ওয়ার্ল্ড নো টোবাকো ডে: এক মাসের মধ্যে ধূমপানের নেশা থেকে মুক্তি পেতে চান কি?

Subscribe to Boldsky

আগামী কাল ওয়ার্ল্ড নো টবাকো ডে। ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বজুড়ে আরও একবার শুরু হয়ে গেছে ধূমপানের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে আলোচনা, যা হয়তো চলবে আগামী কাল সারা দিন ধরে। কিন্তু তারপর...

তারপর আবার কী! বাকি বছরগুলির মতো আবার সবাই ভুলে যাবে ধূমপানের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে। আর একদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যুপথযাত্রী হবেন! কিন্তু মজার বিষয় কি জানেন! প্রতি বছর যত জন মানুষ এমন নেশার খপ্পরে পরেন, তার থেকে অনেক বেশি সংখ্যক এই মারণ অভ্যাসকে ত্যাগ করতে চান! কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। আসলে ধূমপানের নেশা ছাড়াতে বাজার চলতি যে পদ্ধতিগুলি রয়েছে, তা বেশিরভাগই সেভাবে কোনও কাজে আসে না। সেই সঙ্গে যোগ হয়, নেশার প্রতি প্রবল আকর্ষণ। ফলে বছরের শুরুতে যত জন ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে বিপ্লব ঘোষণা করেন, বছর শেষে আদতে কতজন সেই লক্ষ পূরণ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়!

তবে আর চিন্তা নেই। কেন জানেন? কারণ যারা স্মোকিং ছাড়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর, তাদের সাহায্য করতে আজ এই প্রবন্ধে এমন কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা বাস্তবিকই এক্ষেত্রে দারুন কাজে আসে। শুধু একটাই অনুরোধ, ধৈর্য ধরে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে কাজে লাগিয়ে যেতে হবে, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

কী কী ঘরোয়া পদ্ধতি এক্ষেত্রে কাজে আসে?

১. গোলমরিচ:

১. গোলমরিচ:

ধূমপানের নেশা ছাড়াতে বাস্তবিকই গোলমোরিচের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদনটি খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে একদিকে যেমন স্মোক করার ইচ্ছা কমে যায়, তেমনি ধূপমান করার শরীরের যা যা ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাবও কমতে শুরু করে। ফলে কোনও জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। তাই তো বলি বন্ধু, চটজলদি যদি এমন নেশার খপ্পর থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে নিয়মিত গোলমরিচ খেতে ভুলবেন না যেন!

২. এলাচ:

২. এলাচ:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন বন্ধু! সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা কমাতে বাস্তবিকই এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে এলাচকে? কিছুই না যখন ধূমপান করতে মন চাইবে, তখন ২-৩ টে এলাচ মুখে ফেলে দেবেন। দেখবেন নিমেষে স্মোক করার ইচ্ছা চলে যাবে, সেই সঙ্গে শরীরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

৩. আঙুরের রস:

৩. আঙুরের রস:

নিকোটিনের কারণে শরীরের ভিতরে জমতে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যেতে শুরু করলে একদিকে যেমন ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও কমতে শুরু করে। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আঙুরের রস। কারণ এতে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান এবং স্বাস্থ্যকর অ্যাসিড শরীরতে ডিটক্সিফাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা বাকি ময়লাদেরও বাইরে বের করে আনে। ফলে শরীর রোগ মুক্তির পথে শরীর আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যায়।

৪. জল:

৪. জল:

দীর্ঘদিন ধরে সিগারেট খেলে আমাদের শরীরে একেবারে ভিতর পর্যন্ত চলে যায় নিকোটিন। যে কারণে ধূমপান ছাড়তে এতটা কষ্ট হয়। এক্ষেত্রে জল দারুন কাজে আসে। কীভাবে? আসলে শরীরে টক্সিন হিসেবে জমতে থাকা নিকোটিনকে ধুয়ে বার করে দিতে জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, তামাক এবং নিকোটিনের নানা ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে বাঁচাতেও জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. মধু:

৫. মধু:

এতে উপস্থিত বেশ কিছু ভিটামিন, এনজাইম এবং প্রোটিন শরীর থেকে নিকোটিন বের করে দেওয়ার পাশাপাশি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ধূমপান ছাড়তে কোনও অসুবিধাই হয় না।

৬. আদা:

৬. আদা:

আপনি কি ধূমপান ছাড়তে চান? তাহলে আজ থেকেই আদার সাহায্য নিন। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান নানাভাবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকে দমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ধূমপান ছাডা়র কারণে যেসব উইথড্রল সিম্পটন দেখা দেয়, সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাটাই চলে যায়। এক্ষেত্রে আদা চা বা কাঁচা আদা খেতে হবে। তবেই মিলবে উপকার।

৭. ওটস:

৭. ওটস:

সিগারেটের নেশা ছাড়াতে ওটসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বহুকাল আগে থেকেই ধূমপানের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলচে তাতে সামিল করা হয়েছে এই উপাদানটিকে। ২ কাপ ফোটানো জলের সঙ্গে ১ চামচ ওটস মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে জলটি পুনরায় ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে প্রতিটি খাবারের পর অল্প করে খেতে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন শরীর থেকে নিকোটিন বেরিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে কমে যাবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও।

৮.ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট:

৮.ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট:

নিকোটিনের মতো টক্সিনের সঙ্গে লড়াই করার জন্য নিজের সঙ্গে শক্তিশালী কাউকে না রাখলে কিন্তু এই অসম যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। আর এক্ষেত্রে আপনার পাশে দাঁড়াতে পারে ভিটামিন। প্রতিদিন ভিটামিন- এ, সি এবং ই সমৃদ্ধ ক্যাপসুল অথবা খাবার খেলে সিগারেটের নেশা একেবারে চলে য়ায়। সেই সঙ্গে আরও নানাবিধ রোগে প্রকোপও কমে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন আমাদের শরীরকে এতটাই চাঙ্গা করে দেয় যে সিগারেট ছাড়ার পর যে যে লক্ষণগুলি দেখা যায়, সেগুলি আর কোনও ভাবেই শরীর এবং মনকে কাবু করতে পারে না।

৯.মুলো:

৯.মুলো:

১ গ্লাস মুলোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে দিনে দুবার করে খেলে ধূমপানের ইচ্ছা একেবারে কমে যায়। তাই তো এমন কু-অভ্য়াস ছাড়াতে আজও মূলোর উপর ভরসা রাখেন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা।

১০. জিনসেং:

১০. জিনসেং:

ধূমপান বন্ধে কর দিতে কিন্তু তেমন কোনও কষ্ট হয় না। আসল লড়তে হয় সিগার খাওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে। এই বিষাক্ত ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি দারুন উপকারে লাগে। এক চামচ জিনসেং পাউডার, জুসে বা সুপে মিশিয়ে প্রকিদিন সকালে খেলে সারা দিনের জন্য সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। ফলে নেশার ফাঁস ধীরে ধীরে আলগা হতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, যদি দেখেন এক চামচে কাজ হচ্ছে না, তাহলে একটু বেশি করেও খেতে পারেন।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    world no tobacco day Natural Ways to Quit Smoking Cigarettes

    Here are a few almost effortless home remedies that are known to relieve smokers of this habit...
    Story first published: Wednesday, May 30, 2018, 17:45 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more