গায়ের গন্ধ দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া উপায়গুলি সম্পর্কে জানতে চান নাকি?

Subscribe to Boldsky

আমাদের রাজ্যে যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে, তাতে ঘামের চোটে জীবন জর্জরিত। তার উপর গায়ের গন্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার প্রমাণ কলকাতা শহরের যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি বাসে উঠলেই বুঝতে পারা যায়। বেশ কিছু মানুষের শরীর থেকে এমন বদ গন্ধ বেরয় যে তাদের কাছাকাছি ঘেঁষলে লিটার লিটার বমি করতে মন চায়, আচ্ছা আপনার শরীর থেকেও কি এমন বিতকুটে গন্ধ বেরয় নাকি?

উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে এই প্রবন্ধে চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই লেখায় এমন কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলিকে কাজে লাগালে অল্প দিনেই বদ গন্ধ গায়েব হতে শুরু করে। ফলে পাবলিক প্লেসে সম্মানহানীর আশঙ্কা যায় কমে। প্রসঙ্গত, যে যে ঘরোয়া টোটকাগুলিকে এক্ষেত্রে দারুন কাজে আসে, সেগুলি হল...

১. নারকেল তেল:

১. নারকেল তেল:

শুনতে আজব লাগলেও একথা একেবারে ঠিক যে গায়ের বদ গন্ধ দূর করতে নারকেল তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ নারকেল তেল নিয়ে শরীররে যে যে অংশে বেশি মাত্রায় ঘাম হয়, সেখানে লাগালেই দেখবেন অল্প সময়েই ঘামের গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

২. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

২. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

এতে উপস্থিত অ্যাসিডিক এলিমেন্ট নিমেষে গায়ের গন্ধ সৃষ্টি করা ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে, যে কারণে গায়ের গন্ধের মাত্রা কমতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে এক কাপ জলের সঙ্গে হাফ কাপ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে সারা শরীরে লাগালেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

৩. মৌরি:

৩. মৌরি:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু কার্যকরী উপাদান শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে বিশেষ কিছু গ্যাস্ট্রিক জুসের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার প্রভাবে গায়ের গন্ধের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল এক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে মৌরিকে? পরিমাণ মতো মৌরি নিয়ে তা গুঁড়ো করে নিতে হবে প্রথমে, তারপর তা এক কাপ জলে ফেলে জলটা ফুটিয়ে নিতে হবে। কিছু সময় পরে জলটা ছেঁকে নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণে মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

৪. গ্রিন টি:

৪. গ্রিন টি:

এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ট্য়ানিক অ্যাসিড গায়ের গন্ধ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে উপাদান দুটি শরীরের সংস্পর্শে আসা মাত্র ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে, যে কারণে বদ গন্ধের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো জলে গ্রিন টির পাতা ভিজিয়ে জলটা ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর জলটা ঠান্ডা করে একটি তুলের সাহায্যে তা লাগিয়ে ফেলতে হবে শরীরের সেই সব অংশে, সেখানে ঘাম বেশি হয়, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

প্রসঙ্গত, কী কী ঘরোয়া টোটকাটিকে কাজে লাগালে গায়ের গন্ধ কমবে, তা নয় তো জানলেন। কিন্তু একথা জানেন কি বিশেষ কিছু খাবারের সঙ্গে গায়ের গন্ধের সরাসরি যোগ রয়েছে, তাই তো শরীর থেকে বদ গন্ধ বেরোক, এমনটা যদি না চান, তাহলে এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল। যেমন ধরুন...

১. কার্বোহাইড্রেট বেশি রযেছে এমন খাবার:

১. কার্বোহাইড্রেট বেশি রযেছে এমন খাবার:

শরীরে যাতে কোনও সময় এনার্জির ঘাটতি দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখে কার্বোহাইড্রেট। তাই তো এই উপাদানটির ঘাটতি হলে নানা সমস্যা দেখা দেখা দেয়। প্রথমেই যে ঘটনাটি ঘটে সেটি হল শরীর নিজেকে সচল রাখতে কিটোন বডি নামে এক ধরনের জ্বালানির উৎপাদন করতে শুরু করে। এই কিটোন বডি আবার একটোন নামে এক ধরনের উপাদানের জন্ম দেয়, যা বদ গন্ধের মাত্রা বৃদ্ধি করে। তাই তো গায়ের গন্ধের হাত থাকে বাঁচতে কার্বোহাইডের্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে কখনও ভুলবেন না।

২. শতমূলী:

২. শতমূলী:

এই শাকটি খেলে শুধু গা থেকে নয়, প্রস্রাব থেকেও মারাত্মক গন্ধ বেরয়। আসলে এতে উপস্থিত মার্কেপটন নামে একটি গ্যাস, এই কুকর্মটি করে থাকে। তাই তো বলি বন্ধু বাসে-ট্রামে অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পরতে না চাইলে এই প্রকৃতিক উপাদানটিকে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

৩. পাঁঠার মাংস:

৩. পাঁঠার মাংস:

সুস্বাদু মটন কারি খেতে তো ভাল লাগেই। কিন্তু তার পরে সেই মটন কারি শরীরে ঢুকে কত কিছু যে করে থাকে সে বিষয়ে কি কোনও জ্ঞান আছে? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রেড মিট খাওয়ার পর তার বেশিরভাগ অংশই একেবারে হজম হতে পারে না। ফলে যে অংশটা হজম না হয়ে পরে থাকে, সেটি ঘামের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। আর এমনটা যখন হতে থাকে তখন শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলি আরও অ্যাকটিভ হয়ে যায়। ফলে গায়ের দুর্গন্ধ আরও আমারত্মক আকার নেয়।

৪. ঝাল মশলা দেওয়া খাবার:

৪. ঝাল মশলা দেওয়া খাবার:

সুস্বাদু পদের জন্ম আদা, রসুন এবং পেঁয়াজ ছাড়া সম্ভবই নয়। কিন্তু সমস্যাটা হল খাবারে উপস্থিত এই সব মশলা এবং প্রকৃতিকগুলিতে প্রচুর মাত্রায় সালফার থাকে। আর একথা তো কারও আজানা নেই যে গায়ে বদ গন্ধ সৃষ্টিতে সালফারের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো গরমকালে একটু কম মশলা দেওয়া খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। দেখবেন তাতে ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে।

৫. অ্যালকোহল:

৫. অ্যালকোহল:

দুলতে থাকা বরফের সঙ্গে ঠান্ডা অ্যালকোহল যখন আমাদের গলা দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে, তখনই তা অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে ত্বকের ছিদ্রগুলি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারি ব্যাকটেরিয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই আপনি যদি ঘামের গন্ধের কারণে লজ্জায় ভোগেন, তাহলে এই ধরনের পানীয়ের থেকে দুরত্ব বজায় রাখাটাই ভাল।

৬. মাছ:

৬. মাছ:

শরীর সুস্থ রাখতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কোনও বিরল্প হয় না বললেই চলে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় থাকে মাছে। তাই তো সুস্থ জীবন পেতে মাছ খাওয়াটা জরুরি। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। মাছে কোলিন নামে একটি উপাদানও থাকে, যা গায়ের গন্ধকে বাড়িয়ে দেয়। আসলে অনেকেই মাছ খাওয়ার পর তা ভাল করে হজম করতে পারেন না। ফলে কোলিন নামক উপাদানটি এতটাই সক্রিয় হয়ে যায় যে ঘামের সঙ্গে ট্রিমেথিলেমিন নামে একটি উপাদান বেরতে শুরু করে, যা গন্ধের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

৭. বাঁধাকোপি:

৭. বাঁধাকোপি:

আপনার গায়ে কি খুব গন্ধ হয়? তাহলে ব্রকলি, বাঁধাকোপি, ব্রাসেল স্প্রাউট এবং কর্নফ্লাওয়ার খাওয়া একেবারেই চলবে না। প্রসঙ্গত, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই সবজিগুলি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে দারুন উপকারে লাগে ঠিকই, কিন্তু এতে উপস্থিত সালফার গায়ে মারাত্মক গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই তো যাদের গায়ে খুব বদ গন্ধ হয়, তাদের এই সবজিগুলি খেতে মানা করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    How to Get Rid of Body Odour the Ayurvedic Way!

    Skin odor is an everyday problem faced by everyone. Antiperspirants and deodorants are chemical products that many of us use to combat sweat issues and control body odor. These highly advertised products with pleasant fragrances often come with harmful substances that may block the sweat glands or cause side effects to delicate skin. There are some effective methods in nature’s storehouse for eradicating body odor effectively and without harming the body.
    Story first published: Monday, September 3, 2018, 17:12 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more