চটজলদি ওজন কমাতে চান? তাহলে প্রতিদিন খাওয়া শুরু করুন এই খাবারগুলি!

এই লেখায় আলোচিত খাবারগুলিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে,যা মেদ তো ঝরাবেই, সেই সঙ্গে শরীরের আরও অনেক উপকারে লাগবে।

ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে নানাবিধ মারণ রোগের সম্পর্কটা যে বেশ গভীর, সে কথা রয়েল কলেজ অব পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের করা একটি গবেষণাতেই প্রমাণ হয়ে গেছে। তাদের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে ৫ জন মোটা বাচ্চার মধ্যে ৪ জনেরেই আয়ু কমে প্রায় ১০-২০ বছর। আর এক্ষেত্রে দায়ি থাকে ওজন বৃদ্ধি সম্পর্কিত নানা রোগই। এবার বুঝেছেন তো ওবেসিটি কতটা ভয়ঙ্কর বিষয়।

এখন প্রশ্ন হল যারা ইতিমধ্যেই অতিরিক্তি ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন, এদিকে নিয়মিত জিমে যাওয়ারও সুযোগ পান না, তারা কী করবেন? সেক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত অল্পবিস্তর হাঁটাহাঁটি তো করতেই হবে, সেই সঙ্গে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলিকে। কারণ কতটা দ্রুত ওজন কমবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন তার উপর। আর এই লেখায় আলোচিত খাবারগুলিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে,যা মেদ তো ঝরাবেই, সেই সঙ্গে শরীরের আরও অনেক উপকারে লাগবে। তাই তো দ্রুত ওজন কমাতে রোজের ডায়েটে এই খাবারগুলি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. বিটরুট:

১. বিটরুট:

নিয়মিত বিটরুট খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যে তার প্রভাবে একদিকে যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তেমনি ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। শুধু তাই নয়, শরীকে বিষ মুক্ত করতেও এই সবজিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবার বুঝেছেন তো নিয়মিত বিটরুট খেতে কেন বলেন চিকিৎসকেরা।

২. বাদাম:

২. বাদাম:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রকৃতিক উপাদানে উপস্থিত ফাইবার, উপকারি ফ্যাট এবং ওমাগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড একদিকে যেমন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, তেমনি ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না।

৩. ব্রকলি:

৩. ব্রকলি:

জর্জিয়া স্টেট ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক স্টাডিতে দেখা গেছে ব্রকলির মতো ডায়াটারি ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি বেশি করে খেলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই উপাদানটি শরীরে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে শরীরে মেদ জমার সুযোগই পায় না। প্রসঙ্গত, রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো সমস্যাকে দূরে রাখতেও ফাইবার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. কেলে শাক:

৪. কেলে শাক:

ফাইবারে ভরপুর এই শাকটি খাওয়া শুরু করলে ক্ষিদে কমে যেতে শুরু করে। ফলে খাওয়ার পরিমাণও কমতে শুরু করে। আর কম পরিমাণ খাওয়া কারণে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ ঘটে কম পরিমাণে। ফলে ওজন হ্রাস পায় বেজায় দ্রুত গতিতে। প্রসঙ্গত, এই শাকটিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. পেঁপে:

৫. পেঁপে:

এই ফলটির অন্দরে রয়েছে পেপেইন নামক একটি উপাদান, যা ফ্যাট সেলেদের গলিয়ে মেদ ঝরাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান এবং অতিরিক্ত জলকে বের করে দিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে খালি পেটে যদি অল্প করে পেঁপে খাওয়া যায়, তাহলে আরও দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। কারণ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ফলে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৬. নানাবিধ সবজির রস:

৬. নানাবিধ সবজির রস:

আদা, গাজর অথবা করলার রস প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই সবজিগুলির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা এতক্ষণে জেনেই গেছেন যে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটলে শরীরে মেদ জমার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৭. ওটস মিল:

৭. ওটস মিল:

এক চামচ ওটস মিলের সঙ্গে তিন চামচ জল, এই রেশিয়োতে বানিয়ে নিয়মিত সকালবেলা খালি পেটে খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই খাবারটিতেও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, বরং কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, ওটস মিলে লেসিথিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. আপেল:

৮. আপেল:

অতিরিক্তি ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে নিয়মিত একটা করে আপেল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। কারণ এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার। তাই তো খালি পেটে একটা করে আপেল খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাওয়ার প্রবণতা কমে। আর কম পরিমাণে খাবার খাওয়ার কারণে ওজনও কমে দ্রুত।

Story first published: Friday, April 20, 2018, 17:16 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion