দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচতে খেতেই হবে মধু!

Written By:
Subscribe to Boldsky

প্রাকৃতিক কাছাকাছি থাকাটা সব সময়ই এক আলাদা রকমের অনুভূতি। এতে মন তো শান্ত হয়ই, সঙ্গে শরীরও সুস্থতার পথে আরও কিছুটা এগিয়ে যায়। কিন্তু সমস্যাটা হল এই অর্বানাইজেশানের যুগে প্রকৃতির ছায়া মাড়িয়ে শহরমুখি হওয়ার প্রবণতাটা এতটাই বেড়ে গেছে যে শরীর ভাঙতে বসেছে। তাই তো চিকিৎসকেরা সময় থাকতে থাকতে সেই প্রকৃতির মাঝেই ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সমস্যাটা হল সবাই এখন মোটা মাইনের চাকরি এবং শহুরে জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পরেছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামে ফিরে যাওয়া বোধহয় আর সম্ভব নয়। তবু শরীরকে সুস্থ রাখার একটা অন্য উপায় আছে বৈকি। কী সেই উপায়? নিয়মিত প্রকৃতির শরীর থেকে জন্ম নেওয়া ফল এবং অন্যান্য খাবারকে গ্রহণ করা শুরু করুন। দেখবেন শহরে থেকেও শহুরে বিষের ছোঁয়া থেকে বেঁচে যাবে আপনার শরীরে। সাধারণত যে যে প্রকৃতিক উপাদানগুলি নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরের দারুন উপকার হয়, সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল মধু। গত ২৫০০ বছর ধরে সারা বিশ্বজুড়ে নানা রোগের উপশমে ব্যবহার হয়ে আসা এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে রয়েছে একাধিক উপকারি উপাদান, যা নানাভাবে শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে একাদিক রোগকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

নিয়মিত মধু খাওয়া শুরু করলে সাধারণত যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল...

১. ওজন কমায়:

১. ওজন কমায়:

অতিরিক্ত ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন? ফিকার নট! আজ থেকেই মধু খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন এক্ষেত্রে দারুন উপকার পাবেন। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে থাকা বেশ কিছু উপাকারি উপাদান হজম ক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে শরীরে মেদ জমার কোনও সুযোগই পায় না। সেই সঙ্গে বদ-দজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, দ্রুত ওজন কমাতে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জলে পরিমাণ মতো লেবু এবং মধু মিশিয়ে খেতে হবে। কয়েক মাস এই পানীয়টি খেলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

২. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

২. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

প্রতি চামচ মধুতে কম-বেশি ৬৪ ক্যালরি থাকে। এই পরিমাণ ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। এই কারণেই তো অ্যাথেলিটরা নিয়মিত মধু খেয়ে থাকেন।

৩. ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর করে:

৩. ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর করে:

মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন। এই সবকটি উপাদানই নানাভাবে একাধিক রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ধরুন ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে ছোট-বড় কোনও রোগই শরীরের ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। আর আয়রন দেহে রক্তার যোগান ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৪. অ্যান্টিক্সিডেন্টের যোগান ঠিক রাখে:

৪. অ্যান্টিক্সিডেন্টের যোগান ঠিক রাখে:

ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যেরর উন্নতিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। তাই তো শরীরে যাতে এই উপাদানটির কোনও সময় ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, মধু হল এমন একটি খাবার যাতে এই উপাদানটি একেবারে ঠেসে ঠেসে রয়েছে। তাই শরীরকে মারণ রোগের হাত থেকে বাঁচাতে মধুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেওয়াটা মাস্ট!

কিন্তু প্রশ্ন হল এখন বাজার যেসব মধু পাওয়া যায় সেগুলি আদৌ আসল কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে আজকাল বাজার চলতি বেশিরভাগ মধুই নকল। তাই তো মধু কেনার আগে বুঝে নেওয়াটা জরুরি যে সেটি আদৌ স্বাস্থ্যকর কিনা। এখন প্রশ্ন হল মধুর সত্যতা যাচাই করার কোনও সহজ উপায়া আছে কি? অবশ্যই আছে! কতগুলি ঘরোয়া পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে মধুর গুণাগুণ বুঝে নেওয়াটা কিন্তু সম্ভব। এক্ষেত্রে সাধারণত যে যে পদ্ধতিগুলির সাহায্য় নেওয়া যেতে পারে। সেগুলি হল...

১. দা থাম্ব টেস্ট:

১. দা থাম্ব টেস্ট:

মধু কেনার আগে তা অল্প করে বুড়ো আঙুলের উপর দিয়ে দেখুন তো কী হয়। যদি দেখেন মধুটা জলের মতো গড়িয়ে পরে যাচ্ছে, তাহলে বুঝবেন সেটা একেবারে নকল মধু। কারণ আসল মধু কখনই জলের মতো গড়িয়ে পরে যায় না। বরং হাতে লেগে থাকে।

২. ওয়াটার টেস্ট:

২. ওয়াটার টেস্ট:

এক গ্লাস জলে পরিমাণ মতো মধু নিয়ে মিশিয়ে দিন। কিছু সময় পরে যদি দেখেন মধুটা জলে একেবারে মিশে গেছে, তাহলে বুঝবেন মধুটা ভেজাল। কারণ আসল মধু জলে একেবারে মিশে যায় না। পরিবর্তে গ্লাসের নিচে দলা পাকিয়ে জমতে শুরু করে।

৩. ফ্লেম টেস্ট:

৩. ফ্লেম টেস্ট:

ছোট একটা বাটিতে অল্প করে একটু মধু নিয়ে রাখুন। তারপর তাতে একটা জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ফেলে দিন। যদি দেখেন মধিতে আগুন লেগে গেছে তাহলে বুঝবেন মধুটা একেবারে আসল। কারণ একামাত্র আসল মধুতেই আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে, নকলে নয়!

৪. ভিনিগার টেস্ট:

৪. ভিনিগার টেস্ট:

এক চামচ মধু, পরিমাণ মতো জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। তারপর তাতে ২-৩ ড্রপ ভিনিগার মিশিয়ে দিন। কিছু সময় পরে যদি দেখেন মিশ্রনটি ফেনায় ভরে গেছে। তাহলে বুঝবেন মধুটা একেবারে ভেজাল।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
It contains a variety of vitamins and minerals. The type of vitamins and minerals and their quantity depends on the type of flowers used for apiculture. Commonly, honey contains vitamin C, calcium, and iron. If you check the vitamin and mineral content in regular sugar from any other source, you will find it completely insignificant.
Story first published: Monday, November 6, 2017, 10:49 [IST]
Please Wait while comments are loading...