নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে শরীরের কত উপকার হয় জানা আছে?

একাধিক গবেষণা অনুসারে সপ্তাহে ১-২ দিন নিয়ম করে রাঙা আলু খাওয়া শুরু করলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না। কারণ এই সবজিটির অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে।

বাজার গিয়ে চোখ ফেরালেই লাল-লাল রাঙা আলুর দিকে নজর পরতে বাধ্য! এবার থেকে যখনই এই সবজিটি চোখে পরবে অমনি ব্য়াগ ভর্তি করে কিনে আসবেন। আর বানিয়ে ফলবেন নানা মুখরোচক পদ। কেন এমন পরামর্শ দিচ্ছি, তাই ভাবছেন তো? আসলে একাধিক গবেষণা অনুসারে সপ্তাহে ১-২ দিন নিয়ম করে রাঙা আলু খাওয়া শুরু করলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না। কারণ এই সবজিটির অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। তাই তো চিকিৎসকেরা বলে সারা সপ্তাহ ঠিক মতো না খেলেও শরীরের কোনও ক্ষতি হবে না, যদি একদিন বা দু দিন রাঙা আলুকে সঙ্গী বানানো যায় তো!

কী এমন উপকারে লাগে এই সবজিটি? গবেষকদের মতে রাঙা আলুর শরীরে উপস্থিত নানা কার্যকরী উপাদান হার্ট থেকে কিডনি, শরীরের প্রতিটি ভাইটাল অর্গ্যানের খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবে আয়ু তো বাড়েই, সেই সঙ্গে শরীরও তরতাজা হয়ে ওঠে। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে রাঙা আলু আমাদের শরীরের দেখভাল করে, সে সম্পর্কে...!

১. অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে:

১. অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে কয়েক দিন রাঙা আলু খাওয়া শুরু করলে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক মতো হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। তাই যারা এমন ধরনের রোগে ভুগছেন তারা মিষ্টি আলুকে সঙ্গী বানাতে ভুলবেন না যেন!

২. ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে থাকে:

২. ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে থাকে:

স্বাদে মিষ্টি হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে এই সবজিটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকে রয়েছে রাঙা আলু। তাই এই সবজিটি খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে সুগারের মাত্রা তো বাড়েই না, উল্টে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

আয়রন হল এমন একটি খনিজ যা শ্বেত এবং লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে ইমিউন সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়াতে দারুন কাজে আসে। আর এই খনিজটি প্রচুর পরিমাণে আছে রাঙা আলুতে। ফলে সপ্তাহে ১-২ বার এই সবজিটি খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৪. ওজন বৃদ্ধি পায়:

৪. ওজন বৃদ্ধি পায়:

আপনি কি বেজায় রোগা? তাহলে রোজের ডেয়েটে মিষ্টি আলুকে রাখতে ভুলবেন না যেন! কারণ নিয়মিত এই সবজিটি খেলে শরীরে কমপ্লেক্স স্টার্চ, ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বৃদ্ধি পেতে সময় সাগে না।

৫. ব্রেন পাওয়ার বাড়ে:

৫. ব্রেন পাওয়ার বাড়ে:

মানব মস্তিষ্কের অন্দরে থাকা নার্ভ সেলগুলি নিজেদের মধ্যে যত সুন্দরভাবে সিগনাল আদান প্রদান করবে, তত ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বুদ্ধি, মনোযোগ এবং মনে রাখার ক্ষমতাও। আর কীভাবে এমনটা সম্ভব হবে? এক্ষেত্রে পটাশিয়াম দারুনভাবে কাজে আসতে পারে। আর এই খনিজটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে রাঙা আলুতে। তাই কর্মক্ষেত্রে যদি সফল হতে চান, তাহলে আপনি জানেন আপনাকে কী করতে হবে।

৬. ক্যান্সারের মতো রোগকে প্রতিরোধ করে:

৬. ক্যান্সারের মতো রোগকে প্রতিরোধ করে:

আই সি এম আর-এর প্রকাশ করা রিপোর্ট আনুসারে আগামী ৩ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হবেন। আর এই সংখ্যাটা বছর বছরে বাড়তেই থাকবে। এমন অবস্থায় সাবধান না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ! তাই তো বাজারের থলিতে রাঙা আলুকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়াটা মনে হয় মাস্ট! কারণ এই সবজিটিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিনয়েড এবং ভিটামিন এ ক্যান্সার রোগকে আটকাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলি দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

৭. ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়:

৭. ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়:

দাঁত এবং হাড়কে শক্তপোক্ত করার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে এবং একাধিক সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে এই ভিটামিনটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। এখানেই শেষ নয়, একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ব্লাড সেলের ফর্মেশানেও ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. ভিটামিন বি৬-এ চাহিদা মেটায়:

৮. ভিটামিন বি৬-এ চাহিদা মেটায়:

এই ভিটামিনটি শরীরে ফরস্থিত একাধিক ক্ষতিকর কেমিকেলের প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। ফলে একাধিক ডিজেনারেটিভ ডিজিজ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্য়েরও উন্নতি ঘটায়। এমনটা হওয়ার কারণে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং একাধিক হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৯. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৯. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই সবজিটি খেলে পাচক রসের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। তাই হে খাদ্য়রসিক বাঙালি, গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় যদি জর্জরিত থাকেন,তাহলে এই সবজিটির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে সময় নেবেন না যেন!

১০. স্ট্রেসের মাত্রা কমে:

১০. স্ট্রেসের মাত্রা কমে:

রাঙা আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। এই খনিজটি আর্টারি এবং হার্টের পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রেস কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রকাশিত একাটি কেস স্টাডি অনুসারে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় গত এক দশকে স্ট্রেস সম্পর্কিত রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পয়েছে। তাই আপনার শরীরকে ছোঁয়ার আগে স্ট্রেসকে আটকে দিন, না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

১১. হাড়ের রোগকে দূরে রাখে:

১১. হাড়ের রোগকে দূরে রাখে:

রাঙা আলুতে উপস্থিত ভিটামিন ডি, হাড় এবং জয়েন্টকে মজবুত করে। ফলে বুড়ো বয়সে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, ভিটামিন ডি এনার্জি লেভেল বাড়ানোর পাশাপাশি হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে, নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

Story first published: Wednesday, May 23, 2018, 16:20 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion