চটজলদি ওজন যদি কমাতে চান তাহলে খেতে হবে এই সবজি এবং ফলগুলি!

চটজলদি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে খাবার খেতে হবে পরিমিত হারে। সেই সঙ্গে জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি জাতীয় খাবার এবং রেড মিটকে একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে।

চটজলদি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে খাবার খেতে হবে পরিমিত হারে। সেই সঙ্গে জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি জাতীয় খাবার এবং রেড মিটকে একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু তাই নয়, রোজের ডেয়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলিকে। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

তাহলে অপেক্ষা কিসের। চলুন চোখ রাখা যাক বাকি প্রবন্ধে এবং জেনে নেওয়া যাক সেই সব সবজি এবং ফলগুলি সম্পর্কে, যা ওজন তো কমাবেই, সেই সঙ্গে শরীরের গঠনেও বিশেষ ভূমিকা নেবে! শুধু তাই নয়, পুনরায় যাতে ওজন না বাড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখবে।

প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে খাবারগুলি নিয়মিত খেতে হবে, সেগুলি হল...

১. মুলো:

১. মুলো:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন! রোজের ডায়েটে এই সবজিটি রাখে বাস্তবিকই ওজন কমতে সময় লাগে না। কারণ মূলোয় উপস্থিত ফাইবার বহুক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে অল্প সময় অন্তর অন্তর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ফলে শরীরে প্রবেশ কম মাত্রায় ঘটে। আর এমনটা হওয়া মাত্র ওজনও যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! প্রসঙ্গত, মুলোর তরকারি বানিয়ে যেমন খেতে পারেন, তেমনি জুস হিসেবেও গ্রহণ করতে পারেন। মধ্যা কথা যে ভাবেই এই সবজিটি খান না কেন ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে!

২. বিটরুট:

২. বিটরুট:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন! প্রতিদিন এক গ্লাস করে বিট রুটের রস খেলে একদিকে যেমন শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়, তেমনি মেটাবলিজম রেট বাড়তে শুরু করে। ফলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা তো কমেই। সেই সঙ্গে শরীরের ইতি-উতি জমে থাকা মেদও ঝরে যেতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল, বিটরুটের সরবত বানাবেন কীভাবে? এক্ষেত্রে ১ টো মিডিয়াম সাইজের বিটরুট মিক্সিতে ফেলে, তার সঙ্গে ২ টো গাজর, ২ টো কমলা লেবু, ১ টা লেবু এবং এক চিমটি নুন মিশিয়ে ভাল করে মিক্স করে নিতে হবে। তাহলেই আপনার বিটরুটের রস তৈরি হয়ে যাবে!

৩. করলা:

৩. করলা:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে করলার অন্দরে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু কান্ড ঘটায় যে ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেহের ফ্যাট বার্নিং প্রসেসও জোড় কদমে চলতে থাকে। ফলে অতিরিক্ত ওজন কমে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ডায়েবেটিসের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে প্রতিদিন এক গ্লাস করে করলার রস খেতে হবে। তাহলেই দেখবেন এক সপ্তাহে ফল মিলতে শুরু করেছে।

৪. কমলা লেবু:

৪. কমলা লেবু:

এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরের গঠনে এরটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, কমলা লেবুতে ক্যালরি একেবারেই থাকে না। তাই তো ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরকে চাঙ্গা রাখতেও এই ফলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৫. শসা:

৫. শসা:

জলে পরিপূর্ণ হওয়ার কারণে শরীরে জলের পরিমাণ ঠিক রাখার পাশাপাশি অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে এই ফলটি সাহায্য করে। তাতে অকারণ জাঙ্ক ফুড বা খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে, সেই সঙ্গে কমে ওজন বাড়ার আশঙ্কাও। প্রতিদিন তাই এমনি এমনি অথবা স্যালাড হিসেবে শসা খাওয়া চাইই-চাই।

৬. শতমূলী:

৬. শতমূলী:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, কিন্তু ক্য়ালোরি রয়েছে একেবারে কম। তাই তো শতমূলী শাক খেলে অনেক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে বারে বারে খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য়কর ওজন ধরে রাখাও সম্ভব হয়।

৭. বাঁধাকপি:

৭. বাঁধাকপি:

এই সবজিটিতে খুব কম মাত্রায় ক্যালরি রয়েছে। তাই তো বাঁধাকোপি খেলে পেট তো ভরেই, সেই সঙ্গে ওজনও বাড়ে না।

৮. পালং শাক:

৮. পালং শাক:

শাকটি খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালরির মাত্রা তো বাড়েই না, উল্টে ভিটামিন কে, এ, সি, ফলেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, প্রোটিন এবং জিঙ্কের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। আর এই সবকটি উপাদান দেহের অন্দরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাওয়ার প্রবণতা কমে। আর কম খেলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে।

৯. গাজর:

৯. গাজর:

এতে রয়েছে ভরপুর পুষ্টিকর উপাদান, আর ক্যালরি রয়েছে একেবারে নামমাত্র। তাই তো গাজর খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বেশি বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। আর আমরা কম খাব তো কী হবে? ওজন কমবে!

১০. ব্রকলি:

১০. ব্রকলি:

ফাইবার এবং ভিটামিন প্রচুর মাত্রায় থাকার কারণে ওজন কমাতে এই সবজিটি দারুন ভাবে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ওজন কমাতে যদি আপনি বদ্ধপরিকর হন, তাহলে আজ থেকেই ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন এই সবজিটিকে।

১১. আপেল:

১১. আপেল:

কথায় আছে না, "প্রতিদিন একটা করে আপেল খেলে আর কোনও দিন ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না"। বাস্তবিকই এই ফলটি শুধু ওজন কমায় না, সেই সঙ্গে আরও নানাভাবে শরীরের কাজে লাগে। কারণ কী জানেন? এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন এবং এসেনশিয়াল তেল। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা যে এই সবকটি উপাদানই শরীরের গঠনে অতি আবশ্যক উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম।

১২. তরমুজ:

১২. তরমুজ:

শসার মতোই এই ফলটিতেও জলের মাত্রা বেশি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিপুল মাত্রায় পুষ্টিকর উপাদান। আর ক্যালরি রয়েছে একেবারে কম। তাই তো প্রতিদিনের ডায়েটে তরমুজ রাখলে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারেই তাকে না। সেই সঙ্গে ওজনও হ্রাস পায়।

১৩. সেলারি শাক:

১৩. সেলারি শাক:

এটি আরেকটি খাবার যাতে জলের পরিমাণ রয়েছে অনেকটা শসার মতই। কিন্তু ক্যালরি রয়েছে একেবারে কম। তাই তো ওজন কমানোর পাশাপাশি ঠিক ওজন ধরে রাখতেও এই শাকটি দারুন ভাবে সাহায্য করে।

১৪. পেঁয়াজ:

১৪. পেঁয়াজ:

একদম ঠিক শুনেছেন, পেঁয়াজও আপনার মেদ ঝড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কীভাবে? এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, এসেনশিয়াল অয়েল এবং খনিজ, যা হজম ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগই থাকে না।

Story first published: Thursday, May 24, 2018, 17:36 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion