Refined Oil: ক্রমশ বাড়ছে রিফাইন্ড তেলের ব্যবহার, সুস্বাস্থ্যের জন্য কোন তেল খাওয়া উচিত?

By Bhagysree Sarkar

Refined Oil: যুগ যুগ ধরে সরিষার তেল (Mustard oil) আমাদের হেঁশেলে সুস্বাদু রান্না করার জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে সেই স্থান দখল করেছে রিফাইন্ড ওয়েল। আজকাল প্রায় প্রতিটি হেঁশেলেই পরিশোধিত তেল (Refined Oil) ব্যবহার করা হয়। এই তেল এখন মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়, তবে এটি আমাদের স্বাস্থ্যের (health) জন্য মোটেই উপকারী নয়। এগুলি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা হয়, যার কারণে তাদের পুষ্টি হ্রাস পায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিশোধিত তেল খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের (Cholesterol) মাত্রা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের (diabetes) মতো অনেক মারাত্মক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই পরিশোধিত তেলের পরিবর্তে, আপনি আপনার খাবারে কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প (Healthy options) বেছে নিতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, রিফাইন্ড তেলের পরিবর্তে অন্য কোন তেল আপনি আপনার খাবারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন-

Refined Oil

পরিশোধিত তেলের স্বাস্থ্যকর বিকল্প

  • ফ্ল্যাক্সসিড ওয়েল- ফ্ল্যাক্সসিড ওয়েল ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা আমাদের মস্তিষ্ক ও হৃদরোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্যালাড ড্রেসিং বা অন্যান্য ঠাণ্ডা খাবার আইটেমে ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ উচ্চ তাপমাত্রা কিন্তু রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে।
  • নারকেল তেল- নারকেল তেলে মাঝারি-শ্রেণির ট্রাইগ্লিসারাইড (এমসিটি) রয়েছে, যা সহজেই এনার্জিতে রূপান্তরিত হয়। এই তেল ওজন নিয়ন্ত্রণে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
  • অলিভ অয়েল- অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যকর মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি ভালো উৎস, যা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই তেল রান্না করলে কোনো ক্ষতি নেই।
  • তিলের তেল- তিলের তেল ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ভালো উৎস এবং এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও রয়েছে। এই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্যও উপযুক্ত এবং ভারতীয় খাবারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
  • সরিষার তেল- সরিষার তেল আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। এতে স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এবং এটি বিপাক প্রক্রিয়ার উন্নতিতেও সাহায্য করে।

রোগা হওয়ার জন্য সকাল-বিকাল লেবু জল খাচ্ছেন, জানেন কী মারাত্মক পরিণতি হতে পারে?

এসব তেল ব্যবহারে কী কী উপকার পাওয়া যায়, জানুন-

  • পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ- এই তেলগুলি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য- এই তেলগুলিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা মস্তিষ্কের বিকাশ এবং কার্যকারিতা বাড়ায়।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ- স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, কারণ সেগুলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটের চেয়ে বেশি ভরাট করে।
  • হার্টের স্বাস্থ্য- এই তেলগুলিতে অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এসব তেল ব্যবহারে কিছু বিষয় মাথায় রাখাও জরুরি, যেমন-

  • তাপমাত্রার দিকে নজর রাখুন- কিছু তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত, আবার কিছু কম তাপমাত্রায় গরম করা উচিত।
  • সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন- একটি শীতল, অন্ধকার জায়গায় তেল সংরক্ষণ করুন, কারণ আলো এবং তাপ তাদের পুষ্টির মান কমাতে পারে।
  • পরিমাণের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন- এমনকি স্বাস্থ্যকর তেলও অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ওজন বাড়তে পারে।

X
Desktop Bottom Promotion