হার্টকে সুরক্ষা দেবে এই ৫ প্রহরী!

জামে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি নানাভাবে হার্টকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

By Nayan

কতগুলি সহজ প্রশ্নের উত্তর দেবেন প্লিজ? বলুন, দেব! আচ্ছা কতদিন বাঁচতে চান? কম করে তো ৭০ বছর অবশ্যই। কিভাবে এত বছর বাঁচবেন, সে বিষয়ে কোনও প্ল্যান বানিয়েছেন নাকি? আপনি কি পাগল না পাজামা! এমন প্ল্যান কেউ করতে পারে নাকি, সবই তো ভগবানের হাতে!

এই, ঠিক এই জয়গাতেই ভুল হয়ে গেল যে মশাই! কী ভুল? আপনি সকাল বিকাল ম্যাকডোনালে ঘোরাঘুরি করবেন, কাজের ফাঁকে খাবেন তেল চ্যাপচ্যাপে বেগুনি আর কোল্ড ড্রিঙ্ক, আর দিনের শেষে বলবেন সবই ভগবানের ইচ্ছা, এমনটা কী করে হয় বলুন! এবার না হয় মেনেই নিন যে আপনারা নিজেই নিজেদের আয়ু কমাচ্ছেন। বরং বলি সুইসাইড করছেন!

ঠিক বলেছেন তো। কখনও এভাবে ভেবে দেখিনি! এমনভাবে না ভাবাটা যে শুধু আপনার রোগ, এমন নয়। আমাদের দেশের সিংহভাগ কমবয়সিই এই রোগে আক্রান্ত। কারণ রিপোর্ট বলছে গত দশ বছরে আমাদের এদেশে ২৫-৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের কারণে মরে যাওয়ার হার চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। আর এর পিছনে দায়ি কেবল অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, যার মধ্য়ে খাদ্যাভ্যাসও অন্যতম। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের একটা রিপোর্টের কথাই ধরুন না। সেই রিপোর্ট অনুসারে আমাদের দেশে প্রতি মিনিটে ৪ জন করে হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা পরছেন। আর এদের সবারই বয়স ৩০-৫০ এর মধ্যে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন কম করে ৯০০ জন করে ৩০ বছরের কম বয়সি হার্ট ফেলিওরের কারণে মারা যাচ্ছে। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে যদি নিজেকে সামলে রাখতে না পারেন, তাহলে আগামী বছর আপনার নামও যে এই দীর্ঘ লিস্টে সামিল হয়ে যেতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

এতসব জানার পর প্রশ্ন করতেই পারেন হার্টকে বাঁচানোর উপায় কী? একটাই উত্তর পাবেন, তা হল রোজের ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। জাঙ্ক ফুড খাওয়া কমিয়ে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি খাওয়া শুরু করতে হবে। তাহলেই দেখবেন হার্টকে নিয়ে আর কোনও চিন্তা থাকবে না। প্রসঙ্গত, যে যে খাবারের মধ্যে হার্টকে চাঙ্গা রাখার ক্ষমতা রয়েছে সেগুলি হল...

১. জাম:

১. জাম:

এই ফলটির শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি নানাভাবে হার্টকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কথাই ধরুন না। এই উপাদানটি রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানদের শরীরে থেকে টেনে টেনে বার করে দেয়। ফলে তারা যতক্ষণে হার্টের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে, ততক্ষণে অন্টিঅক্সিডেন্ট এমন খেল দেখায় যে হার্টের উফর খারাপ প্রভাব পরার আশঙ্কাই থাকে না।

২. মাছ:

২. মাছ:

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদানটি হার্টের স্বাস্থ্য়ের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুসারে সপ্তাহে ২-৩ বার যদি মাছ খাওয়া যায়, তাহলে শীররে এই বিশেষ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডটির ঘাটতি দূর হয়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই হে মাছে-ভাতে বাঙালি, আর যাই করুন না কেন, ভুলেও রোজের ডায়েট থেকে মাছকে বাদ দেবেন না যেন!

৩. সয়াবিন:

৩. সয়াবিন:

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে যে পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে, তার অনেকটাই সরবরাহ করে সয়াবিন। সেই কারমেই তো প্রতিদিন এই কাবরটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের আশঙ্কা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেওয়া ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও সয়া প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো হার্টকে ভাল রাখতে নিয়মিত সোয়াবিন বা সোয়া মিল্ক খাওয়ার পরিমার্শ দেন চিকিৎসকরো।

৪. ওটমিল:

৪. ওটমিল:

প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে হোক কী যে কোনও সময়, এই খাবারটি খেলে শরীরে ভিটামিনের এবং মিনারেলের ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রাও কমে। ফলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৫. পালং শাক:

৫. পালং শাক:

হার্টকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে হলে সবজির দুনিয়ায় সেরার শিরোপা পাওয়া পালং শাকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই হবে। কারণ এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ফাইটোকেমিকাল, ভিটামিন এবং মিনারেল, যা হার্টের রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরকে সার্বিকভাবে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, পালং শাকে উপস্থিত ফলেট, হর্টের কর্মকক্ষমতা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও সাহায্য করে থাকে।

Story first published: Friday, October 6, 2017, 12:45 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion