প্রতিদিন আদা জল খেলে কী উপকার পেতে পারেন জানেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

ছোট বেলায় আমার এক মাস্টার মশাই ছিলেন। তিনি প্রতি পরীক্ষার আগে একটা কথা প্রায়ই বলতেন,"এবার কিন্তু আদা জল খেয়ে লেগে পরতে হবে নয়ন। পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে হবে তো!" উনি বলতেন বটে। তবে কোনও দিনই আদা জল খেয়ে ওঠা হয় নি। আর কেনই বা খাবো বলুন! পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট কিভাবে আদা জল খেয়ে হতে পারে, সে সম্পর্কে তো সে সময় কোনও জ্ঞানই ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি একটি রিপোর্ট চোখ পরতে যা বুঝলাম যে এ যাবৎ একবারও আদা জল না খেয়ে বেশ ভুল কাজই করেছি। কারণ কেন জানেন?

কেন এমন কথা কেন বলছেন? কী এমন আছে আদা জলে? সম্প্রতি একটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে আদার অন্দরে প্রচুর উপকারি উপাদান রয়েছে। তাই তো এটি নিয়মিত জলে ভিজিয়ে খেলে ভিতর থেকে শরীরের ক্ষমতা এমন বৃদ্ধি পায় যে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। আর এই শীতকালে এমনিতেই ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষতিকর জীবাণুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে শরীরকে সুস্থ রাখতে আদা জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

কীভাবে বানাতে হয় আদা জল?

পরিমাণ মতো জল নিয়ে তাতে আদা ফেলে দিয়ে জলটা কিছুটা সময় ফুটিয়ে নিন। যখন দেখবেন জলটা বেশ ভাল রকম ফুটতে শুরু করেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে জলটা ছেঁকে নিন। তারপর তাতে অল্প করে লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে পান করুন। প্রসঙ্গত, নিয়মিত যদি এই পানীয়টি পান করা যায়, তাহলে কিডনির ক্ষমতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে আর্থ্রাইটিস এবং অ্যালার্জির প্রকোপও কমতে শুরু করে। তবে এখানেই শেষ নয়, আদা জল আরও নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন...

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত সকাল বেলা যদি এক গ্লাস করে আদা জল পান করা যায়, তাহলে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে পাচক রসের ক্ষরণ বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, গর্ভাবস্থায় সকাল সকাল যদি এই পানীয়টি খাওয়া শুরু করতে পারেন, তাহলে মর্নিং সিকনেসের মতো সমস্যা একেবারে কমে যায়।

২. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

২. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

নিয়মিত আদা জলের সঙ্গে অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করলে একদিকে যেমন কিডনির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। এই খনিজটি ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা এত মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় যে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না।

৩. ওজন হ্রাস করে:

৩. ওজন হ্রাস করে:

অতিরিক্ত ওজনের কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে উপদেশ দেব আজ থেকেই আদা জল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে! আসলে আদার অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান ক্ষিদে কমিয়ে দেয়। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্তও মেদও ঝরতে শুরু করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসতে একেবারেই সময় লাগে না।

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

আদায় উপস্থিত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন, যা ত্বকের অন্দের জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে কোলাজেনের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করে। প্রসঙ্গত, এই মশলাটিতে থাকা ভিটামিন এ এবং সি চুলের সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ত্বকের উপর বয়সের ছাপ না পরুক, এমনটা যদি চান, তাহলে নিয়মিত আদা জল খেতে ভুলবেন না যেন!

৫. ব্রেন পাওয়ার বাড়ায়:

৫. ব্রেন পাওয়ার বাড়ায়:

একাদিক গবেষণায় একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে আদায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারি ভিটামিন, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যাতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তি বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বুদ্ধিরও বিকাশ ঘটে চোখে পরার মতো। এবার বুঝতে পরেছেন তো পরীক্ষার আগে আমার সেই মাস্টার মশাই কেন আদা জল খাওয়ার কথা এত বলতেন!

৬. পেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৬. পেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

সারা সপ্তাহ দৌড়-ঝাঁপ করে কাজ করতে করতে সপ্তাহান্তে আমাদের শরীরের প্রায় প্রতিটি পেশীই বেশ ক্লান্ত হয়ে পরে। এই সময় তাদের চাঙ্গা করার জন্য কি করা যেতে পারে? কিছুই নয়, এমন পরিস্থিতিতে এক গ্লাস আদা জল পান করে ফেলুন। এমনটা করলে দেখবেন নিমেষে শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠবে। আসলে আদা, পেশীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো বডি বিল্ডারদেও আদা জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Ginger is a perennial root which creeps and spreads underground in tuberous joints. The underground part of the stem, known as the rhizome, is the part that is most commonly used as a spice and is often referred to as the ginger root. Ginger has been used in Ayurveda and homeopathic and traditional medicine for long. Its healing powers have been embraced by many cultures. This medicinal root packs a powerful nutritional punch and is loaded with minerals including potassium, manganese, copper and magnesium.
Story first published: Friday, December 1, 2017, 11:49 [IST]