জানেন কি নিয়মিত গান শোনা কতটা উপকারি?

কাজের ফাঁকে হোক কিংবা ফ্রি টাইমে, সুযোগ পেলেই আমরা গান সোনায় মত্ত হয়ে উঠি। কেউ মনোরঞ্জনের জন্য শোনেন, কেউ ভালোলাগা থেকে শোনেন, আবার অনেকে অবসর সময় অতিবাহিত করতে গানকে বেছে নেন। তবে আমরা অনেকেই জানিনা যে, এই গান শুধু মনোরঞ্জন বা এসবের জন্য নয়, আমাদের শরীর-মনের স্বাস্থ্যের জন্যেও খুবই উপকারি!

গবেষকদের মতে, গান কেবল মন ভাল করা, মনকে শান্ত ও চনমনে রাখে না, এটি অসুখবিসুখও সারাতে পারে। তবে চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন গান সোনার উপকারিতা সম্পর্কে।

Positive Benefits Of Listening To Music

১) গবেষকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, গান মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের মন-মেজাজ ও মস্তিস্ককে সচল রাখতে গানের গুরুত্ব অপরিসীম।

২) গবেষকদের মতে, হতাশায় ভুগতে থাকা রোগী ভুলে যেতে পারেন তাঁর কষ্ট, ব্যথা-বেদনার কথা। এই ধরণের মানুষ সাময়িক ভাবে হলেও চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারেন৷ স্ট্রেস-টেনশনে জর্জরিত মানুষও খুঁজে পেতে পারেন তাঁদের সমস্যার হাল। কারণ, পছন্দের গান সোজা গিয়ে হানা দেয় মস্তিষ্কের আবেগ কেন্দ্র হাইপোথ্যালামাস নামের অংশে৷ তাই কখনও কখনও চিকিৎসকেরা এই ধরণের রোগীদের ওষুধের পরিবর্তে গানকে আপন করিয়ে মিউজিক থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করেন।

৩) উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, হসপিটাল সিকনেস, বাত, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো অসুখ, সেরিব্রাল পাল‌্‌সি ও অটিজম- এর মতো কঠিন অসুখের চিকিৎসার সঙ্গে মিউজিক থেরাপি করলে রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে!

৪) বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, গান শোনার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়াতে পারে। আর রোগ প্রতিরোশ ক্ষমতা বাড়লেই নানাবিধ সংক্রমণের থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫) মার্কিন গবেষকদের দাবি, গান মনসংযোগ বৃদ্ধিতে ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশে সাহায্য করে। তাঁরা মনে করেন যে, অঙ্ক করার সময় কেউ যদি গান শোনে তবে বৃদ্ধি পায় সাফল্যের হার। আবার গবেষকরা এও জানাচ্ছেন যে, খাওয়ার সময় গান শুনলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

X
Desktop Bottom Promotion