PCOS-এর সমস্যা? আজই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন এই খাবারগুলো!

আজকাল পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা PCOS হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রোগটি মূলত অ্যান্ড্রোজেন বা টেস্টোস্টেরনের মতো পুরুষ হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদন এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়ে থাকে। এখন বেশিরভাগ মহিলাদের মধ্যেই এই সমস্যা লক্ষ্য করা যায়।

Foods to Eat and Avoid When You Have PCOS

PCOS-এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ, অনিয়মিত পিরিয়ড, চুল পড়া, মুড সুইং-এর মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। PCOS-এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্যালেন্স ডায়েট। তাহলে দেখে নেওয়া যাক, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে কী খাওয়া উচিত এবং কী নয়।

যেসব খাবার খাবেন

১) সবুজ শাকসবজি

১) সবুজ শাকসবজি

আপনার খাদ্যতালিকায় বেশি করে সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। সবুজ শাকসবজি ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায়, PCOS এর জন্য অত্যন্ত উপকারি। এছাড়াও, সবুজ শাকসবজিতে পুষ্টিগুণ ভরপুর থাকে এবং ক্যালরিতেও কম, তাই ওজন হ্রাস ও পুষ্টির জন্য আদর্শ। সবুজ শাকসবজি, যেমন - কালে, পালং শাক, প্রভৃতি ভিটামিন বি এর দুর্দান্ত উৎস।

২) লিন প্রোটিন

২) লিন প্রোটিন

লিন প্রোটিন হরমোনের ভারসাম্যতা রক্ষা করতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। লিন প্রোটিন হিসেবে চিকেন, টার্কি, টফু, স্যালমন, চিংড়ি, টুনা, বিনস, প্রভৃতি খাদ্য আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

৩) হেলদি ফ্যাট

৩) হেলদি ফ্যাট

সব ফ্যাট কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়। এমন অনেক হেলদি ফ্যাট আছে, যেগুলি আপনি আপনার ডায়েটে রাখতে পারেন, যেমন - অ্যাভোকাডো, অয়েলি ফিশ, প্রভৃতি। হেলদি ফ্যাট এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস। বাদাম এবং বীজ হেলদি ফ্যাট ও প্রোটিনের দুর্দান্ত উৎস।

৪) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য

৪) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, ওটস, গম, আমন্ড, আখরোট, কালে, পালং শাকের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। PCOS-এর ফলে হওয়া প্রদাহকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

৫) ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য

৫) ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য

PCOS এর ক্ষেত্রে ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত উপকারি। ওটস, ব্রাউন রাইস, ব্ল্যাক বিনস, মসুর ডাল, সানফ্লাওয়ার সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, চিয়া সিড, প্রভৃতি ফাইবারের দুর্দান্ত উৎস। ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য, শরীরের ইনসুলিন মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যেসব খাদ্য এড়িয়ে চলবেন

১) চিনি এবং উচ্চ শর্করা জাতীয় খাদ্য

১) চিনি এবং উচ্চ শর্করা জাতীয় খাদ্য

PCOS এর রোগীদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে। শরীরে ইনসুলিন এবং গ্লাইসেমিক লেভেল বেশি থাকে, তাই উচ্চ শর্করা জাতীয় যেকোনও খাদ্য ডায়েট থেকে দূরে রাখুন। চিনি, মিষ্টি, জুস, ক্যান্ডি, প্রভৃতি খাদ্য এড়িয়ে চলুন।

২) রেড মিট

২) রেড মিট

PCOS এর রোগীদের ক্ষেত্রে রেড মিট অতন্ত ক্ষতিকর। খাসির মাংস, গরু কিংবা শুয়োরের মাংসে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট, কোলেস্টেরল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এমনকি ওজন বৃদ্ধি এবং হরমোনাল ব্যালান্স নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৩) জাঙ্ক ফুড এবং ভাজা খাবার

৩) জাঙ্ক ফুড এবং ভাজা খাবার

আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি, জাঙ্ক ফুড এবং অত্যাধিক ভাজা খাবার খাওয়া, স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের খাবারগুলিতে উচ্চ মাত্রায় নুন, অস্বাস্থ্যকর মশলা, ট্রান্স ফ্যাট, কৃত্রিম মিষ্টি প্রভৃতি যুক্ত থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি করতে পারে এবং ব্লাড প্রেসারকে প্রভাবিত করে। জাঙ্ক, ফ্রায়েড ফুড গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

৪) দুগ্ধজাত খাদ্য

৪) দুগ্ধজাত খাদ্য

অতিরিক্ত পরিমাণে দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ শরীরে ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল এবং ইনসুলিনের মাত্রা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দুগ্ধজাত খাদ্য সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন।

Disclaimer: আর্টিকেলে বর্ণিত টিপস বা পরামর্শগুলি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া। তাই কোনও কিছু করার আগে অবশ্যই পেশাদার কোনও চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

X
Desktop Bottom Promotion