নিয়মিত এক গ্লাস করে জিরা ওয়াটার খেতে কেন বলছেন চিকিৎসকেরা?

Subscribe to Boldsky

গোদা বাংলার জলজিরা নামে খ্যাত এই পানীয়টির হয়ে হঠাৎ করে চিকিৎসক মহল এত সাওয়াল করতে শুরু করল কেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যা জানতে পারলাম তাতে চক্ষু চরকগাছ হয়ে যাওয়ার জোগার।

কী এমন জানলেন মশাই যে আপনি জলজিরাকে নিয়ে আস্ত একটা প্রবন্ধ লেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফললেন! আসলে বন্ধু বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন,ভিটামিন, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল এবং নানা সব উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন...

১. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

১. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

রোজের ডায়েটে এই পানীয়টিকে জায়গা করে দিলে ত্বকের অন্দরে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়াম, কপার এবং ম্যাঙ্গানিজের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে স্কিনের ভেতরে উপস্থিত টক্সিক উপদানেরা বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে ত্বকের বয়স তো কমেই, সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প সময় যদি অপূর্ব সুন্দরী হয়ে উঠতে হয়, তাহলে নিয়মিত জিরা ওয়াটার খেতে ভুলবেন না যেন!

২. লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

২. লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত জিরা ওয়াটার খেলে শরীরের অন্দরে ডায়াজেস্টিভ এনাজাইমের উৎপাদন বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরাও শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

৩. রেসপিরেটরি সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৩. রেসপিরেটরি সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

জিরার অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে বুকে মিউকাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে, সেই সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে নানাবিধ রেসপিরেটরি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

বাঙালি মানেই জন্ম খাদ্যরসিক। আর এমনটা হওয়া মানেই বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বল রোজের সঙ্গী। কি তাই তো! এমন অবস্থা যদি আপনারও হয়ে থাকে, তাহলে আজ থেকেই এক গ্লাস জলে পরিমাণ মতো জিরা ভিজিয়ে সেই জল পান করা শুরু করুন, দেখবেন কব্জি ডুবিয়ে খেলেও এবার থেকে আর অম্বল হবে না। আসলে জিরার শরীরে উপস্থিত একাদিক উপাকারি উপাদান একদিকে যেমন হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়, তেমনি অন্যদিকে হজমে সহায়ক এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বদ-হজম হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

জিরায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে দেয়। ফলে খাবার এত সুন্দরভাবে হজম হতে শুরু করে যে ওজন বাড়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। ফাইবার আরেকভাবেও ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে। কিভাবে? ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। আর কম খাবার খাওয়া মানে ওজনও কমে যাওয়া।

৬. শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৬. শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

নিয়মিত জিরা জল পান করলে শরীরে জলের ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে দেহের অন্দরের তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে শরীর শুকিয়ে গিয়ে কোনও ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। শুধু কী তাই, শরীরকে ডিহাইড্রেট করার পাশাপাশি আরও একটা কাজ করে থাকে জিরা, তা হল মশলাটি খাওয়া মাত্র দেহের অন্দরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক হতে শুরু করে। ফলে শরীরে লিকুইড ব্যালেন্স ঠিক থাকে। সেই সঙ্গে শরীর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৭. এনার্জির ঘাটতি দূর হয়:

৭. এনার্জির ঘাটতি দূর হয়:

আজকাল অফিস থেকে ফেরার পর বেশ ক্লান্ত লাগে নাকি? এবার থেকে এমনটা হলে ঝটপট এক গ্লাস জিরা ভেজানো জল খেয়ে নেবেন। দেখবেন শরীর একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এমনটা কেন হবে জানেন? কারণ জিরার অন্দরে থাকা একাদিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এনার্জি এতটা বাড়িয়ে দেয় যে ক্লান্তি দূরে পালায়।

৮. অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়:

৮. অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়:

সরকারি পরিসংখ্যান ঘাঁটলেই জানতে পারবেন আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ অ্যানিমিক। আর এমনটা হওয়ার পিছনে আয়রনের ঘাটতিকেই দায়ি করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তাই তো আমাদের মতো দেশে জিরা খাওয়ার প্রয়োজন আরও বেশি। কারণ যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে জিরায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা রক্তের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আর একবার শরীরে লহিত রক্ত কমিকার মাত্রা বেড়ে গেলে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

৯. ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে পালায়:

৯. ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে পালায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সকাল বেলা খালি পেটে জিরে ভেজানো জল খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। এই কারণেই তো ডায়াবেটিস রোগীদের জিরা ভেজানো জল পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

১০. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

১০. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করে জিরা জল খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স যেমন ঠিক হয়ে যায়, তেমনি পটাশিয়ামের ঘাটতিও দূর হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড প্রেসার কমতে শুরু করে। আসলে পটাশিয়াম, শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে থাকে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা নিয়মিত যদি এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে হার্ট নিয়ে চিন্তা কিন্তু অনেকটাই কমবে।

১১. রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১১. রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

জিরায় উপস্থিত আয়রন শরীরে প্রবেশ করার পর লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতিও দূর করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই সারা বছর যদি চাঙ্গা থাকতে চান, তাহল আদ থেকেই জিরা জল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে।

কীভাবে বানাতে হবে জিরা ওয়াটার?

কীভাবে বানাতে হবে জিরা ওয়াটার?

একটা পাত্রে পরিমাণ মতো জল এবং জিরা নিয়ে জলটা কম করে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর জলটা ছেঁকে নিয়ে তাতে অল্প করে মধু মুশিয়ে ঝটপট খেয়ে ফলতে হবে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন যদি এই পানীয়টি খেতে পারেন, তাহলে শরীর বাবাজিকে নিয়ে যে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Jeera Water- 11 Reasons Why You Must Drink It!

    cumin is rich in anti-inflammatory antioxidants, and is also known to be antibacterial and antiseptic. It can solve a host of your tummy woes, fortify digestive tract, relieve nausea, and bloating and constipation. Starting your day with a glass full of jeera water.
    Story first published: Monday, September 17, 2018, 17:17 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more