সারা দিন ধরে আধ ঘন্টা অন্তর অন্তর দু চুমুক করে গরম জল পান করুন তারপর দেখুন কী হয়!

Subscribe to Boldsky

জল খেলে প্রাণ থাকবে...একথা তো সবারই জানা। কিন্তু একটু ছেঁকে দেখলে জানতে পারবেন, জলের প্রকৃতি বদলে যাওয়ার সঙ্গেও কিন্তু আমাদের শরীরের ভাল-মন্দের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই তো ঠান্ডা নয়, বরং গরম জলের সঙ্গে বন্দুত্ব পাতানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু বাস্তবের নিরিখে সারাদিন ধরে গরম জল পান করা সত্যিই সম্ভব নয়। কারণ অর্ধেক ভারতে তো আট মাস গরম থাকে, তার উপর ঘাম। এমন পরিস্থিতিতে গরম জল তো বিষের সমান, কি তাই না!

ঠিক। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে আমাদের চারিপাশের পরিবেশে যে হারে বিষাক্ত উপাদানের পরিমাণ বাড়ছে। তাতে সেই বিষকে মারতে গরম জল নামক বিষ খাওয়া ছাড়া যে আরও কোনও উপায় নেই, তা তো বলাই বাহুল্য! আসলে কেন এমন কথা বলছি জানেন? কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সারা দিন ধরে বারে বারে অল্প অল্প করে গরম জল খেলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে রোগ নামক সব ভিলেনরা একে একে কুপকাত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক শারীরিক উপকার। যেমন ধরুন...

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে খাবার খাওয়ার পর ঠান্ডা জল খেলে পাকস্থলীর ভিতরের দেওয়ালে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা কমে যায়। সেই সঙ্গে ইন্টেস্টিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই তো খাবার পর পর ঠান্ডা জলের পরিবর্তে হালকা গরম জল খাওয়া পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে ঠান্ডা জলের কারণে সাধারণত যে যে সমস্যাগুলি হয়ে থাকে সেগুলি গরম জল খেলে একেবারেই হয় না। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কোনও সুযোগই পায় না।

২. পিরিয়ডের সময়কার কষ্ট দূর হয়:

২. পিরিয়ডের সময়কার কষ্ট দূর হয়:

বেশ কিছু স্টাডির পর একথা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে পিরিয়ডের সময়কার মেনস্ট্রয়াল ক্র্যাম্পের প্রকোপ কমাতে গরম জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সময় গরম জল পান করা শুরু করলে অ্যাবডোমিনাল মাসলের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে কষ্ট কমতে সময় লাগে না।

৩. খুশকির মতো ত্বকের রোগ দূরে পালায়:

৩. খুশকির মতো ত্বকের রোগ দূরে পালায়:

একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু! বাস্তবিকই খুশকির প্রকোপ কমাতে গরম জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চসে। আসলে সারা দিন ধরে গরম জল পান করলে নানা কারণে স্কাল্পের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে। ফলে এমন ধরেনর ত্বকের রোগের থেকে নিস্তার পেতে সময় লাগে না।

৪. যে কোনও ধরনের ব্যথা কমে যায়:

৪. যে কোনও ধরনের ব্যথা কমে যায়:

আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত এক গ্লাস গরম জলে, পরিমাণ মতো আজোয়ান ফেলে পান করা শুরু করলে যে কোনও ধরনের ব্যথা কমে যেতে সময় লাগে না, বিশেষত মাথা যন্ত্রণা এবং বডি পেন কমাতে এই পানীয়টির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আর যদি হাতের কাছে আজোয়ান নাও বা থাকে কোনও ক্ষতি নেই। শুধু গরম জল পান করলেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়!

৫. ত্বক অপূর্ব সুন্দর হয়ে ওঠে:

৫. ত্বক অপূর্ব সুন্দর হয়ে ওঠে:

সারা দিন ধরে অল্প অল্প করে গরম জল খেতে থাকলে একদিকে যেমন দেহের অন্দরে জলের ঘাটতি দূর হয়, তেমনি শরীরের ভিতরে নানা পরিবর্তন হতে শুরু করে, যার প্রভাবে ড্রাই স্কিনের সমস্যা তো দূর হয়ই, সেই সঙ্গে ত্বকের অন্দরে রক্ত প্রবাহের মাত্রা বাড়তে শুরু করায় স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো। ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, ফর্সা ত্বকের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্নও পূরণ হয়।

৬. শরীরের বয়স কমে:

৬. শরীরের বয়স কমে:

গরম জল স্কিন সেলের ক্ষত সারিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে ত্বক টান টান হয়ে ওঠে এবং বলিরেখাও হ্রাস পায়। ফলে বয়সের কোনও ছাপই ত্বকের উপর পরতে পারে না। প্রসঙ্গত, শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমে, তত শরীর এবং ত্বকের বয়সও হ্রাস পায়। আর গরম জল যে এ কাজটা ভাল ভাবেই করে তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না!

৭. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

৭. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গরম জল খাওয়া শুরু করলে প্রতিটি হেয়ার সেলের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে হেয়ার ফলের মাত্রা তো কমেই, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

৮. শরীর বিষ মুক্ত হয়:

৮. শরীর বিষ মুক্ত হয়:

যখন আমাদের রক্তে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে তখন কিডনিকে ওভার টাইম করে শরীর থেকে সেই টক্সিক উপাদনদের বার করে দিতে হয়। না হলেও হাজারো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রেও গরম জল নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। গরম জল খাওয়া মাত্র শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ঘাম হতে শুরু হয়। আর ঘামের মাধ্য়মে টক্সিনগুলি বেরিয়ে যেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, গরম জলে যদি অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এক্ষেত্রে আরও উপকার পাওয়া যায়।

৯. ব্রণর মতো ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে:

৯. ব্রণর মতো ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে:

শরীরের অন্দরে ময়লা যত কম জমবে, তত ব্রণর বাড়বাড়ন্তও হ্রাস পাবে।। আর গরম জল যে টক্সিনের বিরোধী, তা নিশ্চয় আর জানতে বাকি নেই! তাই ব্রণর প্রকোপ কমাতে সকাল বিকাল গরম জল পান শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই ব্রণ এবং পিম্পলের মতো ত্বকের রোগ একেবারে সেরে যাবে।

১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

অতিরিক্ত ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে আজ থেকেই গরম জল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ফল পাবেন একেবারে হাতে নাতে। আসলে গরম জল খেলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগই থাকে না। শুধু তাই নয়, গরম জল অ্যাডিপোস টিস্যু বা ফ্যাটেদের ভেঙে ফেলেও ওজন হ্রাসে সাহায্য করে।

১১. ঠান্ডা লাগা এবং গলা ব্যথার মতো রোগের প্রকোপ কমে যায়:

১১. ঠান্ডা লাগা এবং গলা ব্যথার মতো রোগের প্রকোপ কমে যায়:

এই ধরনের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় গরম জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। গরম জল এক্ষেত্রে রেসপিরেটারি ট্রাক্টকে পরিষ্কার করে ঠান্ডা লাগা এবং গলার অস্বস্তি কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বন্ধ নাকও পুনরায় সচল হয়ে যায়।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    11 Interesting Health Benefits of Drinking Hot Water

    most of us know by now that water is essential to our survival. We’ve probably also all heard doctors say that drinking roughly eight glasses a day is ideal. However, what most people don’t know is that warm water and hot water have some exclusive benefits of their own that you just can’t get when you drink water cold.Here are 11 benefits of drinking hot water you never knew...
    Story first published: Saturday, September 29, 2018, 13:34 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more