বর্ষায় ফ্লু থেকে বাঁচতে বাড়িতে আজই লাগিয়ে ফেলুন তেজপাতা গাছ! কীভাবে যত্ন নেবেন জানুন

By Bhagysree Sarkar

তেজপাতার নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এটি বিভিন্ন খাবারে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। মসলা হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। তবে আপনি কি জানেন, এই পাতার ভেষজ গুণ শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, আমাদের সুস্বাস্থ্যও বজায় রাখে। এটি ডাল, তরকারি, বিরিয়ানি এবং স্যুপ ইত্যাদিতে যোগ করা হয়। এই পাতার এত গুণের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তেজপাতার কদর বিশাল।

এটি ভারত সহ বাংলাদেশ, নেপাল ও চীনে বেশি উৎপন্ন হয়। তেজপাতায় আছে ভিটামিন ই-সি, সহ ফলিক অ্যাসিড। যা আমাদের সুস্থ থাকতে ভূমিকা নেয়। এই গাছ রোপণ করা খুবই সহজ। একটু পরিশ্রম এবং মনোযোগ দিয়ে, আপনি বাড়িতে টাটকা তেজপাতা গাছ বসাতে পারেন। কীভাবে যত্ন নেবেন দেখুন-

Bay leaf

প্রথমে সঠিক স্থান নির্বাচন করুন। কারণ, তেজপাতা গাছের সূর্যালোক প্রয়োজন। তাই এটি এমন জায়গায় রোপণ করতে হবে, যেখানে ভাল সূর্যালোক পৌঁছায়। বারান্দা বা বাগানের একটি কোণে এই গাছ টবে বসাতে পারেন।

স্থান নির্বাচন হলে এবার এর জন্য মাটি তৈরি করতে হবে। সুনিষ্কাশিত মাটি তেজপাতা গাছের জন্য অপরিহার্য। সাধারণ বাগানের মাটিতে কিছু বালি ও কম্পোস্ট মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। মাটিতে আর্দ্রতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন মাটি বেশি ভিজতে দেবেন না।

তেজপাতা গাছ বীজ বা ডাল থেকে জন্মাতে পারে। তবে বীজ থেকে বাড়তে বেশি সময় লাগে, তাই কাটিং থেকে বাড়তে সহজ হয়। একটি সুস্থ গাছ থেকে ৬-৮ ইঞ্চি একটি লম্বা ডাল কেটে নিন এবং শিকড় বিকাশ না হওয়া পর্যন্ত জলে রাখুন।

কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন শিকড় বেরিয়ে এসেছে। এবার এটিকে আপনার প্রস্তুত মাটিতে রোপণ করুন। পাত্রে যদি রোপণ করেন তবে পাত্রের আকার বড় হতে হবে। যাতে গাছটি পর্যাপ্ত জায়গা পায়।

তেজপাতা গাছকে নিয়মিত জল দেবেন। মনে রাখবেন মাটি যেন বেশি ভেজা না হয়। গ্রীষ্মে জলের পরিমাণ বাড়ান এবং শীতকালে কম্পোস্ট বা জৈব সার যোগ করুন।

আবার মনে রাখবেন, তেজপাতা গাছে কিন্তু পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এরজন্য নিমের তেল স্প্রে করুন বা যেকোনো জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। গাছের পাতা নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং সময় সময়ে পরিষ্কার করুন।

যখন গাছটি ২-৩ ফুট লম্বা হয় এবং পাতাগুলি ভালভাবে বিকশিত হয়, আপনি পাতা সংগ্রহ করতে পারেন। গাছের ক্ষতি না করার জন্য সাবধানে পাতা কাটুন। তাজা পাতা ব্যবহার করুন বা শুকনো রাখুন।

তবে মনে রাখবেন, তেজপাতা গাছের খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন না হলেও সুস্থ রাখতে নিয়মিত জল, সার দেওয়ার প্রয়োজন আছে। মাটি নরম করা এবং সময়ে সময়ে গাছ ছাঁটাই এটি সুস্থ রাখে।

  • তেজপাতার উপকার-

তেজপাতায় জৈব যৌগের মধ্যে রয়েছে ক্যাফেক অ্যাসিড। যা হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

এছাড়াও তেজপাতার মধ্যে রয়েছে লিনালুল নামক একটি উপাদান। যা উৎকণ্ঠা কাটাতে, শান্ত থাকতে ও হতাশা দূর করতে সাহায্য করে।

শুধু তাই নয়, তেজপাতায় থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সর্দিকাশি বা ফ্লু এড়াতে তেজপাতা সেদ্ধ করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

Story first published: Friday, July 19, 2024, 13:55 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion