Latest Updates
-
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ৩ মে ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে? দৈনিক রাশিফল ২ মে ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ সারাদিন আপনার কেমন কাটবে? দৈনিক রাশিফল ১ মে ২০২৫ -
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ৩০ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে? দৈনিক রাশিফল ২৯ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ২৮ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ সারাদিন আপনার কেমন কাটবে? দৈনিক রাশিফল ২৭ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ২৬ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে? দৈনিক রাশিফল ২৫ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ সারাদিন আপনার কেমন কাটবে? দৈনিক রাশিফল ২৪ এপ্রিল ২০২৫
রোজ ঢেঁড়স খাওয়া উচিত কি?
গবেষকদের মতে ঢেঁড়সে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস এবং আরও সব পুষ্টিকর উপাদান শরীরের অন্দরে প্রবেশ করার পর নানাবিধ উপকারে লেগে থাকে।
গরম গরম ঢেঁড়স ভাজার সঙ্গে রুটি হোক কী ভাত, খাওয়া একেবারে জমে ক্ষীর। কিন্তু এই সবজিটি প্রতিদিন খাওয়া কি উচিত?
গবেষকদের মতে ঢেঁড়সে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস এবং আরও সব পুষ্টিকর উপাদান শরীরের অন্দরে প্রবেশ করার পর নানাবিধ উপকারে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, একাধিক রোগে থেকে শরীরকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় এই সবজিটি। তাই তো সেই ১২ শতাব্দী বিসি থেকে এই সবজিটি গ্রহণ করে আসছি আমরা। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, ইজিপ্টের বাসিন্দারা প্রথম এই সবজটির চাষ শুরু করেন। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মিশরের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যায় মধ্যপ্রাচ্যের বাকি দেশ এবং উত্তর আফ্রিকাতেও। আমেরিকায় ঢেঁড়সের প্রবেশ ঘটে আফ্রিকান দাসেদের হাত ধরে, ১৭০০ সালে। একই সময়ে ইউরোপ এবং আমাদের দেশেও ঢেঁড়স খাওয়া রীতিমতো শুরু হয়ে গেছে। আর আজ তো শুধু ভারত নয়, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, গ্রীস, টার্কি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপ, ইউরোপ এবং আমেরিকাতে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ঢেঁড়স। আর কেন করবে নাই বা বলুন! এই সবজিটি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যকরও।
আসলে ঢেঁড়সের অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন এ, সি এবং ফলেট। সেই সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন কে, বি, আয়রন, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, মেঙ্গানিজ,ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিটা ক্যারোটিন। এইসবকটি উপাদান একযোগে ডায়াবেটিস, অ্যাস্থেমা, অ্যানিমিয়া সহ একাধিক রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, যে বিষয়ে এই প্রবন্ধে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

১.ওজন হ্রাসে সাহায্য় করে:
ঢেঁড়সে উপস্থিত ফাইবার শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে দেহের অন্দরে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। আর ক্যালরির প্রবেশ যত কমতে থাকে, তত ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:
ঢেঁড়স থাকা বিটা ক্যারোটিন এবং লুটেইন একদিকে যেমন দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে, তেমনি ছানি এবং গ্লকোমার মতো রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৩.কনস্টিপেশনের প্রকোপ কমায়:
ঢেঁড়সের শরীরে থাকা ফাইবার শুধুমাত্র হার্টের খেয়াল রাখে না, সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্টে উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে কনস্টিপেশন, বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে যদি নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া যায়, তাহলে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই হ্রাস পায়।

৪. হাড় শক্তপোক্ত হয়:
ঢেঁড়সে উপস্থিত ফলেট হাড়ের গঠনে উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো ৪০-এর পর থেকে প্রতিটি মহিলার নিয়ম করে ঢেঁড়স খাওয়া উচিত। আসলে একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে আমাদের দেশে মহিলাদের বয়স ৪০ পেরতে না পেরতেই তাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ হাড়ের রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন মহিলাদের ঢেঁড়স খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা!

৫. ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে:
প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে প্রতিদিন এই সবজিটি খেলে একদিকে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, তেমনি কোষেদের বিভাজনও ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে হওয়ার সুযোগ পায়। কারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের কোষেদের গঠনে পরিবর্তন করার কোনও সুযোগই দেয় না। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, কোষেদের এই ভাবে চরিত্র বদল করে ক্ষতিকর কোষে রূপান্তরিত হওয়াকে "মিউটেশন অব সেল" বলা হয়ে থাকে।

৬. ফলেটের ঘাটতি দূর করে:
শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে যে যে খনিজের প্রয়োজন পরে, তার মধ্যে অন্যতম হল ফলেট। তাই তো নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। আসলে এই সবজিটির অন্দরে প্রচুর মাত্রায় ফলেটের সন্ধান পাওয়া যায়, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। প্রসঙ্গত, নাবজাতকদের নিউরাল টিউব সম্পর্কিত নানা সমস্যা কমাতেও ফলেট বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই তো গর্ভাবস্থার সময় ভাবী মায়েদের বেশি করে ঢেঁড়শ খেতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে দূরে রাখে:
পরিসংখ্যান বলছে ইতিমধ্যেই আমাদের দেশ সারা বিশ্বের মধ্যে ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, প্রতি বছর নতুন করে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটাও লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা একটি রিপোর্ট অনুসারে বর্তমানে ভারতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ মিলিয়ান, যা আগামী কয়েক বছরে আরও বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সুস্থ রাখবেন কিভাবে, তা জানা আছে? গবেষণা বলছে প্রতিদিন ৬-৮ টা ঢেঁড়স খেলে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে।

৮. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:
শরীরে উপস্থিত বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতে ঢেঁড়সের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটি ফাইবার সমৃদ্ধি। এই উপাদানটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়:
এতে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ গত কয়েক দশকে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পয়েছে। আমাদের দেশে তো অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ নীতিও গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এমন পরিস্থিতে এই সবজিটি কতটা কাজে আসতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে বোঝাতে হবে না।

১০.অ্যাস্থেমা প্রতিরোধে কাজে আসে:
ওয়েদার চেঞ্জের সময় অথবা ধুলোবালি নাকে ঢুকলেই শ্বাস কষ্ট শুরু হয়ে যায় নাকি? তাহলে তো কষ্ট কমাতে ঢেঁড়সের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই হবে। কারণ এই সবজিটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারি অ্যালার্জেনরা কোনও ধরনের ক্ষতি করার সুযোগই পায় না। ফলে অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমতে শুরু করে।



Click it and Unblock the Notifications