নিয়মিত পনির না খেলে শরীরের কত ক্ষতি হয় জানেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

"দুধ না খেলে হবে না ভাল ছেলে"- চন্দ্রবিন্দুর এই গানটি শোনার পর ব্যান্ডে টিকি বাঁধা অনেক কম বয়সি ছেলে ছোকরা ইলেকট্রিক গিটার হাতে গ্লাসের পর গ্লাস দুধ পান করা শুরু করলেও পরিসংখ্যান বলছে আজও যুব সমাজের সিংহভাগই দুধের দিকে ফিরে তাকায় না। যে কারণে একদিকে যেমন হাড়ের রোগ বাড়ছে, তেমনি পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে রোগের ডিপো হয়ে উঠছে ২০-২৫ বছর বয়সের শরীরগুলো।

এখন প্রশ্ন হল, এক চুমুকে শেষ হয়ে যায় এমন একটা সুপার পাওয়ারফুল পানীয় খেতে সবাই এত নাক শিঁটকোন কেন? আসলে দুধ পান করার সময় কারও বিতকুটে গন্ধ লাগে, তো কারও কারও এই পানীয়ের স্বাদ না পাসান্দ! যদিও অযুহাতের লিস্টটা বেজায় লম্বা, তাই এই নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই। আসল বিষয়টি হল যাদের দুধ পানে অরুচি রয়েছে, তাদের নানাবিধ রোগের হাত রক্ষা করার কোনও উপায় আছে কি?

অবশ্যই আছে! দুধ খেতে ইচ্ছা করে না? কোনও চিন্তা নেই! দুধের ভাই আছে তো! দুধের ভাই, সে আবার কে? সেকি দুধের ভাই কে জানেন না! আরে মশাই পনিরের কথা বলছি, যাকে অনেকে কটেজ চিজ নামেও ডেকে থাকেন। দুধ দিয়ে তৈরি এই খাবারটি পুষ্টিগুণের দিক থেকে দুধের থেকে কোনও অংশ কম নয়। বরং গবেষণা বলছে পনিরে উপস্থিত প্রোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, উপকারি ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও পুষ্টকর উপাদান নানা দিক থেকে শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতেও পনির বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের দুধ খেতে ইচ্ছা করে না তারা পনিরের নানা পদ খেয়ে দেখতে পারেন। উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি। তবে ভাববেন না যে পনিরের ক্যারিশমা এখানেই শেষ হয়ে যায়। এই প্রবন্ধের বাকি অংশে দুধের এই "বাই প্রডাক্ট"টি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হল, যা পড়তে পড়তে আপনি অবাক হয়ে যাবেনই।

তাহলে আর অপেক্ষা কেন? চলুন খোঁজ লাগানো যাক পনিরের অন্দরে লুকিয়ে থাকা নানা অজানা বিষয় সম্পর্কে। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে প্রবেশ করার পর পনির নিজেকে ভেঙে দিয়ে এমন সব কাজে লাগে যা বাস্তবিকই অবাক করার মতো। যেমন ধরুন...

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে পনিরের অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ইমিউনিটি লেভেল বেড়ে গেলে ছোট-বড় নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একদিকে যেমন কমে, তেমনি সংক্রমণের কবলে পরার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

২. ওজন হ্রাসে সাহায্য় করে:

২. ওজন হ্রাসে সাহায্য় করে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পনিরে উপস্থিত লাইনোলেইক অ্যাসিড শরীরে প্রবেশ করার পর মেটাবলিজম রেট এতটা বাড়িয়ে দেয় যে শরীরে মেদ জমার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। তাই তো নতুন বছরে যদি ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর হন, তাহলে রোজের ডায়েটে পনিরের নানা পদ রাখতে ভুলবেন না যেন!

৩. স্ট্রোকের আশঙ্কা কমে:

৩. স্ট্রোকের আশঙ্কা কমে:

সাধারণত যে যে খনিজগুলির দেখা মেলে পনিরের শরীরে, তার মধ্যে অন্যতম হল পটাশিয়াম। এই খনিজটি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আর একবার রক্তচাপ যদি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তাহলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতেও এই খনিজটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

৪. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একদিকে যেমন হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, সেই সঙ্গে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনও বৃদ্ধি পায়। তাই তো প্রতিদিন এক গ্লাস করে দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ দুধে এই খনিজটি রয়েছে প্রচুর মাত্রায়, যা হাড়ের পুষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সমস্যাটা হল আপনি তো দুধ খেতে পছন্দ করেন না। তাহলে করবেন কী? সেক্ষেত্রে নিয়মিত পনির খাওয়া মাস্ট! কারণ দুধের মতো অত পরিমাণে না হলেও পনিরেও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, যা শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি মেটাতে দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে।

৫. প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়:

৫. প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়:

পেশীর উন্নতিতে যেমন কাজে লাগে, তেমনি শরীরের অন্দরে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে প্রোটিন। তাই তো দেহে যাতে এই উপাদানটি ঘাটতি কোনও ভাবেই না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে পনির। তাই যাদের মাছ-মাংস খাওয়ার সেভাবে সুযোগ নেই, তারা পনির খাওয়া শুরু করতে পারেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৬.রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

৬.রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

পনিরের অন্দরে মজুত পটাশিয়াম, দেহের অন্দরে প্রবেশ করার পর সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপ কমতে সময় লাগে না। আসলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা যত বাড়তে থাকে, তত সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৭. হজম শক্তির উন্নতি ঘটায়:

৭. হজম শক্তির উন্নতি ঘটায়:

অল্পতেই যাদের গ্যাস-অম্বল হয়ে যায়, তারা নিয়মিত পনির খেলে দারুন উপকার পেতে পারেন। আসলে এই খাবারটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস, যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে ডাইজেশান প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়,সেই সঙ্গে কোষেদের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৮. ব্রেস্ট ক্যান্সারকে দূরে রাখে:

৮. ব্রেস্ট ক্যান্সারকে দূরে রাখে:

পনিরে উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি শরীরের অন্দরে এমন খেল দেখায় যে ব্রেস্টে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার সুযোগই পায় না। প্রসঙ্গত, হাওয়ার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক টানা ১৬ বছর ধরে এই বিষয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। পরীক্ষাটি চলাকালীন তারা লক্ষ করেছিলেন ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই দুটি উপাদান প্রচুর মাত্রায় রয়েছে পনিরে। তাই এই দুগ্ধজাত খাবারটি সপ্তাহে বার দুয়েক খেলে কী উপকার মিলতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না।

৯. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:

৯. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:

পনির রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম। এই খনিজটি শরীরের অন্দরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা একদিকে যেমন হাড়ের গঠনে সাহায্য করে, তেমনি ব্রেন ফাংশনে উন্নতি ঘটায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ম্যাগনেসিয়ামের কারণে শরীরে ক্ষরিত হওয়া এনাজইমগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষণতার উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১০. ব্রেন ফাংশনের উন্নতি ঘটে:

১০. ব্রেন ফাংশনের উন্নতি ঘটে:

পনিরে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং রাইবোফ্লেবিন ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে যাতে এনার্জির ঘাটতি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। প্রসঙ্গত, রাইফ্লেবিনের পাশাপাশি পনিরে প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, থিয়ামিন, নিয়াসিন এবং ফলেট নামেও বিশেষ কিছু উপাদানের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। এই উাপাদানগুলি হজম কক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে, রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বাজে কোলেস্টরলের পরিমাণ কমাতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Read more about: রোগ শরীর
English summary

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে প্রবেশ করার পর পনির নিজেকে ভেঙে দিয়ে এমন সব কাজে লাগে যা বাস্তবিকই অবাক করার মতো। যেমন ধরুন...

Paneer, also known as cottage cheese, is a dairy product which is made by curdling the milk with the help of lemon or vinegar and then draining the liquid. Not only is it delicious and an integral part of some of the most popular dishes of Indian cuisine, it is also a very good source of calcium, protein and healthy fats that help in improving the functioning of the body.Here are some of the surprising health benefits of this Indian dietary staple.
Story first published: Tuesday, January 16, 2018, 15:55 [IST]