অ্যালোভেরায় অ্যালার্জি আছে কি?

অ্যালোভেরা মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল পাওয়া যায়। এছাড়াও এটি শরীরের জন্য উপকারী নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।

By Swaity Das

রাস্তায় কারও সঙ্গে দেখা হলে অল্প-বিস্তর কুশল বিনিময়। এর পরের কথোপকথন যদিও আর কুশল থাকে না। কারণ বর্তমানে মাথা থেকে পা অবধি প্রায় সব মানুষই অসুস্থতায় জর্জরিত। এই অসুস্থতা কাটাতে আমাদের দামি ওষুধ অথবা হেলথ ড্রিঙ্কের ওপর ভরসা করতে হয়। কিন্তু জানেন কি, বাড়ির এক কোণায় পড়ে থাকা সামান্য একটি গাছ আপনাকে সমস্ত সমস্যা থেকেই দূর করতে পারে। কি ভাবছেন? কোন গাছের কথা বলছি? ভেবে দেখুন তো, ঘরে বা বাগানে অ্যালোভেরা গাছ আছে কিনা? উত্তরটা যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে প্রাকৃতিক ওষুধ তো আপনার হাতের মুঠোয়। আর যদি না লাগিয়ে তাকেন, তাহলে গাছটি জোগাড় করে ঝটপট লাগিয়ে ফেলুন। কিন্তু কিভাবে আমাদের শরীর ভাল রাখতে পারে এই অ্যালোভেরা? চলুন এই বিষয়ে একটু খোঁজ-খবর লাগানো যাক!

গাছটি ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ:

গাছটি ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ:

অ্যালোভেরা মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল পাওয়া যায়। এছাড়াও এটি শরীরের জন্য উপকারী নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। একমাত্র ভিটামিন ডি ছাড়া সবরকম পুষ্টিগুণ অ্যালোভেরার মধ্যে উপস্থিত রয়েছে। তাই তো শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, অ্যালোভেরা রস এমনিতে যেমন খাওয়া যায়, তেমনই আমলকী, তুলসি বা করলার রসের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া চলতে পারে।

হজমের সমস্যা দূর করে:

হজমের সমস্যা দূর করে:

আপনার কি জল খেলেও অম্বল হয়? মানে যাই খান না কেন, গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা সব একসঙ্গে আক্রমণ করে নাকি? সঙ্গে আবার দোসর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য? তাহলে এখনই অ্যালোভেরা রসকে আপানার ওষুধ বানিয়ে নিন। কারণ অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ এই ধরনের সব সমস্যাকে ম্যাজিকের মতো উধাও করে দিতে পারে। এছাড়াও খিদে বাড়াতে দারুনভাবে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। সেই সঙ্গে মোটা হয়ে যাওয়ার চিন্তাও দূর করে। কারণ অ্যালোভেরা জেল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কাজ আসে।

শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়:

শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়:

অ্যালোভেরা রস আমাদের শরীরের ভেতর থেকে নানারকম বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। আগেই যেমন আলোচনা করা হয়েছে, অ্যালোভেরা গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা কমিয়ে হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যেতে কোনও সমস্যাই হয় না।

রক্তাল্পতা দূর করে:

রক্তাল্পতা দূর করে:

অ্যালোভেরা কুমারী আসাভা নামক এক ধরণের আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধটি হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভারের গণ্ডগোল, রক্তাল্পতা, জন্ডিস এবং গলব্লাডারের স্টোনের মতো নানাবিধ রোগ নির্মূল করতে দারুন কাজে আসে।

হরমানের সমস্যা কমায়:

হরমানের সমস্যা কমায়:

ঘৃত কুমারী বা অ্যালোভেরা আরও নানা রকমের ভেষজ ওষুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে হরমানের সমস্যা দূর হয়। সেই সঙ্গে অগ্ন্যাশয় এবং যকৃতের কাজ যাতে ঠিকভাবে হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে।

চুল এবং ত্বকের জন্য খুবই উপকারি:

চুল এবং ত্বকের জন্য খুবই উপকারি:

অ্যালোভেরা রস ত্বককে নরম এবং উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও চুলের বৃদ্ধিতেও দারুণ কাজ দেয়। পুড়ে যাওয়া বা যে কোনও ক্ষতস্থানে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল লাগালে আরাম পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত, মুখে, গায়ে এবং স্কাল্পে এটি ক্রিমের মতো ব্যবহার করলেও দারুন উপাকার পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে অ্যালোভেরার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই প্রকৃতিক উপাদনটি যদি আমলকী, তুলসি অথবা করলার রসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে আরও উফকার মেলে।

কেমন করে ব্যবহার করবেন অ্যালোভেরাকে?

কেমন করে ব্যবহার করবেন অ্যালোভেরাকে?

অ্যালোভেরা রস মূলত খালি পেটে সকালবেলা পান করা উচিত। এক গ্লাস জলে ২০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে পান করতে হবে। আরেকভাবেও অ্যালোভেরা রস খেতে পারেন। কীভাবে? অ্যালোভেরা রসের সঙ্গে সমপরিমাণ তুলসি অথবা আমলকীর রস মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। ৪০-৬০ মিলিলিটার করলার রসে ২০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়েও পান করা যায়। এই মিশ্রণটি ডায়াবেটিসে এবং কোলেস্টেরলে আক্রান্ত রোগীদের জন্য খুবই উপকারি।

সাবধানতা:

সাবধানতা:

অ্যালোভেরা রস গর্ভবতী মহিলাদের পান করা একেবারেই উচিত নয়। এছাড়াও যাদের আমাশয়ের সমস্যা আছে, তাঁদেরও কিন্তু অ্যালোভেরা রস বর্জন করতে হবে।

Story first published: Monday, September 11, 2017, 15:23 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion