লাল শাক খান নাকি?

Written By:
Subscribe to Boldsky

উত্তরটা "না" হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ সমীক্ষা বলছে দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দারের মধ্যে যাদের বয়স ৩০-এর কম তারা খুব একটা সবজি খেতে পছন্দ করে না। বরং তাদের প্লেটে বেশি করে মাংস আর ভাজাভুজি জাতীয় খাবারের প্রাধান্যই বেশি চোখে পরে। তাই লাল শাক জেন ওয়াইদের কাছে যে একটা এলিয়ান সম খাবার, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই কারণেই তো আজ এই প্রবন্ধে লাল শাকের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করলাম, যা পড়ার পর এই শাকটির প্রতি আপনাদের ধরণাই বদলে যাবে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লাল শাকের শরীরে এমন কিছু উপকারি উপদান রয়েছে, যা ৩০-এর পর থেকে শরীরের ভাঙন আটকানোর পাশাপাশি একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো প্রতিদিন যদি এই শাকটি খাওয়া যায়, তাহলে আয়ু তো বাড়েই, সেই সঙ্গে সুস্থ জীবনের পথ অনেকাংশেই প্রশস্ত হয়।

লাল শাক খেলে সাধারণত যে যে উপকার পাওয়া যায়। যেগুলি হল...

১. হজম শক্তির উন্নতি হয়:

১. হজম শক্তির উন্নতি হয়:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্ট যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজমের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপও হ্রাস পায়।

২. কিডনি ফাংশনের উন্নতি ঘটে:

২. কিডনি ফাংশনের উন্নতি ঘটে:

একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত লাল শাক খেলে একদিকে যেমন কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে, তেমনি অন্যদিকে রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। ফলে নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে।

৩. অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় কাজে লাগে:

৩. অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় কাজে লাগে:

"লাল শাক খেলে রক্ত বাড়ে শরীরে"- এই কথাটা নিশ্চয় আপনিও ছোট বেলায় শুনেছেন? হ্যাঁ শুনেছি তো! কিন্তু পাতা থেকে কীভাবে রক্ত তৈরি হয়, তা যদিও আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি! আসলে বন্ধু পাতা থেকে রক্ত তৈরি হয় না। বরং লাল শাকে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো অ্যানিমিয়া রোগীদের এই শাকটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, ২ আঁটি লাল শাককে পিষে রস সংগ্রহ করে তার সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে যদি নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে শরীরে কখনও রক্তের অভাব হবে না।

৪. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

৪. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

লাল শাকের মূল দিয়ে দাঁত মাজার পর নুন জল দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের হলুদ ভাব কেটে যায়। সেই সঙ্গে পোকা লাগা সহ মাড়ি এবং দাঁত সম্পর্কিত নানাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৫. চুল পড়া কমে:

৫. চুল পড়া কমে:

এক আঁটি লাল শাঁক ভাল করে বেটে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর তাতে ১ চামচ নুন মিশিয়ে ভাল করে নারান। যখন দেখবেন দুটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটি ছেঁকে নিয়ে পান করুন। এমনটা প্রতিদিন করলে চুল পড়ার হার অনেক কমবে।

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

লাল শাকে উপস্থিত ভিটামিন সি রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা চোখে কম দেখেন বা পরিবারে গ্লকোমার মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই লাল শাক খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই উপকার পাবেন।

৭. সাপের বিষের তেজ কমায়:

৭. সাপের বিষের তেজ কমায়:

এই নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে ঠিকই, তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর দেখা গেছে সাপ বা কোনও সরিসৃপ কামড়ানোর পর যদি ক্ষতস্থানে লাল শাক বেঁটে লাগানো যায়, তাহলে বিষের প্রভাব অনেকটাই কমে। সেই সঙ্গে একাধিক অঙ্গের উপর বিষেয়র কুপ্রভাব পরার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৮. ক্যান্সারকে দূরে রাখে:

৮. ক্যান্সারকে দূরে রাখে:

লাল শাকে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি শরীরে উপস্থিত একাধিক টক্সিক উপাদানের ক্ষতি করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ক্যান্সার সেল যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ শরীরে বাসা বাঁধার কোনও সুযোগ পায় না।

৯. জ্বরের প্রকোপ কমায়:

৯. জ্বরের প্রকোপ কমায়:

ওয়েদার চেঞ্জের কারণে যারা জ্বরে ভুগছেন, তারা এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে একটা প্যানে পরিমাণ মতো জল নিয়ে তাতে এক মুঠো লাল শাক ফেলে দিন। তারপর জলটা ফোটাতে শুরু করুন। যখন দেখবেন ফুটতে ফুটতে জলের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে দিন। এরপর জলটা টান্ডা করে সেটা পান করুন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন জ্বর দে ছুট লাগিয়েছে।

Image courtesy

Read more about: শরীর, রোগ
English summary
Red spinach helps in the process of bowel movement since it contains a lot of fiber. This fibrous food helps in proper digestion and is useful for curing colon cancer, diabetes, cholesterol as well as for weight loss.
Story first published: Wednesday, August 9, 2017, 18:35 [IST]
Please Wait while comments are loading...