গান শুনলে কমবে মানসিক অবসাদ-অ্যাংজাইটি:বলছে স্টাডি!

By Nayan
Subscribe to Boldsky

আজকের প্রজন্মের নানা খারাপ অভ্যাস আছে বৈকি। তবে বেশ কিছু ভাল দিকও রয়েছে, আর তা অন্যতম হল গান শোনার অভ্যাস। আজকাল রাস্তার বেরলেই দেখবেন সবার কানেই হেডফোন। এমন অভ্যাসের কারণে তাদের যে বেজায় বিপদে পরতে হচ্ছে না, এ ময় যদিও! তবে মিলছে অনেক উপাকারও। এই যেমন ধরুন সম্প্রতি প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে গান শোনার এমন অভ্যাসের কারণে নাকি দূরে থাকতে বাধ্য হয় ডিপ্রেশনের মতো রোগ।

প্রায় ৪২১ জনের উপর করা এই গবেষণাটি চলাকালীন বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছিলেন চিরাচরিত পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে যতটা দ্রুত ডিপ্রেশনকে বাগে আনা সম্ভব, তার থেকে অনেক তাড়াতাড়ি সম্ভব মিউজিক থেরাপির সাহায্যে। সহজ কথায় মন খারাপের কালো মেঘের চাদর সরাতে গানের যে কোনও বিকল্প নেই, সে কথা মেনে নিয়েছেন গবেষকরা।

ডিপ্রেশনের কারণে আমাদের দেশের বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে এই গবেষণা যে অনেকটাই আশার আলো নিয়ে আসবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে প্রায় ৫ কোটি মানুষ ডিপ্রেশনের শিকার। শুধু তাই নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে ডিপ্রেশনজনিত আত্মহত্যার নিরিখেও ভারতের স্থান অনেক উপরেরে দিকে। অন্যদিকে, সারা বিশ্বে এই সময় প্রায় ৩০০ মিলিয়ান মানুষ এই ভয়ঙ্কর রোগের জালে জড়িয়ে পরেছেন এবং আগামী ২-৩ বছরে এই সংখ্যাটা যে আরও বাড়বে, তা মেনে নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মিউজিত খেরাপি কীভাবে মানসিক অবসাদেকে নিয়ন্ত্রণে আনে?

এই গবেষণাটি চলাকীলন গবেষকরা লক্ষ করেছিলেন গান শোনার সময় আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে ফিল গুড হরমমোনের ক্ষরণ খুব বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মন চাঙ্গা হয়ে উঠতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের প্রকোপও হ্রাস পায়। তবে মিউজিক থেরাপি যে কেবল মানসিক অবসাদ কমাতেই কাজে লাগে, এমন নয়। নিয়মিত গান শুনলে মেলে আরও অনেক শারীরিক উপকার। যেমন...

১. স্ট্রেস কমে:

১. স্ট্রেস কমে:

আজকের প্রতিযোগীতার যুগে সবাই যে প্রতিনিয়ত দৌড়ে চলেছে। জিততে হবে সবাইকে। একটু পিছিয়ে গেলেই বিপদ! এমন পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ বেড়ে মস্তিষ্ক যে প্রেসার কুকারে রূপান্তরিত হবে, এ আর নতুন কথা কী! কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে স্ট্রেস বাড়তে বাড়াতে যদি একবার তা ক্রণিক স্টেজে পৌঁছে যায়, তাহলেই বিপদ! সেক্ষেত্রে মানসিক চাপের কারণে শরীরে এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে নানা রোগ। ফলে জীবন ধীরে ধীরে দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। তাই তো স্ট্রেসকে বাগে রাখটা সবারই প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত। আর এই কাজটি করতে গান শোনার অভ্যাস যে আপনাকে দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আসলে মানসিক চাপ বাড়ার সময় যদি একটু পছন্দের গান শুনে নেওয়া যায়, তাহলেই মস্তিষ্কের অন্দরে সেরাটোনিন এবং ডোপামাইনের মতো ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্ট্রেস কমতে সময়ই লাগে না।

২. যন্ত্রণা কমায়:

২. যন্ত্রণা কমায়:

২০১৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে অসহ্য যন্ত্রণার সময় যদি পছন্দের কোনও গান শোনা যায়, তাহলে কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না। এই কারণেই তো হাসপাতালে একেবারে ধীমে লয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বা হালকা লয়ের কোন গান চালানো হয়ে থাকে। এমনটা করার কারণে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের মানসিক অবস্থার অনেকটাই যে পরিবর্তন হয়, তা বেশ কিছু কেস স্টাডিতে প্রমাণিত হয়ে গেছে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

কথাটা শুনতে অবাক লাগলেও বেশ কিছু গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে গান শোনার সঙ্গে আমাদের শরীরের ভাল-মন্দের অনেকাংশেই যোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতেও গানের যে বিশেষ একটা ভূমিকা রয়েছে সে বিষযে কোনও সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত, উইলকেস ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে গান শোনার সময় আমাদের শরীরের অন্দরে "আই জি- এ" নামক অ্যান্টিবডির কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। এই অ্যান্টিবডিটি যত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তত রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা জোড়দার হয়। আর ইমিউনিটি একবার বেড়ে গেলে যে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না, তা কি আর বলে দিতে হবে!

৪. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে:

৪. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে:

গত বছর প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে গান শোনার সময় আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে পরিবর্তন হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যে কারণে ব্রেনের বিশেষ একটা অংশ এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে স্মৃতিশক্তি বাড়তে শুরু করে। শুধু তাই নয়, কোনও রোগের কারণে যাদের স্মৃতিশক্তি কমে গেছে তাদের যদি নিয়মিত গান শোনানো যায়, তাহলে ব্রেনের অ্যাকটিভিটিতে যে অনেক পরিবর্তন আসে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন একদল নিউরোলজিস্ট।

৫. শরীরচর্চা করার সময় অনুপ্রাণিত করে:

৫. শরীরচর্চা করার সময় অনুপ্রাণিত করে:

একদল ইংরেজ গবেষক একটি পরীক্ষা চলাকালীন খেয়াল করেছিলেন হাই বিটের কোন গান শেনার সময় যদি শরীরচর্চা করার যায়, তাহলে এক্সারসাইজ করার ইচ্ছা বাড়তে শুরু করে। কারণ গান শোনার সময় মন ভাল হয়ে যায়। আর একবার মন চাঙ্গা হয়ে উঠলে যে কোনও কাজেই যে ১০০ শতাংশ দেওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়, তা তো আমরা রোজকার জীবনে খেয়াল করেই থাকি, তাই না!

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: রোগ শরীর
    English summary

    মিউজিক থেরাপি যে কেবল মানসিক অবসাদ কমাতেই কাজে লাগে, এমন নয়। নিয়মিত গান শুনলে মেলে আরও অনেক শারীরিক উপকার। যেমন...

    Traditional depression treatments like psychotherapy or medication might work better for some patients when doctors add a dose of music therapy, a research review suggests.
    Story first published: Thursday, December 14, 2017, 10:50 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more