লেটুস শাক খান তো?

Written By:
Subscribe to Boldsky

বাঙালির প্রিয় এই শাকটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে যুব সমাজের কাছে। তবে শুধু লেটুস নয়, আজকাল প্রায় কোনও শাকই মুখে তালতে চায় না ভাজাভুজি প্রিয় জেন ওয়াইরা। ফলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয় দেহের অন্দরে। আর এমনটা হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে শরীর।

একাধিক গবেষণা দেখা গেছে লেটুস শাকে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান, যেমন ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ফলেট, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, এ, ই এবং কে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলস্টেরলের মাত্রা যেমন কমায়। সেই সঙ্গে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে, ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে, ইনসমনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। দাঁড়ান দাঁড়ান এখানেই শেষ নয়, সপ্তাহে ২-৩ দিন নিয়ম করে লেটুস পাতা খাওয়া শুরু করলে মেলে আরও অনেক উপকারিতা। যেমন...

১. শরীরে প্রদাহের মাত্রা কমে:

১. শরীরে প্রদাহের মাত্রা কমে:

নানা কারণে আমাদের শরীরের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা বাড়াতে শুরু করলে কোষেদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে একাধিক অঙ্গের কর্মক্ষমতাও কমতে শুরু করে। সেই কারণেই তো রোজের ডেয়েটে লেটুস শাখকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। আসলে এই প্রকৃতিক উপদানটির অন্দরে উপস্থিত একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে শরীরের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, এই শাকটির অন্দরে লাইপক্সিজেনেস এবং ক্যারেজেনান নামক দুটি উপাদান থাকে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. ব্রেন সেলেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

২. ব্রেন সেলেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিউরনদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে লেটুস শাকের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আর একবার নিউরনদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে, তেমনি অ্যালজাইমার্স মতো ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। তাই যাদের পরিবারে এই ধরনের মস্তিষ্কঘটিত রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা রোজের ডায়েটে লেটুস শাককে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না যেন!

৩. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

৩. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা বাড়তে থাকলে হার্টের উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে নানাবিধ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই তো লেটুস শাকের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানো মাস্ট! কারণ বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই শাকটি খাওয়া শুরু করলে খারাপ কোলস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪.অনিদ্রার সমস্যা দূর করে:

৪.অনিদ্রার সমস্যা দূর করে:

রাতে কি ঠিক মতো ঘুম আসতে চায় না? ঘুম এলেও ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে ভেঙে যায় ঘুম? তাহলে তো বন্ধু আজ থেকেই লেটুস শাক খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এই শকটির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। প্রসঙ্গত, এই হরমোনটির ক্ষরণ যত বাড়তে থাকে, তত ঘুম আসতে শুরু করে। ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা দূরে পালাতে সময়ই লাগে না।

৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ঘাটতি মেটায়:

৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ঘাটতি মেটায়:

শরীরকে সুস্থ এবং রোগমুক্ত রাখতে এই উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো শরীরে যাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি কোনও সময় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু এই কাজটি করবেন কিভাবে, সে বিষয়ে কোনও জ্ঞান আছে? প্রতিদিন লেটুস শাক খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি কোনও সময় হবে না। প্রসঙ্গত, শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমায়:

৬. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমায়:

লেটুস শাকে প্রচুর মাত্রায় রয়েছে অ্যানজিওলাইটিক প্রপাটিজ, যা স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি লেভেল কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কারণেই তো স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা বাড়লে লেটুস পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, বর্তমান সময় যুবসমাজের মধ্যে স্ট্রেস এবং সেই সংক্রান্ত নানা রোগের প্রকোপ যে হারে বাড়ছে, তাতে লেটুস শাখ খাওয়ার প্রয়োজনও যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

৭. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

৭. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লেটুস পাতার রস খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর মাত্রা এতটা বৃদ্ধি পায় যে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর টক্সিক উপাদানদের খুঁজে খুঁজে বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারে কাছে ঘেঁষারও সুযোগ পায় না। প্রসঙ্গত, ব্রেস্ট এবং লিউকেমিয়ার মতো ক্যান্সারকে দূরে রাখতে লেটুস শাক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: রোগ শরীর
    English summary

    বাঙালির প্রিয় এই শাকটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে যুব সমাজের কাছে। তবে শুধু লেটুস নয়, আজকাল প্রায় কোনও শাকই মুখে তালতে চায় না ভাজাভুজি প্রিয় জেন ওয়াইরা। ফলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয় দেহের অন্দরে। আর এমনটা হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে শরীর।

    The health benefits of lettuce include lower cholesterol levels, prevention of cancer, protection of neurons, regular sleep, anxiety control, lower inflammation, and a constant supply of antioxidants.
    Story first published: Saturday, January 6, 2018, 11:28 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more