Cancer Survivors Day: ক্যান্সার নিরাময়ের পরেও শরীরের যত্ন নিন, মেনে চলুন এই টিপসগুলি

'ক্যান্সার', শব্দটি শুনলেই যেন ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে। গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসে। থমকে যায় সময়ের কাঁটা। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই রোগ। তাই 'মারণরোগ' বলেই পরিচিত ক্যান্সার। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে রোগীকে ভাল কোনও চিকিৎসা দেওয়াও বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। বাস্তবিক অর্থে, এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি।

তবে ক্যান্সার মানেই মৃত্যুভয় নয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রথম দিকে ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু ক্যান্সার নিরাময়ের পরও আবার তা ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। তাই খুব সাবধানে থাকা উচিত। ক্যান্সার সার্ভাইভাররা নিজেদের সুস্থ-সবল রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন, জেনে নিন।

Cancer Survivors Day

স্বাস্থ্যকর খাবার খান
ফলমূল, শাকসবজি এবং গোটা শস্য রোজকার ডায়েটে রাখুন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার খান। স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম আছে, এ রকম প্রোটিন জাতীয় খাবার খান। জাঙ্ক ফুড, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার, প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলাই ভাল। স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের এনার্জি বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতেও সাহায্য করে।

মদ্যপান ও ধূমপান ত্যাগ করুন
মদ্যপান ও ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই ত্যাগ করুন। ধূমপান বা তামাক সেবন বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। মদ্যপান বা অ্যালকোহলও ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি অনিদ্রা, উদ্বেগ, অবসাদের মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয়। তাই সবেমাত্র ক্যান্সার থেকে সেরে উঠলে এই সব অভ্যাসগুলি অবিলম্বে ত্যাগ করুন।

অ্যাক্টিভ থাকুন
ক্যান্সারের চিকিৎসার পর নিয়মিত শরীরচর্চা, ব্যায়াম, হাঁটাচলা, মেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মেজাজ ভাল থাকে, উদ্বেগ ও অবসাদ কমে। ব্যথা-যন্ত্রণা, ক্লান্তি এবং ডায়রিয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলিও দূরে রাখে। পাশাপাশি ক্যান্সার ফিরে আসার সম্ভাবনা কমায় এবং আয়ু বাড়াতে পারে। তবে এক্সারসাইজ করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভাল ঘুম
প্রতি রাতে ভাল ঘুম হওয়া আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং ওজনও বাড়তে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর সময় সমস্ত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দূরে রাখুন। শোওয়ার আগে ক্যাফেইন এবং নিকোটিন সেবন করবেন না।

স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন
ক্যান্সার একজন ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। এমন কিছু করুন যাতে আপনি বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও অবসাদ মুক্ত থাকবেন। যদিও এমন কোনও প্রমাণ নেই যে, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করলেই ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে মানসিক চাপ কমলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য পরামর্শস্বরূপ। কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন ও সেইমতো নিয়ম মেনে চলুন।

X
Desktop Bottom Promotion