ঠিক মতো ঘুম না হলেই বেশি করে মাছ খেতে হয়! কেন জানেনে?

By Nayan
Subscribe to Boldsky

কারণটা স্ট্রেস হোক কী অন্য কিছু, রাতে ঠিক মতো ঘুম না আসলে ডায়েটে মাছের অন্তর্ভুক্তি ঘাটনো মাস্ট! কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে মাত্র একদিন মাছ খেলেই অনিদ্রার মতো সমস্য়া দূর হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে বুদ্ধির ধারও বাড়তে শুরু করে।

পেনসিলভিনিয়া ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেন পাওয়া এতটা বেড়ে যায় যে "আই কিউ" লেভেলও বাড়তে শুরু করে। তাই প্রদোষ মিত্রর মতো যদি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে চান, তাহলে মাছ দেখে নাক সিঁটকোলে চলবে না কিন্তু! প্রসঙ্গত, প্রায় ৫৪১ জন ছাত্রছাত্রীর উপর এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল। প্রত্যেক জনের কাছ থেকে একদিকে যেমন বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা হয়েছিল, তেমনি তাদের ডায়েট চার্ট পর্যালোচনা করে "আই কিউ" টেস্টও নেওয়া হয়েছিল। এইভাবে নানাদিক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন গবেষকরা।

প্রসঙ্গত, মাছ একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। তাই প্রতিদিন এই পরিমাণ প্রোটিন খেলে শরীরের কোনও ক্ষতি হয় কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা জরুরি। আর ঠিক এই কারণেই কয়েকজন গবেষক মাছ নিয়ে শুরু করেছিলেন বিশেষ গবেষণা। তাদের মূল লক্ষ ছিল সারা বিশ্বে যে যে প্রদেশের মানুষ বেশি মাত্রায় মাছ খেয়ে থাকেন, তাদের শরীরের অবস্থা আদৌ কেমন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা। এই উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাদের সামনে যে সত্যিটা উঠে এসেছিল তা বেজায় চমকপ্রদ!

পরীক্ষাটি চলাকালীন গবেষকরা লক্ষ করেছিলেন ১৯৫ টি দেশের মধ্যে মাছ খাওয়ার দিক থেকে একেবারে প্রথম স্থান নেওয়া পর্তুগালিদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ঠিক যেমন, ঠিক তেমনিই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ করিয়া, বুর্নেয়ি এবং বাঙালিদের শরীরের অবস্থাও। আর কী সেই অবস্থা? এই সব প্রদেশের মানুষেরা বাকিদের তুলনায় অনেক বেশি ফিট এবং চনমনে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে মূল কারণ হল নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস। আসলে মাছের শরীরের থাকা ওমেগা থ্রি ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং প্রোটিন, মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি কণাকে চাঙ্গা করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে একাধিক মারণ রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। যেমন...

১. ভিটামিন ডি এর ঘাটতি দূর করে:

১. ভিটামিন ডি এর ঘাটতি দূর করে:

হাড়ের গঠনে এই ভিটামিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো শরীরে যাতে কানওভাবই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে সামদ্রিক মাছেরা। কারণ এদের শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে মজুত থাকে ভিটামিন ডি, যা হাড়কে শক্তপোক্ত করার পাশাপাশি নানাবিধ হাড়ের রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে মাত্র ১-২ দিন মাছ খেলেই আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে থাকা নিউরনদের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, তেমনি স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে অনুষ্টিত রেডিওলজিকাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার বার্ষিক সভায় এই বিষয একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে যারা নিয়মিত মাছ খেতে থাকেন তাদের ব্রেণের একটি বিশেষ অংশের ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তির দিক থেকে তারা অনেকটাই পিছনে ফেলে দেয় মাছ না খাওয়া মানুষদের।

৩. হার্টকে চাঙ্গা রাখে:

৩. হার্টকে চাঙ্গা রাখে:

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে যারা নিয়মিত মাছ খেয়ে থাকেন, তাদের হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। কেন এমনটা হয় জানেন? আসলে মাছের শরীরে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্য়াটি অ্যাসিড রক্তে উপস্থিত ফ্য়াটের মাত্রাকে কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪. ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়ে:

৪. ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়ে:

মাছের শরীরে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের দেহের অন্দরে যাওয়া মাত্র ত্বক এবং চুলের গোড়ায় পুষ্টির যোগান এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে তার প্রভাবে স্কিন টোনের যেমন উন্নতি ঘটতে শুরু করে, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ওমাগ থ্রি ফ্য়াটি অ্যাসিড সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের রোগের চিকিৎসাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগ ভুগছেন, তারা রোজের ডায়েট থেকে মাছকে বাদ দেওয়ার কতা কখনও ভাববেন না যেন!

৫. স্পার্ম কাউন্ট অনেক বাড়িয়ে দেয়:

৫. স্পার্ম কাউন্ট অনেক বাড়িয়ে দেয়:

সম্প্রতি ১৮৮ জন পুরুষের উপর একটি গবেষণা চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে যারা নিয়মিত মাছে খান, তাদের স্পার্ম কাউন্ট এতটাই ভাল হয়ে যায় যে বাচ্চা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যাই হয় না। প্রসঙ্গত, বর্তমানে আমাদের উত্তাল জীবনযাত্রার কারণে অনেকেরই স্পার্ম কাউন্ট কমতে শুরু করে, যে কারণে বাবা হাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তাই আপনি যদি চান এমনটা আপনার সঙ্গে না হোক, তাহলে নিয়মিত মাছ খেতে ভুলবেন না যেন!

৬. মানসিক অবসাদ কমায়:

৬. মানসিক অবসাদ কমায়:

বর্তমান সময়ে নানা কারণে মানসিক অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যাটা যেন ক্রমাগত বাড়ছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই কম বয়সি। এমন পরিস্থিতিতে মাছ খাওয়া প্রয়োজন আরও বেড়েছে। কারণ স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদ কমাতে মাছের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এক্ষেত্রেও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: রোগ শরীর
    English summary

    কারণটা স্ট্রেস হোক কী অন্য কিছু, রাতে ঠিক মতো ঘুম না আসলে ডায়েটে মাছের অন্তর্ভুক্তি ঘাটনো মাস্ট! কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে মাত্র একদিন মাছ খেলেই অনিদ্রার মতো সমস্য়া দূর হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে বুদ্ধির ধারও বাড়তে শুরু করে।

    Fish lovers rejoice! A study has recently suggested that children who eat fish at least once a week sleep better and have better IQ. A University of Pennsylvania study has found that on an average the IQ level was four points higher for those consuming fish in comparison to those eating less frequently or not at all. Lead author Jianghong Liu said that they are looking at Omega-3s coming from food instead of from supplements. Here are few reasons to start eating fish.
    Story first published: Monday, December 25, 2017, 11:00 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more