পুজোর সময়কার অত্যাচারের পর শরীরটাকে চাঙ্গা করে তুলতে হবে তো? তাই নিয়মিত খেতেই হবে এই খাবারটি...!

Subscribe to Boldsky

কী খাবারের কথা বলছেন মশাই! আরে তেমন কেউ না বন্ধু। আজকের এই লেখার হিরো হল গুড়। একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু, পুজোর কটা দিন টানা রাত জাগা, সঙ্গে এদিক-সেদিকের খাবার খাওয়ার কারণে পেট, শরীর এবং স্কিনের যা বারোটা বেজেছে, তাতে আগামী সাত দিন গুড় না খেলে কিন্তু বিপদ...!

আসলে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এই খাবারটির অন্দরে উপস্থিত সুক্রস, প্রোটিন, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশ একেবারে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ফলে একাধিক শারীরিক উপকার মেলে। যেমন ধরুন...

১. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

১. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গুড়ের অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপকারি ভিটামিন এবং মিনারেল শরীরে প্রবেশ করা মাত্র দেহের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন করতে শুরু করে যে তার প্রভাবে ত্বকের অন্দরে জমে থাকা অপুষ্টিকর উপাদানেরা সব বেরিয়ে যায়। ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, ব্রণ, বলিরেখা এবং ডার্ক স্পটের মতো হাজারো ত্বকের সমস্যার প্রকোপ কমাতেও গুড়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

২. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

২. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

পুজোর সময় আন্ধাধুন খাওয়া-দাওয়ার কারণে পেটের হাল যে বেহাল, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই তো পুজোর পর পর প্রথমেই পেটের দিকে নজর দেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। তাই তো রোজের ডেয়েটে অল্প করে গুড়ের অন্তর্ভুক্তি মাস্ট! আসলে এটি খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে এমন কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার প্রভাবে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ তো কমেই। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না।

৩. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

৩. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

এই একটা জিনিসের এখন ভীষণ প্রয়োজন। পুজোর আনন্দে চারটে দিন শরীরটার উপর দিয়ে যা যায়, তা তো তখন বোঝা যায় না। পুজো কাটতে না কাটতে ধীরে ধীরে শরীর ভাঙতে শুরু করে। এই সময় পেটের রোগের পাশাপাশি যে সমস্যাটা এই সময় ঘাড়ে চেপে বসে, তা হল দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। আর মজার বিষয় হল এক্ষেত্রেও গুড় দারুন কাজে আসে। মানে! আসলে চিকিৎসকদের মতে প্রতিদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে এক টুকরো গুড় খাওয়া শুরু করলে এনার্জির ঘাটতি তো দূর হয়ই, সেই সঙ্গে শরীরও দারুনভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ফলে ক্লান্তির ভূত দূরে পালাতে সময় লাগে না।

৪. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়:

৪. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়:

গুড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ এবং ফলেট, যা শরীর প্রবেশ করা মাত্র লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। আর একবার লহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি মিটে যাওয়া মানে অ্যানিমিয়ার প্রকোপও কমতে শুরু করে। তাই আপনি যদি এমন কোনও রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে গুড় খাওয়া শুরু করতে পারেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৫. কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমে:

৫. কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমে:

প্রতিদিন সকালেই কী মারাত্মক কষ্টের সম্মুখিন হতে হয়? তাহলে তো মশাই রাতে গুড় খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ গুড় খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে বেশ কিছু উপকারি এনজাইমেপ ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার প্রভাবে বাওয়েল মুভমেন্টের এতটা উন্নতি ঘটে যে কনস্টপেশনের সমস্যা দূরে পালাতে সময় নেয় না। সেই সঙ্গে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও দূর হয়।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

গুড়ে থাকা পটাশিয়াম একদিকে যেমন হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়, তেমনি ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখে এবং পেশির গঠনে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে শরীরে ওয়াটার রিটেনশনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বাড়ার আশঙ্কা কমে।

৭.লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৭.লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

প্রথমটায় শুনে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও একথা একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়ে গেছে যে লিভারকে সুস্থ রাখতে গুড় নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। আসলে গুড় শরীরে প্রবেশ করার পর লিভারে জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে একদিকে যেমন লিভারের কোনও রকমের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে, তেমনি আরও নানা ধরনের রাগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৮. রক্তকে পরিশুদ্ধ করে:

৮. রক্তকে পরিশুদ্ধ করে:

চিকিৎসকদের মতে প্রতিদিন যদি গুড় খাওয়া যায়, তাহলে রক্তে ভেসে বেরানো ক্ষতিকর উপাদানগুলি শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। আর একবার রক্ত তরতাজা হয়ে উঠলে শরীর এমনিতেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

৯. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

৯. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

গুড়ে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম এবং সোডিয়াম, যা শরীরের অন্দরে অ্যাসিড ব্য়ালেন্স ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই পরিবারে যদি হাই ব্লাড প্রেসার রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে নিয়ম করে গুড়ে খাওয়া শুরু করা উচিত কিন্তু!

১০. জ্বরের চিকিৎসায় কাজে আসে:

১০. জ্বরের চিকিৎসায় কাজে আসে:

এবার থেকে জ্বর-সর্দিকাশি হলেই অল্প করে গুড় খেয়ে নেবেন। তাহলেই দেখবেন শরীর একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এমনটা কেন হবে জানেন? আসলে গুড় আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে শুধু জ্বর নয়, সব ধরনের ছোট-বড় রোগেরই প্রকোপ কমে যেতে শুরু করে।

১১. জয়েন্ট পেনের কষ্ট কমে:

১১. জয়েন্ট পেনের কষ্ট কমে:

প্রতিদিন এক গ্লাস দুধে পরিমাণ মতো গুড় মিশিয়ে খেলে কি হতে পারে জানেন? এমনটা করলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় এতটাই শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে যে জেয়েন্ট পেন তো কমেই, সেই সঙ্গে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

১২. শরীরের একাধিক অঙ্গকে তরতাজা করে তোলে:

১২. শরীরের একাধিক অঙ্গকে তরতাজা করে তোলে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত অল্প পরিমাণে গুড় খেলে রেসপিরেটরি ট্রাক্ট, লাং, ইন্টেস্টাইন, স্টামাক এবং ফুড পাইপে জমে থাকা টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। প্রধানত এই কারণেই যারা মারাত্মক দূষিত এলাকায় থাকেন, তাদের নিয়মিত গুড় খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Here are 12 unbeatable health benefits of jaggery

    Jaggery helps in the maintenance of proper functioning of the digestive system. This, in turn, prevents many digestive problems and improves digestion as well.
    Story first published: Monday, October 22, 2018, 15:35 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more