আলু ভাজা খাওয়া কতটা ক্ষতিকারক জানেন?

একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে গত কয়েক বছরে আমাদের দেশের কম বয়সি নাগরিকদের মধ্যে ওবেসিটির সমস্যা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে মূল কারণ হল খাদ্যাভ্যাস।

By Nayan

গরম ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ ডাল আর আলুভাজা খেয়ে সেই ছোট থেকে বড় হয়ে গেলাম মশাই, আর এখন বলছেন আলু ভাজা নাকি ক্ষতিকারক। তা কেন এমন ধারণা হল জানতে পারি কি?

অবশ্যই জানতে পারেন! একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে গত কয়েক বছরে আমাদের দেশের কম বয়সি নাগরিকদের মধ্যে ওবেসিটির সমস্যা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে মূল কারণ হল খাদ্যাভ্যাস। আসলে আজকের যুবসমাজ নিজেদের নানা কাজে এতটা ব্যস্ত করে রেখেছে যে তাদের কাছে ঠিক মতো পাত পেরে খাওয়ার সময় পর্যন্ত নেই। তাই অগত্যা ভরসা রাখতে হচ্ছে জাঙ্ক ফুডে, বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং চিপসের উপর। ফলে শরীরে বাড়তে শুরু করছে মেদ, যা এক সময়ে গিয়ে ওবেসিটির মতো সমস্যাকে জামাই আদর করে ডেকে আনছে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে ওজন বৃদ্ধি কিন্তু মোটেও সুখের খবর নয়, কারণ এমনটা হলে একে একে শরীরে এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস,হার্টের রোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো মারণ রোগ। তাই আলুভাজা হোক কি ফ্রেঞ্চফ্রাই, এ সব খাবার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকাট জরুরি।

ভাজা জাতীয় খাবার বেশি মাত্রায় খেলে শরীরের আরও নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে, যেমন...

১. শরীরে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে:

১. শরীরে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে:

ভাজা জাতীয় খাবার বেশি মাত্রায় খেলে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে থাকে। আর ট্রান্স ফ্যাটকে ভেঙে যেহেতু এনার্জিতে রূপান্তরিত করা যায় না, তাই তা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জমতে শুরু করে। এক সময় গিয়ে রক্ত বাহিকায় ফ্যাটের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে শরীরের একাধিক অঙ্গের ক্ষতি হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যাও মাতা চাড়া দিয়ে ওঠে।

২. শরীরের সচলতা কমে যায়:

২. শরীরের সচলতা কমে যায়:

একবার ভাবুন তো বয়সের কাঁটা ৪০ পেরতে না পেরতেই যদি শরীরে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ এসে বাসা বাঁধে, তাহলে কী ভয়ঙ্কর কান্ডটাই না ঘটবে। এমনটা হলে পছন্দের সব খাবারকে টাটা বাই-বাই তো বলতেই হবে, সেই সঙ্গে জীবনযাত্রাও এত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে যে জীবনের সব আনন্দই ফিকে হয়ে যাবে। তাই কম বয়সে যদি ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ বা কোলেস্টেরলের মতো অসুখে আক্রান্ত হতে না চান, তাহলে শুধু আলু ভাজা নয়, প্রায় সব ধরনের ভাজা জাতীয় খাবারকেই ভুলে যেতে হবে। এমনকি আলুর চপ এবং বেগুনিকেও।

৩. শরীরে টক্সিক উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে:

৩. শরীরে টক্সিক উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ভাজা জাতীয় খাবার খেলে শরীরে অ্যাক্রিলেমাইড নামক এক ধরনের টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা ক্য়ান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। তাই জীবনকে যদি সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর বানাতে চান, তাহলে ভুলেও ভাজা জাতীয় খাবারের দিকে ফিরে তাকাবেন না।

৪. তেল হতে হবে পরিষ্কার:

৪. তেল হতে হবে পরিষ্কার:

খেয়াল করে দেখবেন রাস্তার দোকানে আলুর চপ বা বেগুনি ভাজার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পোড়া তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এমন ধরনের তেলে কার্বোনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করার পর মারাত্মক ধরনের ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই একান্তই যদি ভাজা খাবার খেতে ইচ্ছা করে, তাহলে বাড়িতে আলুর চপ বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানাবেন, ভুলেও রাস্তার দোকান থেকে কিনবেন না যেন!

৫. অস্বাস্থ্যকর তেলেদের সঙ্গ ছাড়তে হবে:

৫. অস্বাস্থ্যকর তেলেদের সঙ্গ ছাড়তে হবে:

যেসব তেল উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর তাতে অ্যাক্রিলেমাইডের জন্ম হতে শুরু করে, তেমন তেল ভুলেও ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ যেমনটা আগও আলোচনা করা হয়েছে যে অ্যাক্রিলেমাইড হল এক ধরনের টক্সিক উপাদান, যা শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। তাই রান্নার তেল কেনার আগে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন!

৬. জীবনের সব কিছুতে ভারসাম্য আনাটা জরুরি:

৬. জীবনের সব কিছুতে ভারসাম্য আনাটা জরুরি:

আলু ভাজা খেতে মানা করা হচ্ছে মানে এই নয় যে যতদিন বাঁচবেন কোনও দিন ভাজা খাবারকে ছুঁতে পারবেন না। এমনটা একেবারেই নয়। সপ্তাহে ১-২ দিন চলতেই পারে। কিন্তু রোজের নিয়ম বানালে চটজলদি যে পৃথিবী ছাড়তে হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই কিন্তু!

X
Desktop Bottom Promotion