ঠান্ডা জলে স্নান করলে কী কী উপকার পাওয়া যায় জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

"জেমস বন্ড শাওয়ার" কাকে বলে জানা আছে? যদি জানা না থাকে, তাহলে জেনে নেওয়াটা জরুরি। কারণ শরীরকে সুস্থ রাখতে এটি কিন্তু বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কী এই জেমস বন্ড শাওয়ার? ঠান্ডা জলে স্নান করাকে অনেকে জেমস বন্ড শাওয়ার বা স্কটিশ শাওয়ার নামে ডেকে থাকেন। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ঠান্ডা জলে স্নান করলে শরীরের অন্দরে নানা পরিবর্তন হতে শুরু করে, যার প্রভাবে একাধিক রোগ দূরে পালায়। শুধু তাই নয়, দেহের সার্বিক কর্মক্ষমতাও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই তো যদি সুস্থ থাকতে চান, তাহলে আজ থেকেই ঠান্ডা জলে স্নান করা শুরু করুন। দেখবেন দারুন সব উপকার পাবেন! আর যদি সম্ভব হয়, তাহলে পুকুরে গিয়ে স্নান করুন। কারণ পুকুরের ঠান্ডা জলে স্নান করলে আরও বেশি উপকার পাওয়া মেলে, যে সম্পর্কে এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ঠান্ডা জলে অথবা পুকুরের জলে স্নান করলে সাধারণত যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল...

১. পেশীর ক্ষমতা বাড়ে:

১. পেশীর ক্ষমতা বাড়ে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঠান্ডা জলে স্নান করলে পেশীর ক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা কমে যেতেও সময় লাগে না। এই কারণেই তো শরীরচর্চার পর ঠান্ডা জলে স্নান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

প্রতিদিন পুকুরে স্নান করলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে নানাবিধ সংক্রমণের প্রকোপ একেবারে কমে যায়। এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, তীর্থস্থানে গিয়ে পুণ্য হোক বা না হোক, শরীর কিন্তু একেবারে সুস্থ হয়ে ওঠে।

৩. ওজন হ্রাস পায় :

৩. ওজন হ্রাস পায় :

আমাদের শরীরে দু ধরনের ফ্যাট থাকে। একটা হল ব্রাউন ফ্যাট, যা শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। আর আরেকটি হল হোয়াইট ফ্যাট, যা শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। এই দ্বিতীয় ধরনের চর্বি গলানোর কথাই চিকিৎসকেরা সব সময় বলে থাকেন। প্রসঙ্গত, পুকুর বা নদীর ঠান্ডা জলে স্নান করার সময় ব্রাউন ফ্যাট খুব অ্যাকটিভ হয়ে যায়। ফলে একদিকে যেমন শরীরের এনার্জির ঘাটতি দূর হয়, তেমনি ক্যালোরি বার্ন হতে শুরু করে। ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত সাদা চর্বি ঝড়ে গিয়ে দেহ মেদমুক্ত হয়ে ওঠে।

৪. ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ে:

৪. ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ে:

ঠান্ডা জলে ডুবকি লাগানোর সময় আমরা শ্বাস বন্ধ করে জলের তলায় যাই। যে মুহূর্তে শ্বাস ফরিয়ে যায়, অমনি হাপুস হুপুস করে অক্সিজেন টেনে নেওয়ার প্রচেষ্টায় লেগে পরি। এমনটা করার সময় আমাদের ফসুফুসের কর্মক্ষমতা মারাত্মক বেড়ে যায়। তাহলে একবার ভাবুন, যারা প্রতিদিন গঙ্গা স্নান করছেন অথবা যাদের পুকুরে স্নান করার অভ্যাস রয়েছে, তাদের ফুসফুস কতটা কর্মক্ষম!

৫. প্রতিটি অঙ্গের ক্ষমতা বাড়ে :

৫. প্রতিটি অঙ্গের ক্ষমতা বাড়ে :

শরীর, ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আসা মাত্র লিম্প ভেসেলগুলি সংকুচিত হতে শুরু করে। ফলে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়। এমনটা যখনই হয়, তখনই প্রতিটি অঙ্গে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে সার্বিকভাবে দেহের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৬. কোনও ধরনের লাং-এর রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

৬. কোনও ধরনের লাং-এর রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

পুকুর বা নদীতে ডুব দেওয়ার সময় আমরা প্রথমে শ্বাস আটকে নি। যতক্ষণ জলের তলায় থাকি, ততক্ষণ শ্বাস আটকে রাখার পর যখন আর সম্ভব হয় না, তখন জলের উপরে উঠে আসি। এমনটা বারে বারে করার ফলে ফুসফুসের দারুন ব্যায়াম হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে লাং-এর কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে।

৭. শরীর থেকে টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যায়:

৭. শরীর থেকে টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যায়:

ঠান্ডা জলে সকাল সকাল ডুবকি লাগালে শরীর থেকে বেশ কিছু ক্ষতিকর অ্যাসিড বেরিয়ে যায়। ফলে পেশিতে কোনও চোট থাকলে তা দ্রুত সেরে উঠতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, এই কারণেই তো খেলোয়াড়রা ইনটেন্স ট্রেনিং-এর পর ঠান্ডা জলে স্নান করে থাকেন। আসলে ঠান্ডা জল পেশির গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ে:

৮. শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ে:

ঠান্ডা জলে স্নান করার সময় আমাদের শরীর থেকে এন্ডোরফিন এবং নোরাড্রেনালিন নামে দুটি কেমিকেলের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই দুটি কেমিকেল শরীর থেকে যত বেরিয়ে যেতে থাকে, তত আমাদের ক্লান্তি দূর হয়। সেই সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

৯. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

৯. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

সকাল সকাল পুকুর বা নদীর ঠান্ডা জলে স্নান করলে ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। আসলে ত্বক এবং চুলের অন্দরে থাকা প্রকৃতিক তেল যাতে বেশি মাত্রায় ক্ষরণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে ঠান্ডা জল। ফলে ত্বক বা চুল আদ্র হয়ে গিয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত, নিয়মিত পুকুরের ঠান্ডা জলে স্নান করলে চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ স্কাল্পের সমস্যাও দূর হয়।

১০. মানসিক অবসাদকে দূরে রাখে:

১০. মানসিক অবসাদকে দূরে রাখে:

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে ভোর ভোর পুকুরে বা নদীতে স্নান করলে আমাদের শরীরে বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেসকে নিমেষে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসে। তাই তো এবার থেকে যখনই মন ভাল থাকবে না, পুকুরে বা নদীতে একটু ডুবকি মেরে নেবেন, তাহলেই দেখবেন মন এবং শরীর, উভয়ই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Benefits of Cold Showers: 10 Reasons Why Taking Cool Showers Is Good For Your Health

    Most of us have been caught in that skin-cringing, and often dreaded moment of being the last one to shower. If you haven't then chances are that you've had someone walk into the bathroom, and flush the toilet mid-shower, leaving you covered in bone-chilling cold water. In these moments, instead of indulging in a hot luxurious shower, especially during the bitter cold winter months, we find ourselves shivering with discomfort and anger, but this may actually be advantageous to our health. Coined as the “James Bond Shower,” or often referred to as a “Scottish Shower,” turning the temperature down to freezing cold at the end can provide surprising benefits for our body and skin.
    Story first published: Saturday, June 2, 2018, 14:03 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more