সিংহভাগ ভারতীয় মহিলা ভুগছেন ওভারিয়ান সিস্টে! আপনিও কি তাদের একজন?

মেনোপজের আগে প্রায় ৯০ শতাংশ মহিলারই এই রোগটি হয়ে থাকে। সেই কারণেই তো ওভারিয়ান সিস্টকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা হিসেবে গণ্য করেছেন চিকিৎসকেরা।

মেনোপজের আগে প্রায় ৯০ শতাংশ মহিলারই এই রোগটি হয়ে থাকে। সেই কারণেই তো ওভারিয়ান সিস্টকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা হিসেবে গণ্য করেছেন চিকিৎসকেরা। এক্ষেত্রে ওভারির উপরে এক বা একাধিক জলভর্তি থলির সৃষ্টি হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না বলে রোগী জানতেই পারেন না যে তার ওভারির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। প্রসঙ্গত, আপাত দৃষ্টিতে শরীরের কোনও ক্ষতি না করলেও সিস্টের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে অথবা এক একটা সিস্টই যদি আয়তনে খুব বিশালাকায় হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। তাই সময় থাকতে থাকতে সাবধান হোন। না হলে কিন্তু...!

এখন প্রশ্ন হল শরীরের কোনও ক্ষতি না করে ওভারিয়ান সিস্টের চিকিৎসা করা কি সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর হল একেবারেই করা সম্ভব! তবে তার জন্য় এই প্রবন্ধে একবার চোখ রাখতে হবে। তাহলেই দেখবেন চিন্তা দূর হবে চোখের পলকে। প্রসঙ্গত, ওভারিয়ান সিস্টের চিকিৎসায় যে যে ঘরোয়া টোটকাগুলি কাজে আসে, সেগুলি হল...

১. ক্যামোমিল চা:

১. ক্যামোমিল চা:

বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে নিয়মিত এই পানীয়টি খেলে একদিকে যেমন সিস্টের প্রকোপ কমে, তেমনি সিস্টের কারণে হওয়া যন্ত্রণাও হ্রাস পায়। তাই তো এই ধরনের রোগের চিকিৎসায় ক্যামোমিল চাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে এক কাপ গরম জলে পরিমাণ মতো ক্যামোমিল চা মিশিয়ে জল টাকে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। তাহলেই আপনার চা তৈরি। ইচ্ছা হলে অল্প পরিমাণ মধুও মিশিয়ে দিতে পারেন এই পানীয়তে। দখবেন বেশি করে উপকার পাবেন।

২. আদা:

২. আদা:

এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ওভারিয়ান সিস্টের যন্ত্রণা কমাতে দারুন উপকারে লাগে। শুধু তাই নয়, এই রোগের কারণে যাতে পিরিয়ডে কোনও বাধা না আসে সেদিকেও খেয়াল রাখে। এক্ষেত্রে একটা ব্লেন্ডারে ২ ইঞ্চি মাপের দুটো আদা, সঙ্গে দুই আঁটি সেলারি শাক, হাফ গ্লাস আপেলের রস, অল্প করে আনারসের রস মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে সবকটি উপাদান। এই মিশ্রনটি প্রতিদিন একবার করে খেলেই সিস্ট একেবারে গায়েব হয়ে যাবে।

৩. গরম সেক:

৩. গরম সেক:

ওভারিয়ান সিস্টের কারণে পেটে যন্ত্রণা বা ক্র্যাম্প লাগলে সঙ্গে সঙ্গে গরম সেক দিতে হবে। এমনটা করলে কষ্ট একেবারে কমে যাবে। এক্ষেত্রে একটা কাঁচের বোতলে পরিমাণ মতো গরম জল নিয়ে ওই বোতলটা তলপেটে অথবা পেলভিক এরিয়ায় ১৫ মিনিট রেখে দিলেই দেখবেন আরাম মিলছে।

৪. বাদাম:

৪. বাদাম:

এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, সিস্টের কারণে হওয়া যন্ত্রণা কমতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত বাদাম খাওয়া শুরু করলে ওভারিয়ান সিস্টের প্রকোপও কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে নিয়মিত এক মুটো করে বাদাম খেতে হবে। তাহলেই কেল্লাফতে!

৫.রেড়ির তেল:

৫.রেড়ির তেল:

মোটা একটা কাপড় নিয়ে তাতে ২ চামচ রেড়ির তেল দিয়ে দিন। তারপর একটা টাওয়ালের উপর বসে পেটের উপরে রেড়ির তেল দেওয়া কাপড়টা জড়িয়ে নিন। তারপর পেটের উপর রাখা কাপড়ের উপরে একটা গরম জলের বোতল রেখে নিজেকে মোটা একটা চাদর দিয়ে ঢেকে নিন। এইভাবে ৩০ মিনিট থাকার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে তিনবার এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

৬. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

৬. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করার মধ্যে দিয়ে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি সিস্ট কমিয়ে ফেলতে দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে অ্যাপেল সিডার ভিনিগারকে? ১ গ্লাস গরম জলে ১ চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে নিয়ে সেই মিশ্রনটি প্রতিদিন ১-২ গ্লাস খেলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

৭. জল বেশি করে খেতে হবে:

৭. জল বেশি করে খেতে হবে:

ওভারিয়ান সিস্টের মতো রোগ সারাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। ইচ্ছা হলে লেবুর রসও বারে বারে খেতে পারেন। একই উপকার পাবেন। আসলে যত বেশি করে জল খাবেন, তত শরীরে থেকে ময়লা এবং ক্ষতিকর টক্সিন সব বেরিয়ে যাবে। ফলে সিস্টের যন্ত্রণা যেমন কমবে, তেমনি এই রোগ থেকে মুক্তিও মিলবে তাড়াতাড়ি।

৮. বিটরুট:

৮. বিটরুট:

এতে উপস্থিত বিটাসিয়ানিন নামে একটি উপাদান লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে শরীর থেকে সব ক্ষতিকর উপাদানদের বাইরে বের করে আনে। সেই সঙ্গে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ওভারিয়ান সিস্টের প্রকোপ কমাতেও কাজে লাগানো যেতে পারে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে। সেক্ষেত্রে হাফ কাপ বিট জুসের সঙ্গে ১ চামচ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি খেতে হবে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন ব্রেকফাস্টের আগে এক গ্লাস এই ওষুধটি খেলে ওভারিন সিস্টের প্রকোপ কমে যাবে।

Story first published: Tuesday, April 3, 2018, 18:25 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion