সাবধান: আমির খানের পর আপনার যেন নাম্বার না আসে!

Written By:
Subscribe to Boldsky

বেশ কয়েক দিন ধরে ভাইরাসটা দাপাদাপি শুরু করেছিল বটে। কিন্তু সেভাবে কামড় বাসাতে পারেনি। আর যখন আঘাত আনল, তখন একেবারে আমির খানকে কাবু করে ফেলল। গত কাল থেকেই একটা খবর এদিক সেদিক ঘুরছিল যে আমির খান এবং তাঁর স্ত্রী কিরণ রাও সোয়াইন ফ্ল ভাইরাসে আক্রান্ত। আজ সেকথা আমির নিজে মুখেই মেনে নিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে খান দম্পতিকে আগামী কয়েকদিন জন সমক্ষে আসতেও মানা করেছেন চকিৎসকেরা। সেই সঙ্গে ভাল করে আরাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দুজনকে।

এই ঘটনায় আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল যে রোগ কোনও জাত-ধর্মকে মানে না। আপনি সমাজের উপরের তলার বাসিন্দা হোন, কী নিচের তলার, তাতে কিচ্ছুটি এসে যায় না। তাই তো সময় থাকতে থাকতে সাবধান হওয়াটা জরুরি। না হলে কিন্তু মারাত্মক বিপদ! কিন্তু প্রশ্নটা হল এইচ ১ এন ১ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা মিলবে কীভাবে?

মহান যোদ্ধা চেঙ্গিস খানের জীবনী পড়লে জানা যায়, ১২০৪ সালে তার সব থেকে প্রধান বিরোধী জামুকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে তার সৌন বাহিনীকে একটি মাত্র পরামর্শ দিয়েছিলেন এই মহাম সম্রাট। বলেছিলেন, "যে কোনও যুদ্ধ তখনই জেতা সম্ভব যখন বিরোধী পক্ষের সম্পর্কে তোমার কাছে সব তথ্য রয়েছে।" এই কথাটা যে কতটা সত্যি, তা প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ পরবর্তি সময়কার ইতিহাসে চোখ রাখলেও প্রমাণ হয়ে যায়। কারণ বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সে সময় বিবিন্ন দেশ গড়ে তুলেছিল নিজ নিজ গোয়েন্দা সংস্থা, যাদের একমাত্র কাজই ছিল অন্য দেশের সামরিক এবং অন্যান্য নান বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ঠিক ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। হয়তো ভাবছেন এইচ ১ এন ১ ভাইরাস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হঠাৎ ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে লাগলাম কেন, তাই তো?

আসলে এই মারাত্মক ভাইরাসটিকে যদি হারাতে হয়, তাহলে তার সম্পর্কে সব ধরনের খবর সংগ্রহ করে নেওয়াটা জরুরি। তবেই না সুস্থ থাকতে পারবেন!

কী এই এইচ ১ এন ১ ভাইরাস:

কী এই এইচ ১ এন ১ ভাইরাস:

মূলত শূকরের শরীর থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তাই তো এই রোগকে সোওয়াই ফ্ল বলা হয়। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই রোগটি একবার কারও হলে নিমেষে তা অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পরে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, চিকিৎসকেরা কী কারণে আমির খান এবং কিরণ রাওকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সোওয়াইন ফ্ল ভাইরাস বলতে মূলত এইচ ১ এন ১ ইনফ্লয়েঞ্জা ভাইরাসকে বলা হয়ে থাকে, যা শূকরের পাশাপাশি পাখি এবং মানুষের দ্বারাও ছড়িয়ে পরতে পারে।

কী কী কারণে এই রোগ হতে পারে:

কী কী কারণে এই রোগ হতে পারে:

অনেক কারণে এই রোগ মানব শরীরের জায়গা করে নিতে পারে। যেমন...

১. ভাইরাস আক্রান্ত শূকরের সংস্পর্শে এলে:

এই রোগ হওয়ার সব থেকে প্রথম এবং প্রধান কারণ হল এইচ ১ এন ১ ভাইরাসে আক্রান্ত শূকরের সংস্পর্শে আসা। একবার এমনটা হলেই নিমেষে এই ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করে যায়। তারপর এক শরীর থেকে আরেক শরীরে বাসা বদল করতে করতে আরও অনেককে এই রোগে আক্রান্ত করে তোলে।

২. ভাইরাস আক্রান্ত কোনও মানুষের কাছাকাছি এলে:

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে ভাইরাসটি মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং সবথেকে ভয়ের বিষয় হল এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথম কয়েকদিন একেবারে বুঝতেই পারা যায় না, যে কারণে এই রোগের চিকিৎসা শুরুর আগে অনেকের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তো এমন রোগীদের জনসমক্ষে আসার অনুমতি দেওয়া হয় না। যেমনটা আমিরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। অর্থাৎ প্রাণীর শরীর থেকে যেমন এইচ ১ এন ১ ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তেমনি আমরাও এই ভাইরাসের বাহক হয়ে উঠতে পারি। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত যেহেতু এই রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তাই অতিরিক্ত সাবধান থাকাটা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

কী কী লক্ষণের বিহঃপ্রকাশ ঘটে?

কী কী লক্ষণের বিহঃপ্রকাশ ঘটে?

এই রোগে আক্রান্ত হলে সারা শরীরে যন্ত্রণা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, কাশি, ডায়ারিয়া, মাথা যন্ত্রণা, গলায় ব্যথা, জ্বর, মারাত্মক ক্লান্তি এবং বমি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

চিকিৎসা:

চিকিৎসা:

এক্ষেত্রে সাধারণত লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে যে সিমটম দেখা দিয়েছে তার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়। এই হল এইচ ১ এন ১ ভাইরসের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া চিকিৎসার প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে রোগের প্রকোপ যদি আরও বাড়ে, ধরা যাক কোনও রোগীর শ্বাস কষ্ট শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে সেই মতো আরও কিছু ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। এক কথায় সোওইন ফ্ল ভাইরাসের ভ্যাকসিন যেহেতু এখনও বাজারে আসেনি, তাই লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

এই ভাইরাসটি থেকে দূরে থাকার কোনও উপায় আছে কি?

এই ভাইরাসটি থেকে দূরে থাকার কোনও উপায় আছে কি?

অবশ্যইই আছে। তবে তার জন্য কতগুলি সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন। যেমন- ১. খাওয়ার আগে মনে করে ভাল করে হাত ধোবেন। কারণ হাতের মাধ্যমেই এই ভাইরাস এক জনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। ২. দিনে ৭-৮ ঘন্টার ঘুম জরুরি। শরীর যত রেস্ট পাবে, তত ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য তৈরি হয়ে উঠবে। ৩. শরীরচর্চা মাস্ট। ৪. স্ট্রেস লেভেল যাতে কম থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে হবে। ৬. পরিমিত আহর করতে হবে। পুষ্টির ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকে খেয়ল রাখাটা জরুরি। ৭. অসুস্থ মানুষদের থেকে দূরে থাকবেন। ৮. যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলবেন। কে বলতে পারে কার শরীরে এই ভাইরাস এসে বাসা বেঁধেছে।

কাদের এই রোগ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

কাদের এই রোগ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে সাধারণত যাদের বয়স ৬০ পেরিয়েছে, তাদের যেমন এই ভাইরাস বেশি আক্রমণ করে থাকে, তেমনি ৫ বছরের কম বয়সি বাচ্চাদেরও এমন রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ এই দুই বয়সিদেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম থাকে, ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এই ভাইরাস খুব সহজে, বিনা বাঁধায় শরীরে প্রবেশ করে যেতে পারে।

Read more about: শরীর, রোগ
English summary
Aamir Khan and wife, filmmaker Kiran Rao were down with swine flu.Aamir’s spokesperson added, “Even Kiran has swine flu. She is also down. She got it from Aamir. As a result of their viral infection, they were not able to attend the most important day of Paani Foundation, the annual prize distribution.”
Please Wait while comments are loading...