ঠিক করে খাচ্ছেন তো? না হলে কিন্তু...

ভারসাম্য। এই কথাটা আজকের প্রজন্ম, এমনকী আমিও ভুলতে চলেছি। তাই তো আমদের জীবনে কোনও কিছু ঠিক পথে চলতে চায় না। আজ ঠিক তো কাল কোনও ঝড় এসে সব উড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। যেমন খাবার কথাই ধরুন। ঠিক মতো খেতে খেতে হঠাৎ মনে হল আজ থেকে ডায়েট শুরু করতে হবে। কারণ ওজন কমানো মাস্ট! তাই শুরু হল খালি পেটে থাকা। এমন ভাবনার মানুষের সংখ্যা নেহাতেই কম নয়। কিন্তু এমন ভাবে হাঠাৎ করে কম খাওয়া শুরু করা কি শরীরের পক্ষে ভাল?

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে আমাদের দেহকে সচল রাখতে প্রতিদিন বেশ কিছু উপাদানের প্রয়োজন পরে। এই উপাদানগুলি শরীর ঠিক মতো যদি না পায়, তাহলে একাধিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে তো শরীরের এতটাই ক্ষতি হয়ে যায় যে আয়ুও কমতে শুরু করে। তাই ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করছেন কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

এখন নিশ্চয় ভাবছেন ঠিক মতো খাবার না খেলে শরীরের কী কী ক্ষতি হতে পারে, তাই তো? এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি যে গাড়ি যেমন পেট্রল ছাড়া এক পাও এগতে পারে না। তেমনি খাবার ছাড়া শরীরের পক্ষে একদিনও থাকা সম্ভব নয়। কোনও কারণে যদি শরীর তার প্রয়োজনীয় খাবার না পায় তাহলে একাধিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে, যা আমরা সচরাচর খেয়ালই করি না। যেমন...

১. ক্লান্তি:

১. ক্লান্তি:

সারাক্ষণই কি ক্লান্ত লাগে? সেই সঙ্গে হাই ওঠা যেন থামতেই চায় না? তাহলে ডায়েটের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসে গেছে। কারণ শরীরে ক্যালরির ঘাটতি দেখা দিলে সাধারণত এমন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। আর ক্যালরির একমাত্র সোর্সই হল খাবার। প্রসঙ্গত, ওজন কমাতে অনেকেই কম মাত্রায় ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে বেশিরভাগই ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ না নিয়েই নিজের মতো করে "লো ক্যালরি" ডায়েট চার্ট বানিয়ে নেন। ফলে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই শরীরের দৈনিক ক্যালরির চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে প্রথমে ক্লান্তি, তারপর আরও সব শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। তাই ডায়েটিং করার সময় যদি দেখেন সহজেই ক্লান্ত হয়ে পরছেন, তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

২. সারাক্ষণ ক্ষিদে পাওয়া:

২. সারাক্ষণ ক্ষিদে পাওয়া:

কিছু সময় অন্তর অন্তর ক্ষিদে পেলে বুঝবেন আপনার শরীরের যতটা পরিমাণ খাবার পাওয়া উচিত, ততটা সে পাচ্ছে না। সেই কারণেই বারে বারে ক্ষিদে পাচ্ছে। অনেক সময় হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটলেও এমন লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু এমনটা যদি কয়েক মাস ধরে হতে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় সাবধানতা না নিলে কিন্তু বিপদ!

৩. মাত্রারিক্ত হেয়ার ফল:

৩. মাত্রারিক্ত হেয়ার ফল:

শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে তার সরাসরি প্রভাব পরে চুলের উপরেও। কারণ সেক্ষেত্রেও চুলের অন্দরেও পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে ধীরে ধীরে চুলের ঔজ্জ্বল্য কমতে থাকে। সেই সঙ্গে চুল পড়াও বেড়ে যায়।

৪. ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে:

৪. ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে:

কথায় আছে না পেটে ক্ষিদে থাকলে চোখে ঘুম আসে না। কথাটা কিন্তু একেবারে ঠিক। কারণ দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে প্রথমেই কোপ পরে ঘুমের উপর। ফলে একটানা ঘুম হতেই চায় না। সেই সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠার পরেও ক্লান্তি বোধ যেন পিছু ছাড়ে না। এক্ষেত্রে পুনরায় স্বাভাবিক মাত্রায় খাবার খাওয়া শুরু করা ছাড়া আর কোনও চিকিৎসা নেই।

৫. মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে:

৫. মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে:

শরীর এবং মস্তিষ্ক হল একটা মেশিন। জ্বালানি পেলে তবেই ঠিক মতো কাজ করতে পারে। না হলে হাজারো সমস্যা প্রাকাশ পায়। যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব দেখা দিলে ব্রেন এমার্জেন্সি মোডে চলে যায়। ফলে বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণ ঠিক মতো না হওয়ার কারণে মন মেজাজ খুব খিটখিটে হয়ে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কথায় কথায় মেজাজ হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে।

৬. সব সময় ঠান্ডা লাগবে:

৬. সব সময় ঠান্ডা লাগবে:

শরীরে ক্যালরির ঘাটতি দেখা দিলে দেহের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে সব সময়ই ঠান্ডা লাগার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিছু ক্ষেত্রে তো গরমের সময়ও ঠান্ডা লাগার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। এক্ষত্রে নিজের প্লেটের দিকে নজর দিন, তাহলেই দেখবেন সমস্যা কমে যেতে শুরু করবে।

৭. হজম ক্ষমতা কমে যাওয়া:

৭. হজম ক্ষমতা কমে যাওয়া:

আমরা ইচ্ছা হলে কম পরিমাণ খাবার খেতেই পারি। কিন্তু তাই বলে তো হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ কম হবে না। তাই তো ডায়েটিং করার সময় খাবার পরিমাণ কমে যায়, কিন্তু দেহের অন্দরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে এক সময়ে গিয়ে মারাত্মক হজমের সমস্যা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল এবং বদ হজমের মতো অসুবিধাগুলিও প্রকাশ পেতে শুরু করে। এক্ষেত্রে অনেক সময় কনস্টিপশনের মতো রোগও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই সাবধান!

Story first published: Wednesday, June 28, 2017, 10:46 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion