বিটের জুস গলায় ঢেলেছেন কখনও?

Written By:
Subscribe to Boldsky

ডাক্তারবাবু খুব দুর্বল লাগছে জানেন। মাঝে মাঝে খেতেও ইচ্ছা করে না। মনে হয় বিছানায় পরে থাকি। ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুমাই। এদিকে কুম্ভকর্ণ মশাইয়ের আশীর্বাদও মিলছে না। কী করি বলুন তো? আমার কী কোনও রোগ হল নাকি?

মাঝে মাঝে এমন ভাল না লাগাটা আমাদের সবারই প্রায় হয়ে থাকে। আসলে সারা সপ্তাহ ধরে ঝাঁপাঝাঁপি, লাফালাফি করতে করতে শরীরের ভেতরে বাইরে ক্লান্তি যে ঘামের গন্ধের মতো চিপকে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরও কেমন যেন ভাঙতে শুরু করে। তাই তো ঘুম ঘুলঘুলি দিয়ে কোনও দূর দেশে পালায়। সঙ্গে নিয়ে যায় জিভের স্বাদকেও। এমন পরিস্থিতিতে ৯০ শতাংশই মানুষই ৫০০-১০০০ টাকা খরচ করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেটের পরছা নিয়ে আসেন। কিন্তু কেউ একবার জন্য হলেও রান্না ঘরে উুঁকি মারার প্রয়োজন বোধটুকু করেন না।

রান্না ঘরে উুঁকি মেরে কী হবে? আরে মশাই এমন পরিস্থিতিতে ট্যাবলেট না খেয়ে যদি বিটের রস খাওয়া যায়, তাহল খরচ যেমন কমে, তেমনি অনেক ভাল ফল পাওয়া যায়। আর বাঙালি রান্নাঘরে তো বিটের আনাগোনা লেগেই থাকে, তাই না! তাই তো রান্নাঘরে উুঁকি মারার কথা বললাম।

আসলে গবেষণা বলছে বিট রসের অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং এ। সেই সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং আয়রন। তাই তো এই সবজিটিকে সুবার ফুড হিসেবে গণ্য করে থাকেন চিকিৎসকেরা। এখন প্রশ্ন হল বিটের রস খাওয়া শুরু করলে কী কী উপকার মিলতে পারে?

১. রক্তচাপ কোনও দিন চাপে ফেলবে না:

১. রক্তচাপ কোনও দিন চাপে ফেলবে না:

যেভাবে স্ট্রেস আমাদের ঘিরে ধরছে, তাতে রক্তের আর কী দোষ বলুন! রাগে-দুঃখে-হতাশায় সে ফুলে ফেঁপে উঠছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে রক্তচাপ। এমন অবস্থায় রক্তকে ঠান্ডা করতে পারে একমাত্র বিটের রক্তিম রস। আসলে রক্তের মতোই দেখতে এই রসটিতে রয়েছে নাইট্রেস, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. ত্বকের হারিয়ে যাওয়া সৈন্দর্য ফিরে আসে:

২. ত্বকের হারিয়ে যাওয়া সৈন্দর্য ফিরে আসে:

রক্তে উপস্থিত নানাবিধ ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিক উপাদানদের শরীরে থেকে বার করে দিয়ে ত্বককে ভিতর থেকে সুন্দর করে তুলতে বিটের রসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো মুখের ক্যানভাসে যদি কালো ছোপ বা ব্রণর দাপাদাপি থাকে, তাহল আজই বিটের রসের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতান। দখবেন এই বন্ধু আপনার দারুন উপকারে লাগবে।

৩. শরীরকে বিষমুক্ত করে:

৩. শরীরকে বিষমুক্ত করে:

বিটের অন্দরে রয়েছে বিটালায়েন্স নামে একটি ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা দেহে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এখানেই শেষ নয়, বিটের রসে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আরও নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে।

৪. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

৪. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

গলা দিয়ে গড়িয়ে রসটা যখনই রক্তে মেশে অমনি সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধি রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের প্রতিটি অংশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে ঘাটতি হতে থাকা ফিজিকাল এনার্জিও ফিরে আসে। শুধু তাই নয়, স্ট্রেসও কমতে থাকে। তাই এবার থেকে অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত-অবশান্ত লাগলে ঝপ করে এক গ্লাস বিটের রস বানিয়ে খেয়ে ফেলবেন। দেখবেন নিমেষে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন।

৫.হজম ক্ষমতা একশো শতাংশ বাড়িয়ে দেয়:

৫.হজম ক্ষমতা একশো শতাংশ বাড়িয়ে দেয়:

বাড়ির বাইরে খেতে খেতে পাকস্থলি কাজ করা বন্ধ করে দিতে বসেছে। ফলে বাড়ছে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ? ফিকার নট! কাল থেকে এক গ্লাস করে বিট রুটের রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন স্টমাক তার হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতা ফিরে পাবে। ফলে হজম ক্ষমতা এমন বেড়ে যাবে যে অম্বল ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

৬. ডায়াবেটিসকে দূরে রাখে:

৬. ডায়াবেটিসকে দূরে রাখে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বিটের শরীরে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ইনসুলিনের ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Beetroot juice can help in temporarily lowering high blood pressure. Researchers have attributed this to the presence of nitrates in beets. The naturally occurring nitrates increase nitric oxide found in the blood vessels which allow more oxygen to flow to your brain, heart and muscles and thus, lowering high blood pressure.
Story first published: Saturday, September 16, 2017, 16:32 [IST]
Please Wait while comments are loading...