মেথি বীজ খেলে কি হতে পারে জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

অন্ধ মানে কী? এ কেমন প্রশ্ন মশাই! অন্ধ মানে যে দেখতে পায় না। যে উত্তরটা দিলেন তা একেবারেই ঠিক নয়। মানে! মানে হল যার চোখ নেই তাকেই যদি অন্ধ বলা হয়, তাহলে আমাদের কী বলা হবে। কারণ চর্মচক্ষু থাকার পরেও তো আমরা অন্ধের মতোই থাকি, না হলে মেথি বীজের মতো এত শক্তিশালী ওষুধকে এত দিন দূরে রাখি কী করে বলুন!

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দূষিত পরিবেশ এবং ভেজাল খাবারের রাজ্যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, যদি প্রতিদিন মেথি বীজ খাওয়া যায় তো! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির মধ্যে রয়েছে ৩৫.৫ ক্যালরি, ৬.৪ গ্রাম প্রোটিন, ০.৭ গ্রাম ফ্যাট, ২.৭ গ্রাম ফাইবার এবং ৩.৭ মিলিগ্রাম আয়রন। এছাড়ও মজুত রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি৬-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা নানা দিক দিয়ে শরীরে গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই কারণেই তো সেই ১৫০০ বিসি থেকে মেথি বীজের ব্যবহার হয়ে আসছে এই পৃথিবীতে। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানতে পারা যায়, এই প্রকৃতিক উপাদানটির ব্যবহার প্রথম শুরু হয় ইজিপ্টে, তারপর গ্রিস এবং রোম হয়ে তা ছড়িয়ে পরে বাকি জয়গায়। এমনকি আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত একাধিক প্রাচীন বইয়েও মেথি বীজের ঔষধি গুণের উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, নিয়মিত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে সাধারণত যে যে শারীরিক উপকারগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল...

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

বেশ কয়েকদিন ধরে খাবারের প্লেটে ঝর তোলার পর এখন কি পেটের হাল বেজায় বেহাল? তাহলে তো বন্ধু মেথি বীজের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি জলে বিজিয়ে নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে একদিকে যেমন পেট খারাপের মতো রোগ সেরে যায়, তেমনি কনস্টিপেশন এবং স্টমাক ইনফ্লেমেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বদ হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো রোগও দূরে পালায়। আসলে মেথি বীজে উপস্থিত ফাইবার এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

২. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মথি বীজ খাওয়া শুরু করলে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে আর্টারি ব্লক হয়ে গিয়ে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে হার্টের কর্মক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে কোনও ধরনের করনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে কমে যায়।

৩. শরীরের অন্দরে প্রদাহ কমায়:

৩. শরীরের অন্দরে প্রদাহ কমায়:

ইন্টারন্যাশনাল ইমিউনোফার্মাকোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে মেথি বীজে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর প্রদান এত মাত্রায় কমিয়ে দেয় যে মুখের আলসার, ফোঁড়া, ব্রঙ্কাইটিস, টিউবারকুলোসিস, সর্দি-কাশি এবং ক্যান্সারের মতো রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে কিডনির কর্মক্ষমতাও বাড়ে।

৪. মায়ের দুধের জোগান বাড়ায়:

৪. মায়ের দুধের জোগান বাড়ায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যেসব মায়েরা এখনও বাচ্চাদের মায়ের দুধ খাইয়ে থাকেন, তারা যদি নিয়িমত মেথি বীজ খেতে পারেন, তাহলে দুধের জোগান বেশ বেড়ে যায়। এই কারণেই তো প্রসবের পর অনেক মাকেই চিকিৎসকরো নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫. যন্ত্রণা কমায়:

৫. যন্ত্রণা কমায়:

কোথাও কেটে গেলে বা পেশীতে চোট লাগালে সেখানে যদি অল্প করে মেথি বীজ লাগানো যায়, তাহলে যন্ত্রণা কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে মেথিতে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, যা জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, একজিমা, গাউট এবং পায়ের আলসারের মতো রোগ সারাতেও মেথি বীজ বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে:

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে:

বেশ কিছু আয়ুর্বেদ গ্রন্থে এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে ইমিউনিটি এতটা বেড়ে যায়, যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৭. ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৭. ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

পরিবারে যদি ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে এখন থেকেই মেথি বীজ খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ একাধিক স্টাডিতে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে এই প্রকৃতিক উপাদানটি ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

৮.ওজন হ্রাসে সাহায্য করে:

৮.ওজন হ্রাসে সাহায্য করে:

শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলতে বাস্তিবিকই সাহায্য করে এই প্রকৃতিক উপাদানটি। আসলে মেথি বীজের অন্দরে থাকা পুষ্টিকর উপাদানেরা এত মাত্রায় হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার সুযোগই পায় না।

Read more about: রোগ শরীর
English summary

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দূষিত পরিবেশ এবং ভেজাল খাবারের রাজ্যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, যদি প্রতিদিন মেথি বীজ খাওয়া যায় তো! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির মধ্যে রয়েছে ৩৫.৫ ক্যালরি, ৬.৪ গ্রাম প্রোটিন, ০.৭ গ্রাম ফ্যাট, ২.৭ গ্রাম ফাইবার এবং ৩.৭ মিলিগ্রাম আয়রন।

Ayurveda is a goldmine of health benefiting ingredients. Many of them can also be used in myriad ways to arrive at potions and concoctions to tackle some of the severest of ailments. The potency of herb-infused waters is unquestionable. Herbs and ingredients like cumin seeds and carom seeds have long been put to use by soaking these overnight and consuming the water the first in the morning. The humble methi dana or fenegreek seeds is another similar ingredient which has long been included and lauded in the Ayurvedic repertoire of herbal remedies. These tiny, amber-coloured seeds are packed with nutrients essential for the body and properties that help tackle a range of common ailments.
Story first published: Wednesday, January 3, 2018, 15:45 [IST]