রোগ ভাগান গান দিয়ে!

Written By:
Subscribe to Boldsky

ক্লাসিকাল চলতে পারে। রিমিক্স হলেও ক্ষতি নেই! ধরণ যাই হোক, গান শুনলেই কেল্লাফতে!

গবেষণা বলছে, গান শোনার অভ্যাস থাকলে শুধু মন ভাল হয় না, সেই সঙ্গে একাধিক রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। আর ভাববেন না একথা এই ২১ শতকে এসে খেয়াল পরেছে বিজ্ঞানীদের। বিষয়টা জানা ছিল সেই ডারউইনের সময় থেকেই। শুধু প্রামাণ্য নথি ছিল না, এইটুকুই যা!

বলেন কী, গান যে শরীর ভাল করে, সে বিষয়ে ডারউইন মশাইও জানতেন! তবে! এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে চার্লস ডারউইন একবার বলেছিলেন, "যদি আবার একবার জীবন ফিরে পাই, তাহলে দুটি কাজ অবশ্যই করবো। একতো মনপসন্দ কবিতা পড়বো, আর দুই, গান শুনতে ভুলবো না।" একই মত ছিল আইনস্টাইনেরও। তিনিও বিবর্তনবাদের জনকের কথার রেশ ধরে বলেছিলেন, "আমি যদি গবেষক না হতাম, তাহলে অবশ্যই মিউজিশিয়ান হতাম।" এবার বুঝলেন তো গানকে হলকা চালে নিলেও আমাদের শরীরের উপর এর প্রভাবকে কিন্তু কোনও অংশেই অবজ্ঞা করা সম্ভব নয়।

এতদূর পড়ার পর নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে গান শোনার সঙ্গে শরীরের ভাল-মন্দের কি সম্পর্ক, তাই তো? তাহলে আর অপেক্ষা কেন, কানে হেডফোনটা গুঁজে, পছন্দের গান শুনতে শুনতে জেনে নিন না গানের গুণাবলি সম্পর্কে।

১. ক্রিয়েটিভিটি মারাত্মক বেড়ে যায়:

১. ক্রিয়েটিভিটি মারাত্মক বেড়ে যায়:

আপনি কি লেখালেখি, ছবি আঁকা বা ঐ জাতীয় কোনও ক্রয়েটিভ কাজের সঙ্গে যুক্ত? তাহলে তো রোজ কম করে এক ঘন্টা গান শুনতেই হবে। কারণ গত বুধবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গেছে গান শুনলে মস্তিষ্কের বিশেষ একটি অংশ এতটাই অ্যাকটিভ হযে যায় যে ক্রিয়েটিভিটি বা অন্যরকম ভাবে ভাবার ক্ষমতা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়।

২. দিল খুশ হয়ে যায়:

২. দিল খুশ হয়ে যায়:

কাজের চাপে এখন তো আমাদের সবারই জীবন প্রায় প্রেসার কুকারের মতো হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিপ্রেশন এবং স্ট্রেসের হাত থেকে রক্ষা পেতে গান মহৌষধি হয়ে উঠতে পারে কিন্তু! কীভাবে? একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে গান শুনলে মস্তিষ্কের অন্দরে ডোপামাইন নামে একটি "ফিল গুড" হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবেই মন অনন্দে ভরে যায়। তাই এবার থেকে যখনই মনে হবে মানসিক চাপ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনই ১৫ মিনিট সময় বার করে পছন্দের কোনও গান শুনে নেবেন। দেখবেন নিমেষে মানসিক চাপের কালো মেঘ কেটে যাবে।

৩. সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি হয়:

৩. সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি হয়:

একটা কথা খুব শোনা যায়, মিউজিকের মধ্যে নাকি হিলিং পাওয়ার আছে। কথাটি কি সত্যিই? একেবারেই! বৈজ্ঞানিক গবেষণা তো তাই বলছে। গবেষকরা লক্ষ করেছেন, গান শোনার সময় স্ট্রেস হরমোন নামে পরিচিত, কর্টিজলের ক্ষরণ কমে যায়। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। ফলে সুস্থজীবনের পথ প্রশস্ত হয়। দাঁড়ান দাঁড়ান যাচ্ছেন কোথায়! আরও কিছু বলার আছে! বেশ কিছু গবেষণাতে এও দেখা গেছে যে গান শোনার অভ্যাস থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়তে শুরু করে। ফলে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪. অনিদ্রা দূর হয়:

৪. অনিদ্রা দূর হয়:

বিখ্যাত জার্মান কবি বার্থহোল্ড অর্বেক এই বিষয়ে একবার বলেছিলেন, "সারা দিন ধরে যত ময়লা আমাদের আত্মার উপর জমতে থাকে, গান সেই ময়লা সব ধুয়ে দেয়।" কী বুঝলেন! গান হল সেই ওষুধ, যা কানের মধ্যে দিয়ে শরীরের অন্দরে প্রবেশ করা মাত্র ঘুম এসে যায়। তাই তো রাতের বেলা ঘুম আসতে না চাইলে ৩০-৪৫ মিনিট হালকা বিটের যে কোনও গান একটু শুনে নেবেন। দেখবেন অনিদ্রা লেজ তুলে পালাবে।

৫. ডিপ্রেশনের প্রকোপ কমায়:

৫. ডিপ্রেশনের প্রকোপ কমায়:

পরিসংখ্যান বলছে সারা বিশ্বে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ান মানুষ মানসিক অবসাদে ভুগছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বাস আমাদের দেশে। এমন পরিস্থিতিতে গানের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। কারণ একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে ডিপ্রেশনের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি এই সম্পর্কিত নানাবিধ লক্ষণ কমাতেও গান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

৬. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

নিশ্চয় ভাবছেন গানের সঙ্গে ওজন কমার কী সম্পর্ক, তাই তো? জর্জিয়া টেক ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক প্রমাণ করেছেন গান শোনার সঙ্গে ওজন কমার সরাসরি যোগ রয়েছে। আসলে গান শোনার সময় কোনও কারণে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই এবার থেকে যখনই মনে হবে মধ্যপ্রদেশটা একটু বেড়েছে, তখনই হাল্কা আলোতে গান শুনতে শুনতে খাবার খাওয়া শুরু করবেন, দেখবেন উপকার মিলবে।

৭. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

৭. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

২০০৩ সালে নিউ ইংল্যান্ড বুকসেলার পুরষ্কার পাওয়া বিখ্যাত আমেরিকান লেখিকা জোডি পিকোল্টের মতে মিউজিক হল স্মৃতিশক্তির নিজস্ব ভাষা। মানে! গোদা বংলায় কতাটার মানে হল গান শোনার সঙ্গে স্মৃতিশক্তির নিবিড় যোগ রয়েছে। তাই তো জোডি এমনটা বলেছিলেন। আসলে গান শোনার সময় মস্তিষ্ক এত দ্রুত কাজ করতে শুরু করে দেয় যে স্মৃতিশক্তি বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে কোনও কিছু শেখার ক্ষমতাও বাড়ে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: রোগ শরীর
    English summary

    ক্লাসিকাল চলতে পারে। রিমিক্স হলেও ক্ষতি নেই! ধরণ যাই হোক, গান শুনলেই কেল্লাফতে!

    Are you facing a creativity crisis? Well, listening to happy music may help.A study published Wednesday by the non-profit PLOS underlines that the effect of music on creative cognition has largely remained unexplored. Following a series of experiments, Simone M. Ritter of Radboud University and Sam Ferguson of the University of Technology in Sydney, Australia, found that different types of music had different effects on the brain. A total of 155 people took part in the study and the researchers also found that happy music gave a boost to divergent thinking.
    Story first published: Saturday, September 9, 2017, 14:55 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more