বাথরুম পরিষ্কার রাখার কিছু জরুরি টিপস!

By: Swaity Das
Subscribe to Boldsky

শুধু পরিষ্কার ঘর নয়, একই সঙ্গে পরিষ্কার রাখতে হবে বাথরুমকেও। পরিষ্কার বাথরুম মানেই যে অনেক খরচ করে ঝাঁ চকচকে বানাতে হবে, তা নয় কিন্তু। পরিষ্কার বাথরুম প্রতিটি বাড়িতে থাকাটা দরকার। কারণ এটি আমাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাথরুম পরিষ্কার রাখতে আমাদের কিছু জিনিসের প্রয়োজন পরে। যেমন- টয়লেট ক্লিনার, টয়লেট ব্রাশ, কিছু জীবাণুনাশক এবং অবশ্যই আপনার হাতে থাকা কিছু সময়।

তবে, শুধুমাত্র নোংরা পরিষ্কার নয়, মাথায় রাখতে হবে বাথরুম যেন থাকে একেবারে জীবাণুমুক্ত। বাথরুমে জীবাণু সবথেকে বেশি থাকে পরিষ্কার করার ব্রাশে, কমোডের পেছনের অংশে আর কমোডের সিটে। তবে ঠিকঠাক পদ্ধতি মেনে চললে এই সব সমস্যাও খুব সহজে দূর করা যায়।

আচ্ছা, আপনাদের মতে, সবথেকে বেশি নোংরা বাথরুমের কোথায় জমে থাকতে পারে? আপানারা অনেকেই ভাবছেন যে সবথেকে বেশি নোংরা হয় বাথরুমের মেঝে, কমোড এবং তার পেছনের অংশ এইসব তাই তো? কিন্তু না। সবথেকে অবাক হওয়ার বিষয় হল, আমাদের বাথরুমে সবথেকে নোংরা জিনিস হল বাথরুম পরিষ্কার করার ব্রাশ। এই ব্রাশ থেকেই সবথেকে বেশি জীবাণু ছড়ায়। কারণ বহু মানুষ আছেন, যারা বাথরুম পরিষ্কার করার পর ব্রাশটা ভালো করে ধোন না। ফলে ব্রাশের ভিতরে লেগে থাকে বাথরুমের যাবতীয় নোংরা। আর সেই থেকেই জীবাণু খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে বাথরুম পরিষ্কার করার পর ব্রাশটিকে একটি জীবাণুনাশক তরল বা ব্লিচের মধ্যে এক রাত ভিজিয়ে রেখে দিন। ব্যস, খুব অনায়াসেই ব্রাশ একেবারে নতুনের মতো হয়ে যাবে।

বাথরুম পরিষ্কার করার সময় আমাদের সবথেকে বেশী মুশকিলে পড়তে হয় যখন কমোডের পেছনের অংশ পরিষ্কার করতে হয়। কারণ, কমোডের পেছনের অংশে কোনও ব্রাশ পৌছতে পারে না। ফলে, নোংরাও প্রচুর জমা হয়। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করুন জীবাণুনাশক স্প্রে। এছাড়াও বাথরুম পরিষ্কার করার অভিনব কিছু টিপস আপনাদের সামনে হাজির করছে বোল্ড স্কাই।

tips for cleaning the toilet right

জীবাণুনাশক

বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য সবথেকে ভাল হচ্ছে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা। বাথরুমে বা কমোডে এমন কিছু দাগ বা জীবাণু থাকে, যা খুব সহজে পরিষ্কার করা মুশকিল। তাই, সারারাত কোনও ভাল জীবাণুনাশক লাগিয়ে রাখতে পারেন, আবার কোনও কাপড় জীবাণুনাশক তরলে ডুবিয়ে রাখতে পারেন। পরে সেই কাপড়টি দিয়ে ভালো করে বাথরুমের ফ্লোর বা কমোডের ভিতরে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই হল। প্রসঙ্গত, আমরা যখন কমোড পরিষ্কার করি তখন চেষ্টা করি যাতে কমোডের সব অংশই ভালো করে পরিষ্কার হয়। যদিও সেটা কিন্তু হয়ে ওঠে না। তাই নোংরা জমে থাকে কমোডের রিমের ভিতর। অর্থাৎ কমোডের সিটের নীচে ঘেরা চওড়া অংশটিতে। এখানে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়ারাই আমাদের ক্ষতি করে। ব্রাশ কমোড পরিষ্কার করার জন্য সঠিক মাপের ব্রাশ নিন। চেষ্টা করুন ব্রাশটি শুধুমাত্র যেন কমোডের ভিতরে নয়, আশেপাশের অংশতেও সহজে ব্যবহার করার যায়। বিশেষ করে কমোডের রিমের অংশটিতে। কমোডের রিমের অংশটি ভাল করে পরিষ্কার করতে পুরনো দাঁতের ব্রাশও ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন বাথরুম বা কমোড পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই গ্লভস ব্যবহার করবেন।

tips for cleaning the toilet right

সাদা ভিনিগার

বাথরুম এবং কমোড পরিষ্কার করার জন্য এক দারুণ উপায় হল ভিনিগার। শুধুমাত্র দুর্গন্ধ দূর করা নয়, জলের হলদে দাগও সহজে দূর করে ভিনিগার। ভিনিগারের সব থেকে বড় গুণ হচ্ছে এটি জীবাণুনাশক এবং সহজেই দাগ দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি ১০০% বিষাক্তহীন। প্রতিদিন বাথরুম পরিষ্কারে ভিনিগার ব্যবহার করলে খুবই ভালো হয়। এছাড়াও ভিনিগারের সঙ্গে লেবু বা ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহার করতে পারেন, যাতে বাথরুমে সুন্দর গন্ধ থাকে।

tips for cleaning the toilet right

ঠিকভাবে ফ্লাশ করুন

বাথরুম পরিষ্কার রাখতে হলে যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হল বাথরুম ব্যবহার করার পর সঠিকভাবে ফ্লাশ করা। প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা নামিয়ে তারপর ফ্লাশ করলে ভালো হয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাথরুমে রাখা দাঁত মাজার ব্রাশে প্রচুর পরিমাণে জীবাণু পাওয়া যায়। তাঁর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় যে, প্রতি মিনিটে কমোডের ফ্লাশ থেকে মল মূত্রের জীবাণু নির্গত হয়। তার থেকেই সেই জীবাণু এসে বাসা বাঁধে বাথরুমে রাখা অন্যান্য জিনিসের মধ্যে। তাই প্রত্যেকবার বাথরুম ব্যবহার করে সঠিকভাবে পরিষ্কার তো বটেই, নিয়ম করে বাথরুমের প্রতিটি কোনা পরিষ্কার রাখাও খুব জরুরি।

Read more about: শরীর, রোগ
English summary
A clean toilet is more than a luxury; it's a bare necessity, and it's also perfectly achievable; all it takes is some toilet cleaner, a good toilet brush, some disinfectant, the right inclination and some time off your holiday.
Please Wait while comments are loading...