দীপাবলি উদযাপন হোক সুগার ফ্রি মিষ্টি দিয়ে, বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন অভিনব সব মিষ্টি!

উৎসবের মরসুম মানেই হরেক রকমের মিষ্টির বাহার। মিষ্টিমুখ ছাড়া কি আর উৎসব মানানো যায়! রকমারি মিষ্টি কেনার আশায় দোকানে পড়ে লম্বা লাইন। কিন্তু দোকানের রসগোল্লা, পান্তুয়া, সন্দেশ, লাড্ডু, গজা দেখলে লোভ লাগলেও, মনের মধ্যে অজানা এক ভয় কাজ করে। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, ওজনও বাড়বে হুড়মুড়িয়ে। তাই মন চাইলেও উপায় নেই।

তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখেই যদি মিষ্টিমুখ করা যায়, তাহলে ক্ষতি কী? বাড়িতেই তৈরি করে ফেলুন চিনি ছাড়া পছন্দের সব মিষ্টি। এ বারের দীপাবলি কাটান 'সুগার ফ্রি' ভাবে। আজ আপনাদের জন্য রইল চার রকমের মিষ্টির হদিশ। যা কিনা অনায়াসে খেতে পারবেন সকলে।

no-sugar sweets recipes

আমন্ড দুধ দিয়ে ক্ষীর

উৎসবে-অনুষ্ঠানে ঘরে ঘরে পায়েস বা ক্ষীর রান্না হয়েই থাকে। ক্ষীর খেতে সুস্বাদু হলেও, এতে প্রচুর চিনি থাকার কারণে সুগারের রোগীদের ক্ষেত্রে বিষের মতো কাজ করে। ওজন বেড়ে যাওয়ারও একটা ভয় থাকে। তবে এই ক্ষীরকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানালে যে কেউ অনায়াসে খেতে পারবে। সে ক্ষেত্রে রোজকার দুধের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে আমন্ড মিল্ক। চিনির পরিবর্তে দিতে পারেন গুড়। এতে মিষ্টত্বও বজায় থাকবে, আর খেতেও দারুণ লাগবে। এর সঙ্গে এলাচ গুঁড়ো এবং সামান্য কেশর দিলে স্বাদ আরও ভালো হবে।

চিনি ছাড়া গুলাব জামুন

গুলাব জামুন কমবেশি সকলেরই খুব প্রিয়। কিন্তু খেতে ভালো লাগলেও, অতিরিক্ত মিষ্টির ভয়ে পিছিয়ে যান সকলে। আপনি চাইলে দোকান থেকে না কিনে, বাড়িতেই কিন্তু স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করতে পারেন গুলাব জামুন। সে ক্ষেত্রে এতে সাধারণ চিনি ব্যবহার না করে, স্টেভিয়া বা খেজুর বেটে মিশিয়ে নিতে পারেন। চিনির সিরার বদলে ব্যবহার করুন রোজ সিরাপ। তাহলে গুলাব জামুনের মিষ্টত্বও বজায় থাকবে, আর স্বাস্থ্যকরও হবে। সকলে নির্দ্বিধায় খেতে পারবে। বিশেষ করে, ডায়াবেটিস রোগী এবং স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের জন্য তো খুবই উপকারী ঘরে তৈরি এই গুলাব জামুন।

খেজুর ও বাদামের লাড্ডু

বিভিন্ন রকম বাদাম, বীজ এবং খেজুর একসঙ্গে মিক্সিতে বেটে নিন। এই মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। হাতে সামান্য একটু ঘি মাখিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রণ থেকে ছোটো ছোটো লেচি কেটে গোল করে লাড্ডুর আকারে পাকিয়ে নিন। খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ আছে। ফলে আলাদা করে চিনি বা গুড় মেশানোর প্রয়োজন পড়ে না। শুধু ডায়াবেটিস রোগীরাই নন, যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাঁরাও নিজেদের ডায়েটে এই মিষ্টি রাখতে পারেন।

চিনি ছাড়া ফলের চাট

বিভিন্ন টাটকা ফলমূল এবং চাট মশলা দিয়ে তৈরি ফ্রুট চাট খেতে যেমন ভালো লাগে, তেমনই স্বাস্থ্যকর। এতে আলাদা করে চিনি যোগ করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ তো আছেই, তার সঙ্গে ঝাল-টকযুক্ত চাট মশলার মেলবন্ধনে বেশ সুস্বাদু হয় খেতে। এতে ক্যালোরিও কম। যে কারণে ডায়াবেটিসের জন্য তো উপকারিই, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের জন্যও সেরা বিকল্প।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য পরামর্শস্বরূপ। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

X
Desktop Bottom Promotion