কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর দুর্বলতা এবং ক্লান্তি অনুভব করছেন? দেখুন দ্রুত সেরে ওঠার কিছু টিপস

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে, ক্লান্তি বা অবসাদ হল একটি দীর্ঘস্থায়ী সাধারণ উপসর্গ। করোনা থেকে সেরে ওঠার পর অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা এবং ক্লান্তির সমস্যায় ভোগেন। এই ক্লান্তিভাব আর দুর্বলতা, রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতেও বাধা দেয়। এমনকি পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্তির অনুভূতি ও দুর্বলতা বজায় থাকে। কারও কারও আবার ব্যথা-যন্ত্রণার অনুভূতিও হয়। কোভিড-পরবর্তী এই সমস্যাগুলোকে কিন্তু কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

Simple tips to combat post-Covid weakness and fatigue

তাই কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর নিজেকে ফিট রাখতে ও অ্যাক্টিভ থাকতে দৈনন্দিন বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে আসুন দেখে নেওয়া যাক, কোভিড-পরবর্তী ক্লান্তি এবং দুর্বলতা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন।

১) কঠোর শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন

১) কঠোর শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন

কোভিড-পরবর্তী সময়ে ব্যথা-যন্ত্রণা থেকে নিরাময় পেতে শরীরচর্চা করা একটি ভাল প্রতিকার। তবে এই সময় কখনোই কঠোর শরীরচর্চা করা উচিত নয়। এই সময় শক্তি সংরক্ষণের জন্য, দৈনন্দিন কাজকর্মের পরিমাণ বা শরীরচর্চা কিছুটা কমিয়ে দিন। এর পরিবর্তে মেডিটেশন, ধীরে হাঁটা, ম্যাসেজ থেরাপি, আকুপাংচার কিংবা যোগা-র মতো হালকা শরীরচর্চা করুন।

২) ভিটামিন ডি

২) ভিটামিন ডি

সূর্যালোক ভিটামিন ডি-এর ভাল উৎস। ভিটামিন ডি সক্রিয়ভাবে ক্যালসিয়াম বিপাক, নিউরোমাসকুলার এবং শরীরের ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতার সাথে জড়িত। তাই ভিটামিন ডি এর জন্য নিয়মিত ১৫-২০ মিনিট সূর্যালোকে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। এছাড়া ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। তবে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ভুলবেন না যেন।

৩) বাদাম এবং ড্রাই ফ্রুটস খান

৩) বাদাম এবং ড্রাই ফ্রুটস খান

নিয়মিত একমুঠো ড্রাই ফ্রুটসের গ্রহণ, ক্লান্তি প্রতিরোধকারী ভিটামিন এবং খনিজ তথা ক্যালসিয়াম, তামা, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, ভিটামিন A, C, E, K, B6 এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ হতে পারে। এগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে।

৪) পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন

৪) পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন

এই সময়ে খাদ্যতালিকায় হালকা, সহজে হজম হয় এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন, যেমন - মসুর ডালের স্যুপ, খিচুড়ি, ভাত এবং সজনের স্যুপ কিংবা চিকেন স্যুপ, প্রভৃতি। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, ভাজা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

৫) রুটিন মাফিক চলার চেষ্টা করুন

৫) রুটিন মাফিক চলার চেষ্টা করুন

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য রুটিন মাফিক চলা অত্যন্ত জরুরি। এটি আপনার এনার্জি বুদ্ধিমানের সাথে ব্যয় করা এবং খুব ক্লান্ত না হয়ে পড়ার একটি উত্তম উপায়। তাই যতটা রুটিন মাফিক চলবেন, ততটাই তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সহজ হবে।

৬) নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন

৬) নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন

সুস্থ থাকতে সর্বদা শরীরকে হাইড্রেট রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তরল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ালে, ক্লান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করাও খুব সহজ হয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, জুস, শরবত ও স্যুপ খাওয়ার পাশাপাশি, ওআরএস সাপ্লিমেন্ট, ভেষজ চা এবং কাড়া পান করুন।

৭) নিজের ঘুমের চক্র ঠিক রাখার চেষ্টা করুন

৭) নিজের ঘুমের চক্র ঠিক রাখার চেষ্টা করুন

এই পরিস্থিতিতে নিজের ঘুমের চক্র ঠিক রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যত বেশি বিশ্রাম নেবেন, তত দ্রুত নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে সক্ষম হবেন। তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা, আপনার শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যেরই উপকার করতে পারে। এটি আপনাকে উদ্যমী, ইতিবাচক এবং প্রাণবন্ত রাখতে পারে। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চাইলে, ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভির থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।

X
Desktop Bottom Promotion