মদ্যপান ছাড়তে চান নাকি?

ফাঁদে পরাটা ভয়ের নয়। বরং ভয়ের বিষয় হল সেই ফাঁদ থেকে বেরনোর রাস্তা না পাওয়া। তাই তো যারা মদ্যপানের ফাঁদে পরে দিশাহারা, তাদের পথ দেখাতে আজ এই প্রবন্ধে লেখা।

By Nayan

ফাঁদে পরাটা ভয়ের নয়। বরং ভয়ের বিষয় হল সেই ফাঁদ থেকে বেরনোর রাস্তা না পাওয়া। তাই তো যারা মদ্যপানের ফাঁদে পরে দিশাহারা, তাদের পথ দেখাতে আজ এই প্রবন্ধে এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে অ্যালকোহল আর আপনাকে কোনও দিন কষ্ট দিতে পারবে না।

সরকারি পরিসংখ্যানের দিকে নজর ফেরালে বুঝতে পারবেন গত কয়েক বছরে অ্যালকোহলের পানের কারণে আমাদের দেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বে কিভাবে মৃত্যু সংখ্যাটা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পয়েছে। আসলে অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের প্রায় প্রতিটি অংশেরই ক্ষতি করে থাকে। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই সাবধান হওয়ার সময় মনে হয়ে এসে গেছে বন্ধুরা!

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অ্যালকোহলের নেশা ছাড়াতে বেশ কিছু প্রকৃতিক উপাদান দারুন কাজে আসে। তাই আপনি যদি এই কুঅভ্যাস থেকে দূরে যেতে চান, তাহলে এখনই এই প্রবন্ধেটি আপনাকে পড়ে ফলতে হবে। কারণ এই লেখায় সেই সব প্রাকৃতিক ঔষধির উপর আলোকপাত করা হল, যা মদ্যপানের ইচ্ছাকে কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১. আঙুর:

১. আঙুর:

কেমন মজার বিষয় দেখুন। যে আঙুরকে কাজে লাগিয়ে মদ বানানো হয়ে থাকে, সেই একই ফলকে কাজে লাগিয়ে মদ্যপানের নেশা ছাড়ানোও সম্ভব। আসলে কী জানেন, আঙুরের শরীরে উপস্থিত পটাশিয়াম সহ একাধিক উপকারি উপাদান শরীরের অন্দরে অ্যালকেলাইন ব্যালেন্স ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে মদ খাওয়ার ইচ্ছা কমায়। সেই সঙ্গে লিভারের ক্ষত সারাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে আঙুরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপাটিজ রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

২. করলার রস:

২. করলার রস:

মদ ছাড়তে চান নাকি? তাহলে কিন্তু মশাই আজ থেকেই করলার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে হবে। কারণ বাটার মিল্কের সঙ্গে করলার রস মিশিয়ে খাওয়া শুরু করলে মদ খাওয়া ইচ্ছা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মদ খাওয়ার কারণে লিভারে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তার চিকিৎসাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক কথায় করলা শুধু মদ খাওয়া ইচ্ছা কমায় না, সেই সঙ্গে শরীরকে ভিতর থেকে চাঙ্গা করে তোলে।

৩. আপেল:

৩. আপেল:

বেশি মাত্রায় মদ খাওয়ার কারণে শরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে, যা নানাভাবে শরীরের ক্ষতি করে থাকে। এমনকী লিভারের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। এই টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মদ খাওয়ার ইচ্ছা কমাতে আপেল দারুনভাবে কাজে আসে। তাই মদ্যপান ছাড়ার কথা যদি ভেবে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন একটা করে আপেল খেতে ভুলবেন না যেন!

৪. খেজুর:

৪. খেজুর:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে নিয়মিত খেজুর ভেজানো জল খাওয়া শুরু করলে মদ্যপান ছাড়তে একেবারেই কষ্ট হয় না। শুধু তাই নয়, খেজুর আরও নানাভাবে শরীরের কাজে লেগে খাকে। যেমন পেটের রোগ সারাতে এই ফলটির কোনও বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে ওজন কমাতে, কনস্টিপেশন দূর করতে, রক্তচাপ কমাতে এবং অ্যানিমিয়ার মতো রোগের চিকিৎসাতেও খেজুর বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. বাদাম:

৫. বাদাম:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে ধীরে ধীরে মদ খাওয়ার ইচ্ছা কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, বাদাম আরও নানাভাবে শরীরে উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন-বাদামে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। সেই সঙ্গে ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে, ব্রেন পাওয়া বাড়ায়, রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

৬. ফলের রস:

৬. ফলের রস:

মদ খাওয়ার ইচ্ছা কমাতে ফলের রসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো এবার থেকে যখনই মদ খেতে ইচ্ছা করবে, তখনই এক গ্লাস ফলের রস খেয়ে নেবেন। দেখবেন মদ খাওয়ার ইচ্ছা একেবারে কমে যাবে। এখন নিশ্চয় ভাবছেন কোন ফলের রস খাওয়া যেতে পারে, তাই তো? এত ভাবার কিছু নেই। কারণ এক্ষেত্রে যে কোনও ফলের রস খাওয়া চলতে পারে।

৭. লেবু এবং মধু:

৭. লেবু এবং মধু:

প্রতিদিন এক গ্লাস গরম জলে পরিমাণ মতো মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেলে মদ খাওয়ার ইচ্ছা একেবারে কমে যায়। আসলে এক্ষেত্রে মধুতে উপস্থিত ফ্রকটোজ এবং চিনি শরীরের ভিতরে অ্যালকোহলের শেষ চিহ্নটুকু পর্যন্ত মুছে ফেলে। ফলে শরীর তো চাঙ্গা হয়ে ওঠেই, সেই সঙ্গে মদ্যপানের ইচ্ছাও কমে।

Story first published: Friday, October 27, 2017, 16:16 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion