টাকা দিয়েও করানো যাচ্ছে না শরীরচর্চা: বলেছে সমীক্ষা!

By Swaity Das

জিমে যেতে একেবারেই মন চায় না। উফফ... আবার আজ যেতে হবে! এমন ধরনের চিন্তা যেন মাথাজুড়ে ঘুরপাক খেতে থাকে। তবে ভাববেন না জিমের প্রতি অলসতা একমাত্র আপনাকেই ঘিরে ধরেছে। এই লাইনে আরও অনেকে আছে। একটি সমীক্ষা বলছে, কিছু মানুষ আছেন যাদের নগদ টাকা দিলেও তারা জিমে যাওয়ার আলস্য কাটাতে পারেন না। আমেরিকার এক জিমের আটশোরও বেশি সদস্যদের নিয়ে এই সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল। তাতেই এমন আকর্ষণীয় তথ্য উঠে এসেছে।

এখানেই শেষ নয়, ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকনমিক রিসার্চ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র জানাচ্ছে যে পছন্দের সময় এবং সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেও অনেকে ব্যায়াম করতে চান না। ওহায়োর ক্লিভল্যান্ড শহরের কেস ওয়েসটার্ন ইউনিভার্সিটির সহ অধ্যাপিকা মারিয়ানা কারেরা এই গবেষণাপত্রের একজন অন্যতম লেখক ছিলেন। তিনি জানাচ্ছেন, "ইচ্ছুক মানুষেরাও নিয়মিত শরীরচর্চা করতে চান না। কারণ আলস্য! এমনকি এক্ষেত্রে পুরষ্কার দিয়েও মানসিকতার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। এদেরই অনেকে প্রথমে ভেবেছিলেন যে পুরষ্কার পেলে রোজ শরীরচর্চা করবেন, কিন্তু করে উঠতে পারেননি।" ছ'সপ্তাহের এই সমীক্ষার শুরুটা কিন্তু বেশ আশাব্যাঞ্জক ছিল। সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে তিন বার করে জিমে যাওয়া শুরু করেছিলেন। তবে কয়েক দিন যেতে না যেতেই সংখ্যাটা কমতে শুরু করল। আর একেবারে শেষে বেশিরভাগই সপ্তাহে মাত্র একবার আসা শুরু করলেন।

টাকা দিয়েও করানো যাচ্ছে না শরীরচর্চা: বলেছে সমীক্ষা!

এই ছ'সপ্তাহে মোট ন'বার, অর্থাৎ গড়ে সপ্তাহে দেড় বার, পুরষ্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল অ্যামাজনের ৩০ এবং ৬০ ডলারের গিফট ভাউচার অথবা ব্লেন্ডার অথবা সমান দামি কোনও জিনিস দেওয়া হবে। তবু ইচ্ছুক মানুষের সংখ্য়া বাড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে কমেছে। যদিও একটি দলের সদস্যরা নিয়মিত জিমে গিয়ে অ্যামাজনের ৩০ ডলারের গিফট ভাউচার পুরষ্কার হিসাবে পেয়েছিলেন বটে। কিন্তু তাদের মধ্যে প্রথম সপ্তাহের পর ১৪ শতাংশ সদস্য আর জিমের মুখ দেখেননি।

পুরষ্কারের তালিকায় যাদের নাম উঠেছিল তারা আরও পুরষ্কারের লোভে শেষ পর্যন্ত শরীরচর্চা চালিয়ে গেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ষষ্ঠ সপ্তাহের পরেও তাঁদের অতিসামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অন্যদিকে, যাদের ৬০ ডলারের গিফট ভাউচার দেওয়ার কথা বলা হযেছিল তাদের হাল ওই আগের দলের মতোই ছিল।

গবেষকরা মনে করেছিলেন যে সমীক্ষার শুরুতেই যদি পুরষ্কার বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে একটা অধিকারবোধ জন্মাবে এবং এই কারণে জিমে যাওয়ার ঝোঁক আসবে। কারণ জিমে না যাওয়া মানে লোকসান করা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এই সমীক্ষার ফল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে পুরষ্কারের লোভের মাঝেও জয় হল আলস্যের। এবার নিশ্চয় বুঝেছেন আমাদের দেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বে গত কয়েক দশকে কেন ডায়াবেটিস ,কোলেস্টেরল, হার্টের রোগ সহ নানাবিধ লাইফস্টাইল ডিজিজের প্রকোপ বেড়েছে।

সুত্র: আই এ এন এস

Story first published: Tuesday, August 8, 2017, 18:30 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion