মন্দিরে যাতায়াত আছে?

প্রতিদিন কিছুটা সময় মন্দিরে কাটাতে পারলে স্ট্রেসের নাম গন্ধও খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে মন্দিরের শান্ত পরিবেশ আমাদের শরীর এবং মনকে ঠান্ডা করে।

By Nayan

না, সাধারণত বিপদে না পরলে যাওয়া হয় না! আরে মশাই আপনি একা নন, সবারই একই অবস্থা। ব্যস্ততার মারে শ্বাস নেওয়ার সময় নেই। সেখানে ভাগবানের নাম্বার তো অনেক পরে। আপনিও কি এমনটা ভাবেন নাকি? তাহলে তো এই প্রবন্ধটা আপনার জন্যই লেখা। এই লেখাটিতে একবার নজর বোলালে দেখবেন আপনার অবস্থাও হবে আমার মতোই। যে এক সময় কালেভদ্রে মন্দিরে যেত, সেখানে এখন সপ্তাহে বার দুয়েক মন্দিরের চক্কর মারে। হঠাৎ এমন পরিবর্তনের কারণ কী? কী এমন লেখা আছে এই প্রবন্ধে? এইসব উত্তর পেতে খুব মন চাইছে, তাই তো? ৫ মিনিট খরচ করতে পারাবেন? তাহলেই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

পশ্চিমা সভ্যতা বরাবরই আমাদের সংস্কৃতি দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছে। কারণ তাদের মনে হয়েছে আমাদের দেশের শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের আন্দরে এমন কিছু রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, যা সামনে আনতে পারলে সাধারণ মানুষের জীবনটাই বদলে যাবে। যেমন সম্প্রতি একদল আমেরিকান গবেষক প্রমাণ করেছেন মন্দিরে গেলে যে শুধু আধ্য়াত্মিক বিকাশ ঘটে, এমন নয়। সেই সঙ্গে শরীরেরও উন্নতি ঘটে। মানে! শরীরের ভাল-মন্দের সঙ্গে মন্দিরে যাওয়ার কী সম্পর্ক?

১. স্ট্রেস কমতে শুরু করে:

১. স্ট্রেস কমতে শুরু করে:

ভারত সরকারের প্রকাশ করা একাধিক রিপোর্টের দিকে নজর ফেরালেই বুঝতে পারবেন এই দুটি শব্দের শারীরিক সমস্যাটি, যাকে কেউ স্ট্রেস বলে, তো কেউ মানসিক চাপ, কতটা ভয়ঙ্কর। গত এক দশকে যে যে রোগের প্রকোপে সারা বিশ্বজুড়ে সব থেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেগুলির সবকটির সঙ্গে স্ট্রেসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই তো এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন মন্দির যাওয়া মাস্ট! কারণ গবেষণা বলছে প্রতিদিন কিছুটা সময় মন্দিরে কাটাতে পারলে স্ট্রেসের নাম গন্ধও খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে মন্দিরের শান্ত পরিবেশ আমাদের শরীর এবং মনকে ঠান্ডা করে। ফলে বেশ কিছু ক্ষতিকর হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসার কারণে ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মনের জোরও বাড়তে থাকে। ফলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

২. বাস্তুশাস্ত্রের গুণ:

২. বাস্তুশাস্ত্রের গুণ:

মন্দির সব সময়ই বাস্তুশাস্ত্র মেনে তৈরি করা হয়। ফলে এমন জায়গায় কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা তো থাকেই না। বরং স্থানগুণে শরীর এবং মনের বিকাশ ঘটে। একানেই শেষ নয়, এবার থেকে মন্দির গেলে খেয়াল করবেন বিগ্রহ সব সময় মন্দিরের চূড়ার নিচে থাকে। এমনটা হওয়ার কারণে প্রার্থনার সময় মন্দির জুড়ে সেই প্রার্থনার গুঞ্জন ইকো হতে থাকে, ফলে তার সুপ্রভাব পরে মনের উপর।

৩. ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ কমে:

৩. ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ কমে:

শঙ্খ বাজালে যেমন আশেপাশে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষতিকর জীবাণুরা মারা যায়। ঠিক তেমনি মন্দিরের ঘন্টার আওয়াজে জীবাণুরা মারা যেতে থাকে। ফলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৪. মনের জোর বাড়ে:

৪. মনের জোর বাড়ে:

বাংলায় একটা কথা আছে না, "বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর"। কথাটি এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। কীভাবে? খেয়াল করে দেখবেন একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে ভগবান এবং আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ককে বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তা তে বলা হয়েছে যখন আমরা আমাদের সব বিশ্বাস দিয়ে কোনও কিছু মানতে শুরু করি, তখন সেই কাজটি করা খুব সহজ হয়ে যায়। আর এই বিশ্বাসেরই জন্ম দেয় ভগবান। আমরা ভগবানের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ইচ্ছার কথা বলতে থাকি। সেই সঙ্গে এও বিশ্বাস তৈরি হয় যে ভগবান আমাদের ইচ্ছা পূরণ করবে। আসলে সে সময় আমাদের অন্দরেই ইচ্ছা পূরণের শক্তি তৈরি হতে শুরু করে, যার বলে নিজেদের অজান্তে কখন যে আমরা লক্ষের দিকে এগিয়ে চলি, তা বুঝতেও পারি না। আর যখন ইচ্ছা পূরণ হয়, তখন আমাদের মনে করি ভগবান আমাদের সাহায্য করেছেন। আসলে কিন্তু আমরাই আমাদের সাহায্য করে থাকি।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

মন্দিরে প্রবেশ করার সময় আমাদের খালি পায়ে থাকতে হয়। সে সময় পায়ের তলায় থাকা কিছু প্রেসার পয়েন্টে চাপ পরে, যেমনটা আকুপাঞ্চারের সময় হয়ে থাকে। এই চাপ পরার কারণে শরীরের প্রতিটি কোনায় রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। আর হাত জোর করে প্রার্থনা করার সময় হাতের তালুতে ঘর্ষণ হওয়ার কারণে মন এবং শরীরের ক্লান্তি দূর।

৬. চরণামৃতের শক্তি:

৬. চরণামৃতের শক্তি:

খেয়াল করে দেখবেন বড়-ছোট প্রায় সব মন্দিরেই তামার পাত্রে রাখা থাকে চরণামৃত। আর তাতে ভাসতে থাকে তুলসি পাতা। আয়ুর্বেদ মতে এমন পানীয় খেলে তামার গুণে শরীরের নানাবিধ উপকার তো হয়ই। সেই সঙ্গে তুলসি পাতা খাওয়ার কারণে স্বাদ গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, সর্বোপরি হার্ট এবং কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন মন্দির না গেলে কতটা ক্ষতি হয় আমাদের শরীরের।

Story first published: Tuesday, August 8, 2017, 15:40 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion