কাঠফাটা গরমে বাড়ছে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি! বাঁচতে কী করবেন জানুন

By Bhagysree Sarkar

সারাদেশে চলছে তাপপ্রবাহ। গরমের দাপটে শারীরিক যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হল জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। এই সমস্যায় এখনই সতর্ক না হলে রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে হিট স্ট্রোকের। শরীরের ডিহাইড্রেশন উপসর্গ দেখা দেয় যখন আপনার শরীরে জলের খামতি দেখা যায়। এক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত জল থাকে না। যে কোন স্বাভাবিক এবং সুস্থ মানুষ জলশূন্যতা হতে পারে। ছোট শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।

ডিহাইড্রেশন বিভিন্ন কারণে হতে পারে। জ্বর, রৌদ্রতাপে চলাফেরা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, বমি, ডায়রিয়া ও ইনফেকশনের কারণে অতিরিক্ত ইউরিনেশন ইত্যাদি। এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদেরও ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা প্রয়োজন অনুপাতে কম জল পান করেন বা প্রচুর ঘামেন কিন্তু সে পরিমাণে জল শরীরে প্রবেশ করে না, তাদের ডিহাইড্রেশন হতে পারে। ফলে খরা ও শুষ্ক আবহাওয়াতে ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর জল পান করা উচিত।

dehydration

আমরা জানি, আমাদের শরীরে ৭০ শতাংশ রয়েছে জল। দেহে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়স্কের ৩ লিটার জল পান করা উচিত। এর চেয়ে কম পরিমাণে জল পান করলেই শরীরে ড্রিহাইড্রেশন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান না করা ছাড়াও ডায়রিয়া, অতিরিক্ত সূর্যের তাপে থাকা, অতিরিক্ত শরীর চর্চা, প্রচুর পরিমাণে শরীর থেকে ঘাম হওয়ার কারণেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

কীভাবে বুঝবেন আপনি ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন-

  • মাথাব্যথা ও ঘোরা
  • শারীরিক দুর্বলতা, আচমকা বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি
  • বারবার গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • বারবার জল পিপাসা পাওয়া
  • চোখের দৃষ্টিগত সমস্যা দেখা দেয়া
  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
  • মূত্রের পরিমাণ কমে যাওয়া, মূত্রের রং হলুদ হয়ে যাওয়া
  • হজমে সমস্যা হওয়া এবং পরিপাক তন্ত্রের কাজ ব্যাহত হওয়া

গ্রীষ্মের দিনগুলিতে দেদার খাচ্ছেন আম, একটু অনিয়মেই ঘটবে চরম বিপত্তি!

এছাড়াও আপনার ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যাবে। ত্বকে দেখা দেবে ব্রণের সমস্যা। ডিহাইড্রেশনের আরেকটি লক্ষণ হলো মুখের দুর্গন্ধ। কারণ জল আমাদের মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আপনি জল কম খেতে শুরু করলে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হবে। আপনি অল্পতেই ক্লান্তিবোধ করবেন। আপনার দেখা দেবে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা। এর ফলে আপনার হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিহাইড্রেশন এড়াতে কী করবেন

  • কিছুক্ষণ পরপর পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা উচিত।
  • গরমে আমিষজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। তবে আমিষযুক্ত খাবার থাকলে দৈনিক ৩ লিটার জল পান করবেন।
  • প্রখর রোদে বাইরে বের হলে, খেলাধুলা করলে, ব্যায়াম কিংবা শারীরিক পরিশ্রমে ২০ মিনিট পরপর জল বা শরবত পান করুন।
  • খাবারে জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখুন। যেমন ডাব, তরমুজ, আম, লেবু, শসা, টমেটো, লাউ ইত্যাদি।
  • অ্যালকোহলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। তৃষ্ণা মেটাতে সোডা, শর্করাজাতীয় পানীয়, আইসক্রিম এড়িয়ে চলুন।

X
Desktop Bottom Promotion