একভাবে অনেকক্ষণ বসে টিভি দেখেন নাকি?

টেলিভিশনের সামনে একভাবে বসে থাকলে আপনার ওজন বাড়তে পারে।

By Swaity Das

সন্ধ্যা হলেই টেলিভিশনের রিমোট হাতে বসে পরা। শাশুড়ি-বউয়ের ঝগড়া থেকে পারিবারিক বিবাদ, ষড়যন্ত্রের ঘোরপ্যাঁচে আপনার উত্তেজনা এমন তুঙ্গে ওঠে যে ঘন্টার পর ঘন্টা বোকাবাক্সের সামনে হাঁ হয়ে বসে থাকেন। এমনটা যদি প্রতিদিন করেন তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আসলে গবেষণা বলছে টেলিভিশনের সামনে একভাবে অনেকক্ষণ বসে থাকা বেশ অস্বাস্থ্যকর। কারণ এমনটা করলে বেশ কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। যেমন...

১. ওজন বেড়ে যায়:

১. ওজন বেড়ে যায়:

টেলিভিশনের সামনে একভাবে বসে থাকলে আপনার ওজন বাড়তে পারে। ২০০৩ সালে ৫০,০০০ মধ্য বয়স্কা মহিলার ওপর একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল, যা টানা ছয় বছর চলেছিল। সেই পরীক্ষা চলাকালীন দেখে গেছে প্রতিদিন মাত্র দু ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এছাড়াও, টেলিভিশন দেখার অভ্যাস শিশুদের মধ্যেও মোটা হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। দেখা গেছে যে সব শিশুদের ঘরে টেলিভিশন রয়েছে, তাঁরা অন্যান্য শিশুদের তুলনায় অনেকটাই মোটা।

২.ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে:

২.ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে:

টানা দুই ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে শুধুমাত্র মোটা হয়ে যাওয়া নয়, ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যায়। এছাড়াও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। আর যদি কেউ টানা তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় টেলিভিশনের সামনে বসে থাকে, তাহলে তাকে অল্প বয়সেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে দিনে দুই ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ, হৃদরোগের সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

৩.অকাল মৃত্যু:

৩.অকাল মৃত্যু:

অমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ১৩,০০০ জনের ওপর একটি সমীক্ষা চালায়। সেই সমীক্ষায় দেখা গেছে টেলিভিশনের সামনে অধিক সময় বসে থাকার অভ্যাসের রয়েছে, সেই সঙ্গে ধূমপান, অনিয়মিত জীবনযাত্রাও সঙ্গী, তাহলে তো আরও চিন্তার বিষয়। কারণ এক্ষেত্রে হঠাৎ করে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

৪.স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয়:

৪.স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয়:

টেলিভিশনের সামনে একভাবে বসে থাকলে তা পুরুষদের ক্ষেত্রে খুব খারাপ প্রভাব ফেলে। ২০১৩ সালে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। মূলত ১৮-২২ বছরের পুরুষদের ওপর করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সকল পুরুষ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি টেলিভিশন দেখে, তাদের স্পার্ম কাউন্ট অনেকটাই কমে যায়। অন্যদিকে যারা টিভি না দেখে ১৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় শরীরচর্চা করেন, তাঁদের স্পার্ম কাউন্ট অনেকটাই ভাল হয়। প্রসঙ্গত, চিকিৎসকদের মতে স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়া মানেই তা সন্তানহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এমনটা নাও হতে পারে। তবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা যদিও থাকে।

৫.আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি হয়:

৫.আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি হয়:

শিশুরা যা দেখে তাই শেষে এবং করে। বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দায় বেশিরভাগ সময় হিংসা, হানাহানি ইত্যাদি দেখানো হয়। যার ফলে শিশুরা এগুলিকেই স্বাভাবিক বলে মনে করে। যে কারণে স্কুলে বা যে কোনও মানুষের সঙ্গে তারা এমন খারাপ ব্যবহার করে থাকে। প্রসঙ্গত, প্রায় ১,০০০ জন ৫-১৫ বছর বয়সি শিশুর ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, যাতে দেখা গেছে ২৬ বছর বয়স অবধি তারা টেলিভিশন থেকে রপ্ত করা অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত জীবনে অনুসরণ করতে থাকে। তাই সাবধান হওয়ার সময় মনে হয়ে এসে গেছে।

৬.কোলোন ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে:

৬.কোলোন ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে:

২০১৪ সালে একটি গবেষণা করা হয়। যেখানে ৫০ থেক ৭১ বছর বয়সি ৩,৮০০ জন পুরুষ এবং মহিলাদের বেঁছে নেওয়া হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত টেলিভিশনের সামনে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় অতিবাহিত করেন, তারা অনেকেই কোলোন ক্যান্সারে আক্রান্ত। অন্যদিকে যারা সপ্তাহে ৭ ঘণ্টার বেশী গলফ, নাচ, খেলা, সাঁতার ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন তারা অন্যান্যদের থেকে অনেক বেশি সুস্থ। তাই, টেলিভিশন দেখবেন না শরীরচর্চায় মন দেবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিন।

Story first published: Monday, September 25, 2017, 12:32 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion