বাসি রুটি খান নাকি?

রুটির মধ্যে থাকা ফাইবার, সময় যত এগতে থাকে, তত শক্তিশালী হয়ে উঠতে শুরু করে। তাই তো বাসি রুটি দুধ দিয়ে খেলে হজম ক্ষমতার মারাত্মক উন্নতি ঘটে।

By Nayan

আগের দিনের খাবার ফ্রিজে রেখে খাওয়া অভ্যাস জেন আওয়াইদের অনেকদিনের। কিন্তু তাই বলে বাসি রুটি! জানেন আগের দিনের রুটি পরের দিন খেলে কি হতে পারে?

বেশ কিছু গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে ফ্রিজে রেখে বাসি খাবার খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। শুধু তাই নয়, একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও সেক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। তাই তো টাটকা খাবার খাওয়ার পক্ষে সাওয়াল করে থাকেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কে শোনে কার কথা! হাতে সময় নেই। তার উপর অফিসে মারকাটারি কাজের প্রেসার। এমন পরিস্থিতিতে রোজ রোজ রান্না করার সময় কোথায়। তাই এক দিন রান্না করে খাওয়া চলছে সাত দিন। কিন্তু আজব বিষয় কি জানেন? যে কোনও খাবার বাসি অবস্থায় খেলে শরীরের ক্ষতি হয় ঠিকই। কিন্তু বাসি রুটি খেলে কিন্তু কোনও ক্ষতি হয়ই না, উল্টে নানা উপকার মেলে।

বলেন কী মশাই, বাসি রুটি স্বাস্থ্য়কর? একেবারেই! গবেষণায় দেখা গেছে বাসি রুটি নিয়মিত খেলে বেশ কিছু মারণ রোগ একেবারে সেরে যেমন, যেমন সুগারের কথাই ধরুন না। গবেষণা বলছে বাসির রুটির অন্দরে এমন কিছু উপাদান তৈরি হয়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয়, বাসি রুটির আরও অনেক গুণ রয়েছে। যেমন...

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

একাধিক কেস স্টাডি অনুসারে রুটির মধ্যে থাকা ফাইবার, সময় যত এগতে থাকে, তত শক্তিশালী হয়ে উঠতে শুরু করে। তাই তো বাসি রুটি দুধ দিয়ে খেলে হজম ক্ষমতার মারাত্মক উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও কমে যায়। তাই এবার থেকে রাতের বেলা রুটি থেকে গেলে আর ফেলে দেবেন না। বরং ব্রেকফাস্টে দুধ দিয়ে খেয়ে নেবেন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে।

২. রক্তচাপ কবজায় চলে আসবে:

২. রক্তচাপ কবজায় চলে আসবে:

ঠান্ডা দুধ দিয়ে বাসি রুটি খেলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হয়, যার প্রভাবে দেহে সোডিয়াম বা নুনের পরিমাণ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও দুধ-রুটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে!

৩. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

৩. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

এক্ষেত্রে বাসি রুটি এবং ঠান্ডা দুধ কিভাবে নিজের খেল দেখায়, তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে জানা না গেলেও এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে ব্লাড সুগারকে কন্ট্রোলে রাখলে বাসি রুটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই আপনার পরিবারে যদি এই মারণ রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে বাসি রুটি খেতে আর নাক শিঁটকোবেন না যেন!

৪. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

৪. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

সকাল সকাল মিটিং আছে? হাতে সময় নেই ব্রেকফাস্ট করার? ফিকার নট! আগের দিনের রুটি আর এক গ্লাস ঝটপট খেয়ে বেরিয়ে পরুন। এমনটা করলে পেটটাও খালি থাকবে না। উল্টে এনার্জির ঘাটতিও দূর হবে। ফলে কাজে মন তো বসবেই, সেই সঙ্গে শরীরও চনমনে হয়ে উঠবে।

৫. ওজন কমায়:

৫. ওজন কমায়:

চটজলদি অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাইলে বাসি রুটি খাওয়া শুরু করতে পারেন। কারণ এতে উপস্থিত ফাইবার অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমে যেতে শুরু করে। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে কম খেলে, ওজন বাড়ার আশঙ্কাও কমে। সেই সঙ্গে দেহে পুষ্টির ঘাটতিও দূর হয়। তাই যারা বাড়ির বাইরে তাকেন, তারা সকাল সকাল রুটি এবং দুধ খেতে পারেন কিন্তু!

Story first published: Wednesday, October 4, 2017, 11:29 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion