থানকুনি পাতা খান না নিশ্চয়?

Subscribe to Boldsky

এই প্রশ্নের উত্তর মনে হয় নাই হবে। ব্যস্ততার কারণে যেনে ভাত-মাছ মুখে তোলা দায়, সেখানে থানকুনি অসবে কোথা থেকে। তার উপর চেনার ব্যাপারটাও তো আছে। ঠিক ঠিক! তাই তো যুবসমাজের কাছে এই শাকটি ভিনগ্রহের কোনও জীবের মতোই অচেনা। কিন্তু একটা কথা জেনে রাখুন বন্ধুরা। নিজের শরীর এবং ত্বককে যদি বাকিদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে চান, তাহলে প্রতিদিনের ডায়েটে থানকুনিকে থাকা চাইই-চাই।

সেই ১৭ সেঞ্চুরি বিসি থেকে আমাদের দেশের পাশাপাশি আফ্রিকা, জাভা, সুমাত্রা, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপিন্সের বাসিন্দারা এই শাকটি খেয়ে আসছে। আর কেন খাবে নাই বা বলুন! একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো জটিল ত্বকের রোগ সারিয়ে তোলার পাশাপাশি একাধিক শারীরিক সমস্যার প্রকোপ কমাতে থানকুনির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই সঙ্গে মেদ ঝড়াতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এই শাকটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, একটা বিষয় জানলে আবাক হয়ে যাবেন! ওয়াল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফাররা লক্ষ করে দেখেছেন বাঘেরা কোন চোট পেলেই ঠিক খুঁজে খুঁজে থানকুনি পাতা যেখানে আছে, সেখানে গিয়ে গা ঘষতে শুরু করে। কেন এমনটা করে জানেন? কারণ চোট আঘাত সারাতে এই পাতাটি দারুন কাজে আসে। ভাববেন না এখানেই শেষ! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন তাহলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন...

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

কখনও বেগুন-পেঁপে আর থানকুনি পাতা দিয়ে বানানো শুক্ত খেয়ে দেখেছন? একদিন বানিয়ে দেখবেন। স্বাদগ্রন্থিগুলো নেচে তো উঠবেই। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

২. জ্বরের প্রকোপ কমে:

২. জ্বরের প্রকোপ কমে:

সিজিন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

৩. ক্রিমি এবং পেটের রোগের চিকিৎসা করে:

৩. ক্রিমি এবং পেটের রোগের চিকিৎসা করে:

অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

৪. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হ্রাস পায়:

৪. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হ্রাস পায়:

কী বন্ধু অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

৫. কাশি কমাতে বিকল্প নেই:

৫. কাশি কমাতে বিকল্প নেই:

২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৬. টক্সিক উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:

৬. টক্সিক উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:

খাবার এবং আরও নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৭. বাচ্চাদের কথা বলার সমস্যা দূর করে:

৭. বাচ্চাদের কথা বলার সমস্যা দূর করে:

খেয়াল করে দেখবেন অনেক বাচ্চারই মুখে কথা ফুটে যাওয়ার পরও স্পষ্ট করে বলতে পারেন না, এমনকি বয়স বাড়লেও কথার মধ্য়ে সেই অস্বচ্ছতা থেকে যায়। এমন ক্ষেত্রে থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। ১ চামচ থানকুনি পাতার রস গরম করে নিন প্রথমে। তারপর তা হলকা ঠান্ডা করে নিয়ে তাতে ২০-২৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি ঠান্ডা দুধের সঙ্গে খাওয়ানো শুরু করুন। দেখেবন উপকার হবে।

৮. আমাশয় দূর হয়:

৮. আমাশয় দূর হয়:

এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৯. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

৯. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    English summary

    একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন তাহলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন...

    There are several herbs in Ayurveda that are believed to have exceptional health benefits and are being widely used as a medicine since ancient times. One such herb is Gotu Kola, which is scientifically known as 'Centella asiatica' that has numerous health benefits.
    Story first published: Thursday, August 3, 2017, 15:31 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more