সুস্থ থাকতে রোজ সকালে হোক মর্নিং ওয়াক, জানুন প্রাতঃভ্রমণের নয়টি গুণ

হাঁটা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে সকাল বেলা নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করা। ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা থেকে শুরু করে, আথ্র্রাইটিসের সমস্যার উপশম করে, ওবেসিটি বা স্থুলতা দূর করে, পেশী শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং অষ্ঠিওপোরোসিস কিংবা হাড়ের ভঙ্গুরতা প্রতিরোধে করতেও সহায়তা করে।

এছাড়াও সকালে হাঁটার অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতাও বর্তমান। এই জন্য চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রোজ সকালে, বিকেলে হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাহলে জেনে নিন, সকালে হাঁটার উপকারিতা কী -

Health Benefits of Morning Walk

১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে

নিয়মিত সকালে হাঁটা, সর্দি কাশি কিংবা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা দিনে কমপক্ষে ২০ মিনিট এবং সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটেন, তাদের অসুস্থতার হার প্রায় ৪৩ শতাংশ কম থাকে। তাছাড়া অসুস্থ হলেও অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই মৃদু প্রকৃতির হয়।

২) রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়

নিয়মিত সকালে হাঁটলে, এটি হৃদস্পন্দনের হার বাড়িয়ে তোলে এবং রক্তচাপ কমিয়ে দিতেও সহায়তা করে। মর্নিং ওয়াক সময়ের সাথে সাথে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং সামগ্রিক ভাবে সম্পূর্ণ শরীরের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতেও সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে মাত্র ২ মাইল হাঁটলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

৩) জয়েন্ট ভালো রাখে

হাঁটার সময় মূলত পায়ের দুটি জয়ন্টে আন্দোলন এবং কম্প্রেশনে হয়। যার ফলে জয়েন্টে আরো বেশি করে অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ হয়। এটি প্রত্যক্ষভাবে জয়েন্টকে যথাযথ কাজ করতে এবং ভালো বোধ করতে সহায়তা করে। তাছাড়া এটি অস্টিওপোরেসিস এবং আর্থারাইটিসের ঝুঁকি কমাতেও অত্যন্ত সহায়ক।

৪) পেশী শক্তিশালী করে

নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করলে, এটি পা এবং পেটের পেশীগুলিকে টোন এবং শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। শক্তিশালী পেশী মূলত সামগ্রিকভাবে গতি, শক্তি এবং স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক। তাছাড়া হাঁটলে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা জয়েন্ট থেকে পেশীতেও স্থানান্তরিত হয়।

৫) মন পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে

নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করলে, এটি মনকে পরিষ্কার রাখতেও সহায়তা। হাঁটা মূলত মস্তিষ্কের কার্যকারিতা আরো ভালো করতে সহায়ক। তাছাড়া ছোট থেকে বড়, সব বয়সীদের জন্যই হাঁটা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। কথায় বলে হাঁটলে নাকি বুদ্ধি খোলে। এটি গবেষণায়ও প্রমাণিত। তাই অনেকেই ভাবনা চিন্তা করার সময় বা কোন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার সময় হাঁটতে পছন্দ করেন।

৬) মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত সকালবেলা হাঁটলে মেজাজ ভালো থাকে। মন ও শরীর উভয়ই সতেজ হয় এবং মনে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এটি মানসিক চাপচাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি এবং বিষণ্নতার লক্ষণগুলি হ্রাস করতেও অত্যন্ত সহায়ক। তাই মন ভালো রাখতে, সপ্তাহে ৫ দিন মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন।

৭) আলঝাইমারের ঝুঁকি কমায়

গবেষণায় প্রমাণিত যে যারা নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করেন, তাদের আলঝাইমার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। নিয়মিত হাঁটা স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী রাখতেও সহায়তা করে। ৭১ থেকে ৯৩ বছর বয়সী পুরুষদের নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত যারা এক চতুর্থাংশ মাইলের বেশি পথ হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া এবং আলঝাইমার রোগ হওয়ার হার যথেষ্টই কম।

৮) ওজন কমাতে সহায়তা করে

নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করা, ওজন কমানোর একটি সহজ এবং জনপ্রিয় উপায়। মাত্র ৩০ মিনিট টানা হাঁটলেই, প্রায় ১৫০ ক্যালোরি পর্যন্ত পোড়ানো যেতে পারে। ভালো ফল পেতে মর্নিং ওয়াকের পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহন এবং উপযুক্ত শক্তি প্রশিক্ষণ নেওয়ার চেষ্টা করুন।

৯) রাতের ঘুম উন্নত করে

নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করা, রাতে ঘুম উন্নত করতেও অত্যন্ত সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত হাঁটেন এবং হালকা শরীর চর্চা করেন তাদের রাতের ঘুমের মান তুলনামূলক ভাবে ভালো হয়। তাছাড়া এটি অনিদ্রার সমস্যা প্রতিরোধ করতেও অত্যন্ত সহায়ক।

Story first published: Friday, March 18, 2022, 17:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion