নিয়মিতি বিট খেলেই...!

কী হবে নিয়মিত বিট খেলে? এই উত্তর পেতেই তো চোখ রাখতে হবে এই প্রবন্ধে। আর যদি হাতে সেটুকু সময়ও না থাকে তাহলে আল্লাই ভরসা!

By Nayan

কী হবে নিয়মিত বিট খেলে? এই উত্তর পেতেই তো চোখ রাখতে হবে এই প্রবন্ধে। আর যদি হাতে সেটুকু সময়ও না থাকে তাহলে আল্লাই ভরসা!

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানতে পারবেন গত ৪০০০ বছর আগে বিটের চাষ শুরু হয় মেডিটেরিয়ান রিজিয়ানে। তারপর যত সময় এগিয়েছে সবজিটি ধীরে ধীরে ব্যাবিলন হয়ে চিনে ঢুকে পরেছে। তারপর সময়ের সরণি বেয়ে ছড়িয়ে পরেছে সারা এশিয়া মহাদেশ এবং ইউরোপ-আমেরিকায়। কিন্তু এই সবজিটির এত জনপ্রিয়তা কেন? কারণ বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নানাবিধ উপকারি উপাদানে পরিপূর্ণ হল বিট। তাই তো নিয়মিত এই রক্তিম সবজিটি খেলে কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, বরং নানা উপকার মেলে। যেমন...

১. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

১. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

বিটের অন্দরে থাকা ফাইবার, শরীরে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা যেমন কমায়, তেমনি টাইগ্লিসারাইডকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, বিটে উপস্থিত বিটাইন নামক এক ধরনের পুষ্টিকর উপাদান ধমনীর কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যাথেরোস্কেলেরোসিসের আশঙ্কাও কমায়।

২. প্রেগনেন্সির সময় খাওয়া মাস্ট:

২. প্রেগনেন্সির সময় খাওয়া মাস্ট:

ভিটামিন বি এবং ফলেটে পরিপূর্ণ এই সবজিটি যদি ভাবী মায়েরা প্রতিদিন খান, তাহলে বাচ্চার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ফলে জন্মানোর আগে বা পরে নবজাতকের কোনও ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত , গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ফলেটের ঘাটতি দেখা দিলে বাচ্চার নানাবিধ নিউরাল প্রবলেম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তো এই বিষয়টি নজরে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

৩. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

৩. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

বেশ কিছু স্টাডির পর একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে স্কিন, লাং এবং কোলোন ক্যান্সারকে দূরে রাখতে বিট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে বিটের শরীরে থাকা বিটাসায়ানিনস নামে একটি উপাদান, মানব দেহে ক্যান্সার সেলকে জন্ম নিতে দেয় না। সেই সঙ্গে ম্যালিগনেন্ট টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশকে যেভাবে আমাদের দেশে কর্কট রোগের প্রকোপ বেড়েছে, তাতে প্রকৃতির স্বরণাপন্ন হলে যে বেজায় বিপদ, সেকথা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না।

৪. লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

৪. লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

মাঝে মধ্যেই কি মদ্যপান করার অভ্যাস আছে? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে তো মশাই রোজের ডায়েটে বিট থাকা মাস্ট! কারণ এই সবজিটিতে বিটেইনস নামক একটি উপাদান থাকে, যা কিডনি ফাংশনের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

৫. ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

বিটের অন্দরে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন শরীর থেকে সব টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে নানা জটিল রোগকে দূরে রাখে, তেমনি ফুসফুসের শক্তি এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে বায়ু দূষণের মাঝে থেকেও লাং-এর কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সেই সঙ্গে অ্যাস্থেমার মতো রোগও দূরে পালায়।

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

সারা দিন কি বন্ধু কম্পিউটারের সামনে থাকতে হয়? তাহলে তো রোজের ডায়েটে বিট থাকা মাস্ট! কারণ এর মধ্যে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন তো আটকাই, সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এখানেই শেষ নয়, ছানির মতো রোগকে দূরে রাখতে বিটের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৭. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

৭. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

আমাদের শরীরে এনার্জির ঘাটতি মেটাতে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন পরে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে বিটে। তাই তো সবজি খাওয়া মাত্রা শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, একটি স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত বিটের রস খেলে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্য়ে দিয়ে সার্বিকভাবে শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায়।

৮. স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়:

৮. স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়:

একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে এই খনিজটির ঘাটতি কখনও না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এ কাজে সাহায্য করতে পারে বিট। কারণ এই সবজিটি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। তাই তো প্রতিদিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিটরুটের নানা পদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক লেবেলে চলে আসে। ফলে ররক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারি শিরা-ধমনীতে ব্লাড ক্লট হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রোকের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

Story first published: Monday, November 13, 2017, 13:09 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion