শীতকালে সপ্তাহে ২-৩ দিন মুলোর ঘন্ট বা তরকারি খেতে কেন বলছেন চিকিৎসকেরা?

Subscribe to Boldsky

উত্তরটা খুব সহজ। শীত মানেই জীবাণুদের আড্ডা। আর আমাদের আশেপাশে জীবাণুদের সংখ্যা বাড়বে মানে শরীর খারাপ তো হবেই হবে। আর ঠিক এই কারণেই গরম ভাতের সঙ্গে মুলোর ঘন্ট বা তরকারি থাকা চাইই চাই!

আসলে এই সবজিটিতে উপস্থিত ফলেট, ফাইবার, রাইবোফ্লবেন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ক্যালসিয়াম দেহে প্রবেশ করার পর ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীরকে এতটাই চাঙ্গা করে তোলে যে ক্ষতিকর জাবীণুদের মারে কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। সেই সঙ্গে আরও অনেক শারীরিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন...

১. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

১. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

আমাদের দেশে যে হারে নানাবিধ হার্টের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে প্রত্যেকেরই যে মুলো দিয়ে তৈরি নানা পদ খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আসলে এই সবজিটিতে উপস্থিত "অ্যান্থোসায়ানিন" নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। ফলে কোনও ধরনের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

মুলোয় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো বলি বন্ধু, যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা রোজের ডায়েটে মুলোকে জায়গা করে দিতে ভুলবেন না যেন!

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

একাধিক স্টাডিতে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে নিয়মিত মুলোর রস খাওয়া শুরু করলে শরীরে ভিটামিন সি, জিঙ্ক এবং ফসফরাসের মাত্রা এতটা বৃদ্ধি পায় যে এদের প্রভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি একাধিক ত্বকের রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, মুলোর পেস্ট মুখে লাগালেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়।

৪. ইমিউনিটির উন্নতি ঘটে:

৪. ইমিউনিটির উন্নতি ঘটে:

মুলো এবং তার পাতায় উপস্থিত আয়রন এবং ফসফরাস শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে তলে যে কোনও রোগই ধারে কাছে আসতে পারে না। সেই সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তিও দূরে পালায়।

৫. কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমায়:

৫. কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমায়:

আপনি কি কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে তো মুলোর রস আপনার রোজের সঙ্গী হওয়া উচিত। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু কার্যকরি উপাদান হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি বাইলের প্রবাহ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কনস্টিপেশনের প্রকোপ কমতে শুরু করে।

৬. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়:

৬. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়:

একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত মুলোর পাতা খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে নানাবিধ ভিটামিনের পরিমাণ যেমন বাড়তে থাকে, তেমনি আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতিও দূর হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৭. ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যায়:

৭. ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যায়:

ব্লাডার, কিডনি, প্রস্টেট এবং ডাইজেস্টিভ ট্র্যাকে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদানদের শরীর থেকে বের করে এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা বাড়াতে মুলোর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, শরীরের কোণায় কোণায় জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের ক্ষতি করার আগে তাদের কডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়ার কাজটাও করে থাকে মুলোর রস। প্রসঙ্গত, শরীর যত টক্সিক মুক্ত থাকবে, তত স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বাড়বে। সেই সঙ্গে শরীর এবং মন চাঙ্গা এবং রোগ মুক্ত থাকবে।

৮. শরীরে অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমে:

৮. শরীরে অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমে:

প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকায় প্রতিদিন যদি মুলোর রস খাওয়া যায়, তাহলে দেহের অন্দরে চোট-আঘাতের কারণে হওয়া জ্বালা-যন্ত্রণা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফ্লেমেশন এবং কিডনির প্রদাহও কমে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে কিডনি স্টোনের আশঙ্কা কমাতেও মুলোর রস নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

৯. অ্যাস্থেমার চিকিৎসায় কাজে:

৯. অ্যাস্থেমার চিকিৎসায় কাজে:

শ্বাস কষ্ট, সেই সঙ্গে হাঁচি-কাশিতে একেবারে জর্জরিত হয়ে পরেছেন? ফিকার নট! আজ থেকেই মুলোর রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন কষ্ট কমে যাবে। আসলে মুলোর রস, লাং-এ জমতে থাকা মিউকাসের দেওয়ালকে ভেঙে দেয়। ফলে অল্প দিনেই অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, বমি ভাব, গলার ব্যথা এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যা কমাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি সাহায্য করে।

১০. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে পালায়:

১০. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে পালায়:

বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে শরীরকে এই মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। আর এই কাজে আপনাকে ব্যাপকভাবে সাহায্য় করতে পারে মুলো। কীভাবে? আসলে মুলোর রসে উপস্থিত অ্যান্থোসায়ানিন এবং ভিটামিন সি শরীরের অন্দরে ক্যান্সার সেলেরে জন্ম এবং বৃদ্ধির আটকায়। বিশেষত কোলন, ইন্টেস্টিনাল,স্টমাক এবং কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে এই পানীয়টি দারুনভাবে কাজে আসে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Health Benefits of Mulor Ghonto in Winter

    Radishes are a root crop and are juicy, pungent, or sweet in taste. They can be white, red, purple or black, and in terms of shape, they can be long and cylindrical or round. They are eaten raw, cooked or pickled. The oil obtained from the seeds of radish is used in a number of beneficial health applications.
    Story first published: Tuesday, November 27, 2018, 17:30 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more