তাই এমন পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব মুরগির মাংস কম খান। সেই সঙ্গে পাখিদের থেকে একটু দূরে থাকুন। না হলে কিন্তু...!

এইচ৫ এন৮ ভাইরাস আক্রমণ করলে সাধারণত যে যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পয়ে থাকে সেগুলি হল- মারাত্মক কাশি, গলায় ব্যথা, পেশীতে যন্ত্রণা, জ্বর, মাথা ঘোরা, বমি, ডায়ারিয়া এবং চোখের সংক্রমণ। এমন লক্ষণগুলি দেখা গেলে যত শীঘ্র সম্ভব চিকিৎসের পরামর্শ নেবেন, না হলে কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তবে এই প্রবন্ধে কতগুলি ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে শরীর ভিতর এবং বাইরে থেকে এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠবে যে ব্লাড ফ্লউ-এর মতো ইনফ্লয়েঞ্জা ভাইরাস ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না দেখবেন!

কী কী ঘরোয়া ঔষধি এক্ষেত্রে দারুন কাজে আসে? এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় পাবেন, তবে তার আগে এইচ৫ এন৮ ভাইরাস কিভাবে এক পাখির শরীর থেকে মানুষের শরীরে পৌঁছে যায়, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা জরুরি, না হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা থেকেই থাবে। সাধারণত এই ইনফ্লয়েঞ্জা ভাইরাস প্রথমে পাখিদের আক্রমণ করে, বিশেষত মুরগি এবং হাঁসেদের। এই ভাইরাসে আক্রান্ত পাখি যদি কোনওভাবে মানুষের সংস্পর্শ আসে, তাহলেই এই ভয়ঙ্কর ভাইরাসটি মানব শরীরে আক্রমণ চালানোর সুযোগ পেয়ে যায়। আর একবার কারও শরীরে এই ভাইরাসটি প্রবেশ করে গেলে তার ঘাম, হাঁচি-কাশি এবং স্পর্শের মাধ্যমে আরও অনেকের শরীরে ছড়িয়ে পরতে সময়ই নেয় না। এই কারণেই তো এমন পরিস্থিতিতে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা শরীরকে বাঁচাতে বিশেষ কিছু খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেমন ধরুন...

১. গ্রিন টি:

১. গ্রিন টি:

যে কোনও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে গেলে প্রথমেই যে কাজটি করতে হয়, তা হল দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে হয়। একবার যদি এই কাজটি করতে পারেন, তাহলে শুধু এইচ৫এন৮ ভাইরাস নয়, কোনও ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়াই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। তাই তো এমন খাবার খেতে হবে যা দ্রুত ইমিউনিটি বাড়তে শুরু করে। আর এক্ষেত্রে গ্রিন টি-এর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানে পরিপূর্ণ এই পানীয়টি নিয়মিত পান করা শুরু করলে শরীরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে বার্ড ফ্লউ ভাইরাস ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

২. সাইট্রাস ফল বেশি করে খেতে হবে :

২. সাইট্রাস ফল বেশি করে খেতে হবে :

পাতি লেবু, কমলা লেবু এবং মৌসাম্বি লেবুকে সাধারণত সাইট্রাস ফল হিসেবে বিবেচিত করা হয়ে থাকে। এই ফলগুলির অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে কোনও ধরনের ভাইরাসের আক্রমণের সামনে পরার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। তাই এমন পরিস্থিতিতে যদি নিজেকে এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের সুস্থ রাখতে চান, তাহলে রোজের ডায়েটে সাইট্রাস ফলের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে ভুলবেন না যেন!

৩. লেবু, মধু এবং গরম জল:

৩. লেবু, মধু এবং গরম জল:

এই তিনটি উপাদান এক সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। কারণ লেবু এবং মধু, এই দুটি উপাদান শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতেও সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, এই পানীয়টি ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেতে খেতে হবে। তাহলেই বেশি উপকার মিলবে।

৪. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে:

৪. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে:

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে এই খনিজটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এইচ৫ এন৮ ভাইরাসের সঙ্গে সড়াই করতে চিকিৎসকেরা বাদাম, মাছ, ডাল, ফুলকপি এবং বাঁধাকোপির মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

৫. আদা:

৫. আদা:

বার্ড ফ্লউকে যদি দূরে রাখতে চান, তাহলে ভুলেও আদার সঙ্গ ছাড়বেন না যেন! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। সেই সঙ্গে রয়েছে জিঞ্জেরল নামক একটি উপাদান, যা ইনফ্লয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, ই.কোলাই সহ আরও সব ভয়ঙ্কর রকমের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমমের হাত থেকে বাঁচাতেও আদা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন অল্প করে আদা, মধুর সঙ্গে খাওয়া শুরু করতে পারেন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে।

X
Desktop Bottom Promotion