Low Sodium Diet: প্রেশারের ভয়ে নুন খাওয়া ছেড়েছেন? অজান্তেই নিজের ক্ষতি করছেন না তো!

Low Sodium Diet: শরীর সুস্থ-সবল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নানা রকম উপাদানের মধ্যে একটি হল সোডিয়াম। যা সাধারণ খাবারের মধ্যে দিয়েই প্রতি দিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। সবচেয়ে বেশি সোডিয়াম থাকে নুনে। তবে অত্যধিক নুন খাওয়া বা সোডিয়াম গ্রহণ কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। এর জন্য কম বয়সেও দেখা দিতে পারে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক। আবার শরীরে নুন বা সোডিয়াম কম থাকলেও হিতে বিপরীত হতে পারে। অনেক গুরুতর অসুখে ভুগতে হয়।

সোডিয়াম হল অতি প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট, যা রক্তচাপ, তরলের ভারসাম্য এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। চিকিৎসেকরা বলছেন, রক্তে সোডিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি হলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Low Sodium Diet

ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা

শরীরে সোডিয়াম কম গেলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে। যার ফলে পেশীতে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা এবং অনিয়মিত হার্টবিটের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

হাইপোটেনশন

নুনে সোডিয়াম থাকে। আর সঠিক পরিমাণ সোডিয়াম শরীরে খুবই প্রয়োজনীয়, যা রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে শরীরে সোডিয়ামের অভাবে রক্তচাপ অনেক কমে যেতে পারে, যা হাইপোটেনশন নামে পরিচিত। প্রেশার লো হলে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে হাইপোটেনশন চলতে থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্ত ​​প্রবাহ ঠিকমতো হয় না। যার ফলে বিরাট ক্ষতি হতে পারে।

হাইপোনেট্রিমিয়া

রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা একেবারে কমে গেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে, অর্থাৎ শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছলে কোমার মতো সমস্যা এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। চিকিৎসার ভাষায় এটি হাইপোনেট্রিমিয়া নামে পরিচিত। হাইপোনেট্রিমিয়া হলে হজমশক্তির সমস্যা, মাথা ধরা, বমি বমি ভাব, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, ঝিমিয়ে পড়া বা কোনও কাজ করার উৎসাহ হারিয়ে যায়।

কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়

কিডনি সঠিকভাবে কাজ করার জন্য শরীরে সঠিক পরিমাণে সোডিয়ামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সোডিয়ামের অভাব হলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়, কিডনিতে পাথরও হতে পারে।

ইনসুলিন রেজিসট্যান্স বেড়ে যেতে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নুন একেবারে কম খেলে বা একেবারেই না খেলেও রক্তে ইনসুলিন রেজিসট্যান্সের ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। ফলে টাইপ ২ ডায়াবিটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে

শরীরে সোডিয়াম একেবারেই না গেলে হার্টের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। সোডিয়াম গ্রহণ কম হলে ব্লাড প্রেশার লো হয়ে যায়, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পেশী এবং স্নায়ুর সমস্যা

সোডিয়ামের অভাবে স্নায়ুর সংকেতে বাধা পড়তে পারে, পেশীর সংকোচনে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে পেশী দুর্বলতা, খিঁচুনি, এমনকি পক্ষাঘাত (paralysis) পর্যন্ত হতে পারে।

ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক

যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবিটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে বিপদের আশঙ্কার সবচেয়ে বেশি। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। টাইপ ওয়ান ডায়াবিটিস এবং টাইপ টু ডায়াবিটিস উভয় রোগীদের ক্ষেত্রেই একই প্রভাব পড়ে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য পরামর্শস্বরূপ। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

X
Desktop Bottom Promotion