দুর্গা পুজো ২০১৮: এবারের অষ্টমীতে সাবুদানার খিচুড়ি না খেলে কিন্তু ভুল করবেন! কেন জানেন?

সাবুদানার খিচুড়ি যদি খান, তাহলে জানবেন শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। কেন জানেন?

দুর্গা পুজো মানেই মটন কষা। সঙ্গে পোলাও-কোরমা তো থাকেই। কিন্তু আরেকটা জিনিস এই সময় বাঙালি খাদ্যরসিকদের প্লেটে জায়গা করে নেয়, তা হল খিচুড়ি। তবে বেশিরভাগই ডালে-চালে মিশিয়ে খিচুড়ি খেতে ভালবাসেন। কিন্তু যদি সাবুদানার খিচুড়ি খান, তাহলে জানবেন শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। কেন জানেন? কারণ সাবুদানায় উপস্থিত প্রোটিন, সেই সঙ্গে থাকা আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এবং আরও নানাবিধ উপকারি মিনারেল নানাভাবে শরীরের কাজে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদেয় পদটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ধরুন...

১. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে:

১. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সাবুদানা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র দেহের অন্দরে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে একদিকে যেমন হার্টের ক্ষমতার উন্নতি ঘেটে, তেমনি অন্যদিকে সারা শরীরে রক্ত চলাচলের মাত্রারও উন্নতি ঘঠে। ফলে শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না।

২. ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:

২. ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:

যারা কম ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন, তারা যদি অল্প সময়েই শরীরের গঠনের উন্নতি ঘটাতে চান, তাহলে সাবুদানার খিচুড়ি খেতে ভুলবেন না যেন! কারণ এর অন্দরে উপস্থিত কার্বোহাইড্রেড, বৈজ্ঞানিক উপায়ে শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে:

৩. শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে:

একবার খেয়াল করে দেখুন তো কী কী পুষ্টিকর উপাদান থাকে সাবুদানায়। আচ্ছা দাঁড়ান দাঁড়ান, আমিই বলে দিই। এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন এবং নানা ধরনের উপকারি খনিজ। এই সবকটি উপাদানই নানাভাবে এনার্জির ঘাটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো এবার থেকে যখনই মনে হবে শরীর আর চলছে না, অল্প করে সাবুদানার কোনও পদ বানিয়ে চটজলদি খেয়ে নেবেন। এমনটা করলে দেখবেন শরীরটা চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় সাগবে না।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

এক্ষেত্রে দুভাবে সাবুদানা নিজের খেল দেখিয়ে থাকে। প্রথমত, হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। আর অন্যদিকে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ফলে নিয়মিত সাবু দানা খেলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে একেবারে সময়ই লাগে না।

৫. পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়:

৫. পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়:

সাবুদানায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা পেশির গঠনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি শরীরের সার্বিক শক্তি বৃদ্ধিতেও সাহায্য় করে। তাই তো যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করে থাকেন, তারা ব্রেকফাস্টে সাবুদানার খিচুড়ি খাওয়া শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে দেখবেন নানাভাবে উপকার পাবেন।

৬. লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বেড়ে যায়:

৬. লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বেড়ে যায়:

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মহিলাই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভুগে থাকেন। এর পিছনে ঠিক মতো খাবার না খাওয়া যেমন একটা কারণ, তেমনি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাকেও দায়ি করা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে সাবুদানার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই খাবারটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরে লহিত রক্তকণিকার অভাব ঘুঁচিয়ে অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. ভাবী মায়েদের জন্য খুবই উপকারি:

৭. ভাবী মায়েদের জন্য খুবই উপকারি:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সাবুদানায় থাকা খনিজ এবং ভিটামিনগুলি ভাবী মায়ের শরীরে প্রবেশ করার পর ফিটাসের যাতে কোনও রকমের ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে প্রসবকালীন কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। তবে গর্ভাবস্থায় একেক জনের শরীরের অবস্থা একেক ধরনের হয়, তাই ডায়েটে কোনও পরিবর্তন আনার আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না।

৮. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

৮. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সাবুদানার অন্দরে থাকা ভিটামিন কে এবং ক্যালসিয়াম শরীরে প্রবেশ করার পর হাড়ের ক্ষয় দূর করে। সেই সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো হাড়ের রোগ যাতে ধারে কাছেও ঘেঁষতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। প্রসঙ্গত, একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ৪০ বছরের পর থেকে নানা কারণে মহিলাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হতে থাকে। ফলে এই সময় হাড় ক্ষয়ে যাওয়া সহ নানাবিধ রোগ ঘারে চেপে বসে। তাই তো ৪০-এর পর থেকে মহিলাদের নিয়ম করে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত, যার মধ্যে থাকতে পারে সাবুদানা দিয়ে বানানো নানা পদও।

৯. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

৯. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

সাবু দানার যে কোনও পদ খাওয়ার পর শরীরের প্রতিটি অংশে রক্তের প্রবাহ মারাত্মক বেড়ে যায়। ফলে ধমনি প্রসারিত হতে থাকে। যে কারণে রক্তচাপ একেবারে স্বাভাবিক লেভেলে চলে আসে। তাই তো পরিবারে যদি এই রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে রোজের ডায়েটে এই খাবারটিকে রাখতে ভুলবেন না যেন!

Story first published: Saturday, October 13, 2018, 14:19 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion