সারা দিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কি হতে পারে জানা আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে সারা দিন ধরে মোবাইলে সেঁটে থাকার কারণে সমাজের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে যুব সমাজ। তারা মোবাইলের মাধ্যমে তো অনেকের সঙ্গে কানেকটেড, কিন্তু বাস্তবে হয়ে পরছে ভিষণ একা।

By Nayan

কিছুদিন আগের ঘটনা। দীবাবলির অনন্দে যখন সারা বাড়িতে হই হুল্লোর। তখন আমার ভাই নিরুদ্দেশ! কোথায় সে...গেল কোথায় ব্যটা এই রাত দুপুরে! খোঁজ লাগিয়ে জানা গেল সাহেব মোবাইলে ব্যস্ত বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করতে। একই ঘটনা শুনলাম নিতু আন্টির কাছে। ওনার মেয়ে অহনা নাকি এক মিনিট মোবাইল ছাড়া থাকতে পারে না। কানে হেডফোন আর স্ক্রিনে খুটখুট। কী যে করে মেয়েটা জানা নেই আন্টির। তবে এমন অভ্যাসকে সঙ্গী করা মানুষের সংখ্যা এখন ক্রমাগত বাড়ছে। তাই তো চিন্তার ভাঁজ পরছে চিকিৎসকেদের কপালে।

কেন? চিন্তা কিসের? বিশেষজ্ঞদের মতে সারা দিন ধরে মোবাইলে সেঁটে থাকার কারণে সমাজের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে যুব সমাজ। তারা মোবাইলের মাধ্যমে তো অনেকের সঙ্গে কানেকটেড, কিন্তু বাস্তবে হয়ে পরছে ভিষণ একা। আর সবথেকে ভয়ের বিষয় হল বাস্তব জীবনের এই একাকিত্ব সম্পর্কে তারা অবগতও নয়। একবার ভাবুন তো কোনও দিন যদি কয়েক মিনিটের জন্য হলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক গায়েব হয়ে যায়, তাহলে এদের কী অবস্থাটাই না হবে! শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের কারণে চোখ, আঙুল এবং সার্বিকভাবে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে মোবাইল স্ক্রিন থেকে যে আলো বেরোয়, তা আমাদের রেটিনার উপর এতটাই খারাপ প্রভাব ফেলে যে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে শুরু করে। সেই কারণেই তো চিকিৎসকেরা "ডিভাইস ফ্রি টাইম" বলে একটি শব্দের জন্ম দিয়েছেন।

কী এই ডিভাইস ফ্রি টাইম? চিকিৎসকেদের মতে মোবাইলের খারাপ দিকগুলি থেকে বাঁচতে দিনের কিছুটা সময় মোবাইল ফোনকে ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এমনটা করলে নাকি নানা উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন...

১. মন আনন্দে ভরে ওঠে:

১. মন আনন্দে ভরে ওঠে:

যে সময়টা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন না, সে সময়টা যদি বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে কাটানো যায়, তাহলে গল্পের ছলে যেমন অনেক কিছু জানতে পারা যায়, তেমনি মজাও কম হয় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মন চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে আড্ডা দেওয়ার সময় নানা কারণে আমাদের মস্তিষ্কে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডিপ্রেশন এবং স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে।

২. জীবন সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে:

২. জীবন সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে:

একবার ভাবুন তো হাতের কাছে নেই হোয়াটস অ্যাপ, নেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামও। এমনটা হলে কতটা সময় পাবেন আমরা। আর এই সময়টা যদি নিজের সঙ্গে কাটানো যায় বা পছন্দের কোনও কাজ করা যায়, তাহলে কতটাই না আনন্দে ভরে ওঠে জীবন। সেই সঙ্গে নিজেকে যেমন আরও গভীরভাবে জানতে পারা য়ায়, তেমনি শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৩. বদ হজমের আশঙ্কা কমে:

৩. বদ হজমের আশঙ্কা কমে:

বেশ কিছু কেস স্টাডি চলাকালীন বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছেন খেতে খেতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে অনেকেই বেখেয়ালে খাবার ঠিক মতো না চিবিয়েই গিলে ফেলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই তো খাবার সময় মোবাইল ফোন ব্য়বহার তো নয়ই, এমনকি টিভি দেখতেও মানা করেন চিকিৎসকেরা।

৪. টেক দুনিয়া থেকে ফিট দুনিয়ায়:

৪. টেক দুনিয়া থেকে ফিট দুনিয়ায়:

ডিভাইস ফ্রি সময়ে শরীরচর্চায় মন দিতে পারেন। এমনটা যদি প্রতিদিন এক ঘন্টাও করতে পারেন তাহলেই কেল্লাফতে। কারণ গবেষণা বলছে নিয়মিত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা যদি অল্প বিস্তর শরীরচর্চা করা যায়, তাহলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। এবার বুঝেছেন তো ডিভাইস ফ্রি সময়ের প্রয়োজন কতটা?

৫. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

৫. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

সারা দিন কাজ বা পড়াশোনা করাতে করতে মস্তিষ্ক এমনিতেই ক্লান্ত হয়ে পরে। তার উপর যদি অবসর সময়েও মোবাইল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়, তাহলে মস্তিষ্ক আরাম করার সময়ই পায় না। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম না পাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ব্রেন পাওয়ার কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মনযোগ এবং স্মৃতিশক্তিও হ্রাস পায়। তাই সেন্ট্রাল নির্ভাস সিস্টেমকে চাঙ্গা রাখতে দিনের মধ্যে ১-২ ঘন্টা মোবাইল ছাড়া থাকতেই হবে, না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

৬.বাঁচুতে শিখবেন:

৬.বাঁচুতে শিখবেন:

স্মার্ট ফোনের দৌলতে আজকাল খেয়াল করে দেখেবেন কেউ আর তার জীবনের ছোট ছোট খুশির সন্ধান রাখে না। সবাই ব্যস্ত ৫ ইঞ্চির স্ক্রিনে। ফলে জীবন হয়ে উঠছে মেকানিকাল। যোগাযোগ নিশ্চয় বাড়ছে, কিন্তু কমছে স্পর্শের যাদু, কমছে প্রিয় মানুষের সঙ্গ পাওয়ার ইচ্ছাও। ফলে ধীরে ধীরে আমাদের মন যাচ্ছে মরে। আর আমরা মনকে হারিয়ে ভূতের মতো বেঁচে রয়েছি এক বায়বীয় দুনিয়ায়। তাই তো বলি অনেকে হয়েছে... আর নয়! এবার বাঁচতে হবে। মন খুলে বাঁচতে হবে, কি তাই তো বন্ধুরা! তাই শীঘ্র ডিভাইস ফ্রি সময় নির্দিষ্ট করুন। আর স্ক্রিনের কফিন থেকে বেরিয়ে জীবনকে নতুন ভাবে ফিরে পান। বেঁচে উঠুন অরেকবার...!

Story first published: Friday, October 27, 2017, 12:51 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion